কুয়াকাটা যাব যাব করছিলাম। শেষ পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রীদের পক্ষ দাওয়াত পেলাম কুয়াকাটা যাওয়ার। ছাত্র ছাত্রীরা পিকনিকে যাচ্ছে তাই তাদের সাথে যেতে হবে অভিভাবক হয়ে। আমি আর মাসুদ স্যার দুই জনেই নতুন । এই দুইজন ছাড়া অন্য সিনিয়রা যেতে রাজি হল না। কিন্তুু যাদের গায়ে এখনও স্টুডেন্ট গন্ধ, তারা যাবে ছাত্রছাত্রীদের দায়িত্ব নিয়ে । এটা কেমন কথা। স্টুডেন্টদের সাফ জানিয়ে দিলাম সিনিয়র কেউ না গেলে আমরা যাচ্ছি না। শেষ মেষ তারা মনির স্যারকে জোগাড় করলো। রাতের জার্নি তাই সন্ধ্যা বেলায় একটু ঘুমিয়ে নিলাম। রাতের বারটায় উঠলাম আমরা গাড়িতে। পঞ্চাশ জন স্টুডেন্ট আর টিচারসহ উনষাট জনের একটি দল চলতে থাকল কুয়াকাটার দিকে।
এমনিতেই নতুন তাই ছাত্র ছাত্রীদের চিনি না বললেই চলে।অনেকে এই প্রথম দেখছি। বুঝতেই পারছেন অবস্থা, শুধু আহ্বায়ক মেহেদীকে সহ কয়েকজনকে চিনি।
রাত্রে একটায় আমাদের বাস চলছে দুর্দান্ত গতিতে । বাস গিয়ে থামল
ফেরিতে উঠার জন্য। বাস থেকে অনেকের সাথে মেয়েরাও নেমে গেল । রাত্র দেড়টায় মেযেদের বাইরে থাকা বিশেষ করে আমাদের দেশে নিরাপদ না। পিকনিকের আহ্বায়ক মেহেদী এসে বলল, স্যার মেয়েরা তো অনেকেই নেমে গেছে বাস থেকে । এখন যদি বাইরের কেউ বাজে মন্তব্য করে তাহলে কিন্তু আমরা ছেড়ে দিব না। সামনে আরো দুইটি ফেরি পাড় হতে হবে, তাই মেয়েদের গাড়ি থেকে না নামতে বলে দিন।
এ ব্যাপরাটি আমি মনির স্যারকে বুঝিয়ে বললাম । তিনি কোন ভাবেই রাজি হলেন না এ বিষয়ে কথা বলতে, নারী স্বাধীনতা বলে কথা!!
শেষ পর্যন্ত আমি কথা বলার সিদ্ধান্ত নিলাম, যাই হোক পিকনিকটা তো ঠিক ভাবে শেষ করতে হবে । এখানে সব মেয়ের সাথেই আমার পরিচয় নাই। অন্য কেউ হলে হয়ত ধমক দিয়ে বলত, এই মেয়েরা গাড়ি থেকে নামবা না।
কিন্তু আমি বললাম অন্যভাবে--
দেখ বাংলাদেশে যেমন ভালো মানুষও আছে ঠিক তেমনি খারাপ মানুষও আছে। বিশেষ করে রাত্রি বেলার জার্নি মেয়েদের জন্য নিরাপদ না। তাই তোমাদের কারোও যদি একান্ত প্রয়োজন হয় তাহলে একা একা না নেমে কয়েক জন মিলে নামলে ভাল হয়। আর আমি নিশ্চয়ই চাইব না, আমার বোনকে কেউ খারাপ বলুক।
ব্যাস হয়ে গেল কাজ, আর কোন মেয়েই নামেনি বাস থেকে। আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া আমরা পৌছে গেলাম রাত্র সাড়ে চারটায় কুয়াকাটা।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১০:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


