স্বল্পায়তনে ্তুআমরা ক্থজনে্থর পরিচয়টা দেয়া যাক। অতিসমপ্রতি অথবা অবিস্মৃত অতীতে ঢাকা ইউনির ক্যাম্পাস থেকে আনুষ্ঠানিক এক্সিটের আগে আমরা প্রায় ৬/৭ বছর ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের করিডোরে যৌথ কোরাসে বেশ ক্থজোড়া জুতা-সেন্ডেল আর অনেক অনেক জোড়া সময় য় করেছি। চতুর্থ বর্ষের শেষাশেষি আমাদের পথ খানিক জুদা হয়। আমরা একটা মাইনর গ্রুপ কুট ভনেগার্ট, মিলান কুন্ডেরা আর জেমস জয়েস বগলে তখন মনজু ভাই আর ফকা ভাইয়ের রুমের পথে। অন্যেরা লিঙ্গুইস্টদের জনসভায় বসে ভাষাবিজ্ঞানী হওয়ার কলাকুশল শিখতে ব্যস্ত। এদের মধ্যে মাহমুদের মতো কতক ভাগ্যবান অথবা ভাগ্যবিড়ম্বিত পৃথিবীর নির্দয় জঞ্জালের প্যাঁচে পড়ে একসারি পিছিয়ে পড়েও কেমন যেনো এগিয়ে থাকে।
একসময় টের পাই ক্যাম্পাস ছিটকে পড়া অতি বা অর্ধপরিচিত মুখগুলো নগরীর বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনি ক্যাম্পাসগুলোতে নিরবে বন্টন হয়ে গেছে। যারা বিসিএসের ঘানি টানার তকলিফটুকু ঠিকমতো সহ্য করেছিল তাদের কারো কারো বিকেলের তীর্যক আলোআঁধারিতে সেন্টমার্টিনের শীতল স্বচ্ছ জলের মগ্ন গহীনে পা ডুবিয়ে বসার সুযোগও হয়ে যায়। অনেক অনেক দিন পর হঠাৎ কারো এনকাউন্টারে পড়লে টের পাই রাজধানী ছেড়ে যাওয়া স্বপ্নাতুর চেহারাগুলো নির্দোষ আলস্যে কেমন মুটিয়ে যাচ্ছে যেন। অতিপরিচিত সাংসারিক আটপৌড়ে কল্পনায় অতীতের চমকানো চেহারার জৌলুস নিখুঁতভাবে ঢেকে গেছে। কখনও ভাবিনি অসম্ভব উজ্জীবিত এক-একটা জেনারেশানের মৃত্যু কেমন মন্থর- নিরব তা এমন এক লহমায় দেখে ফেলবো।
যা হোক, আঁচড়ে পিচড়ে মাহমুদদের পাঁচতলাটায় চড়ে বুঝতে পারলাম কিছুটা লেট করার পরেও আমি হলাম তৃতীয়। প্রথমজন স্বভাবতই হোস্ট মাহমুদ আর দ্বিতীয় বুশরা। কে, কোথায়, কেমন, কেন এইসব অতি-কৈশোরী গ্রামারে শেখা অত্যাবশ্যকীয় ডব্লিউ-এইচ কোয়েশ্চেনগুলো নাড়াচাড়া করতে করতেই আমাদের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে। মাহমুদের মোবাইলে কিছু ্তুসরি্থ ভেসে আসতে থাকলে জটলাটা বড় হওয়ার সম্ভাবনা এক সময় ক্ষীণ হয়ে আসে। আতিয়া আপা আর সাবরিনা আসার পর আরো খানিক অতীত-বর্তমান রোমন্থন হয়। সবারই সুখ দুঃখ ওভারল্যাপ করে অন্যদের খানিক ভিজিয়ে দিলে আমরা অগত্যা তপ্ত মধ্যাহ্ন অগ্রাহ্য করে খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ি।
মাহমুদের হিসেব নিকেষের কিঞ্চিৎ গোলমালের সুযোগে শ্রাবণের এই শেষপাদে এসেও ্তুবৈশাখী্থর দুয়ারে আমাদের যৌথ পা পড়ে। ডাইনিং ঘিরে দ্বিতীয় দফা সংলাপে লম্বা মেন্যু থাকে। কাটা-চামচ, টাকিমাছ ভর্তা, চিলি-বিফ, মসলা খিচুরি, শ্রীকান্তের গান, শীতল পানিয়ের উষ্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহ, গেস্ট-হোস্ট-স্বল্পাহারী স্টেজ পেরিয়ে গালগল্পের ডালপালাগুলো তখন সুদূর মাইজদিতে। মাহমুদের অচেতন পান্তা প্রয়াস শেষ হতে হতে আমরা শীতল বৈশাখী ছেড়ে উষ্ণ শ্রাবণ-দুপুরে পা বাড়ায় আবার। অসৎ জুতাঅলার কল্যাণে খানিক অনাকাক্সিত বিড়ম্বনা আতিয়া আপাকে চা-কফি-আইসক্রিম থেকে বঞ্চিত করে দূরে নিয়ে যায়। য়িষ্ণু জনসংখ্যা নিয়ে আইসক্রিমের খোঁজে এক দোতলা ছেড়ে আরেক একতলার ছোট্ট টেবিল ঘিরে বসি অবশিষ্ট চারজন। কফি আর আইসক্রিমের সঙ্গী হয় যথারীতি কতক কাটা-ছেঁড়া কথাবার্তা। রেস্তোঁরার স্বল্পায়ু জীবনকাল শেষ হলে ঘরে ফেরার সময় হয় সবার। পৃথিবীতে সবাই পরম-চরম একাকি- এই মহার্ঘ সত্যটা স্মরণ করিয়ে দিতে জনাকীর্ণ মোড়টাতে দাঁড়িয়ে একে অন্যকে গুড-বাই জানাই আমরা।
ক্থজনার কটা পথ অদ্ভুতভাবে চৌদিকে বেঁকে যায় আবার। কেন যে রোদ্র-দুপুরে এক হওয়া, কেনই বা মহাকালে ডুবে যাওয়া আবার, ভাবতে ভাবতে অবনত আমি মাহমুদের ডেরার এককোনায় গিয়ে একাকি বসে থাকি। কাঁচের দেয়াল ভেদ করে আসা শহুরে জঞ্জালের কান্না, এসির ঠান্ডা বিজবিজানি, আসুস স্পিকার চুইয়ে নামা জুবায়েরের গান- সবকিছু ছাপিয়ে ঘড়ির অসম্ভব রিদমিক একঘেয়ে শব্দটাই আমার কানে প্রকট হয়ে ওঠে। টিক, টিক, টিক, টিক, টিক...
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৩:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



