যুগ-সূর্য মাস্টারদা সূর্য সেন মাতৃভূমির মুক্তির স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। মৃত্যুপাগল করে তুলেছিলেন যুব ও ছাত্রসমাজকে, শুধু চট্টগ্রামে নয় সমগ্র বাংলায়। স্বাধীনতা কী করে অর্জন করতে হয় ও দেশকে কিভাবে শত্রু মুক্ত করতে হয় তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের মাষ্টারদা।

এটি মাস্টারদার একমাত্র পূর্নাঙ্গ মূ্র্তি, এইটা কলকাতা হাইকোর্টের সামনে নির্মিত!
আজ ১২ জানুয়ারি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী নেতা মাস্টারদা সূর্য সেনের ৮১তম ফাঁসি দিবস!
নামঃ সূর্য কুমার সেন ডাকনাম কালু, যিনি মাস্টারদা নামে সবার পরিচিত। সূর্য সেন ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রাম রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ায গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম রাজমনি সেন এবং মাতার নাম শশী বালা সেন। রাজমনি সেনের দুই ছেলে আর চার মেয়ে। সূর্য সেন তাঁদের পরিবারের চতুর্থ সন্তান। দুই ছেলের নাম সূর্য ও কমল। চার মেয়ের নাম বরদাসুন্দরী, সাবিত্রী, ভানুমতী ও প্রমিলা। শৈশবে পিতা মাতাকে হারানো সূর্য সেন কাকা গৌরমনি সেনের কাছে মানুষ হয়েছেন। সূর্য সেন ছেলেবেলা থেকেই খুব মনোযোগী ভাল ছাত্র ছিলেন এবং ধর্মভাবাপন্ন গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন।
বিচারের নামে এক মিথ্যে প্রহসনের মাধ্যমে ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি মধ্যরাতে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। একই সাথে তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগী তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসিও কার্যকর হয়।
দেশমাতৃকাকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে মুক্ত করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবতীর্ণ হন তিনি। শেষ পর্যন্ত ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ বিসর্জন দেন এই বিপ্লবী।
অন্যায়, নিষ্পেষণ আর ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সূর্য সেনের আদর্শ এখনো আমাদের প্রেরণা যোগায়। বিপ্লবীরা জানতেন তাদের বিদ্রোহ ব্যর্থ হতে পারে। কিন্তু কেবল সফল হওয়াই সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড নয়। এক পর্যায়ে তাঁরা পরাভূত হবেন। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও তাঁরা কাজগুলো করেছেন, বাংলা তথা ভারতবাসীর মনে বিশ্বাস জন্মাতে পেরেছেন, ব্রিটিশদের সামরিকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব এবং তাদের অতটা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আর এ ক্ষেত্রে তাঁরা বাজি রেখেছিলেন। অতুলনীয় সাংগঠনিক শক্তি, অকৃত্রিম দেশপ্রেম, বিস্ময়কর কর্মক্ষমতা, নিখুঁত পরিকল্পনা, অপরিমেয় শক্তি ও সাহস নিয়ে মাস্টারদা ব্রিটিশ বেনিয়া শক্তিকে বুঝিয়ে দিতে পেরেছিলেন যে ‘বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি’ তাঁর সমস্ত জীবন উৎসর্গ করেছিলেন জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে।
সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের লাশ তাদের আত্মীয়-স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি এবং ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী পোড়ানোও হয়নি। ফাঁসির পর লাশ দুটা জেলখানা থেকে ট্রাকে করে তৎকালীন ৪ নম্বর স্টিমার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর মৃতদেহের বুকে লোহার টুকরা বেঁধে বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগর সংলগ্ন কোনো স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। সেদিন প্রাণহীন সূর্যসেনও ব্রিটিশরাজের কাছে মূর্তিমান আতংক!
মাস্টারদা এর বীরত্বের পথ বেয়ে আমরা আজ পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত। আমাদের স্বাধীন দেশে লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে আমরা নিজেদের আত্মপরিচয় বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পেরেছি মাস্টার`দা এর আত্মদানের পথ বেয়ে!
ব্রিটিশ সূর্য অস্ত গেছে, সেন সূর্য বেঁচে আছে!
মাস্টারদা সূর্য সেনের আজ ৮১ তম ফাঁসি দিবসে আমি/আমরা সামু পরিবার তাকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা ও স্মরণ করছি!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


