আমার অফিসের নিচে প্রমান সাইজের একটা কুকুর আছে যাকে আমি সহ অনেকেই টাইগার বলে ডাকি। কখনও অফিসের নিচে চা খেতে নামলে, যদি তার খিদে পায়, তাহলে পরিচিত কাউকে দেখা মাত্রই সে সামনে এসে সমানে লেজ নাড়তে থাকে। কিন্তু একে যদি আপনি খাবার ছুড়ে দেন, তাহলে সে খাবেনা। পরিষ্কার জায়গায় সুন্দর করে দিলে, সে খাবে।
একদিন সকালে নিচে চায়ের দোকানে চা খাচ্ছি। দেখলাম, এক শুকনা পাতলা মেয়ে এসে চা আর সিগারেট ধরালো। হঠাৎ টাইগার শালারে দেখলাম, আমারে বাদ দিয়া ঐ মেয়ের পাশে গিয়ে লেজ নাড়ছে আর কেমন যেন একটা শব্দ করে মেয়েটার দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছে। প্রায় ১০ মিনিট ট্রাই করার পরও মেয়েটার দৃষ্টি আকর্ষন করতে না পেরে টাইগার কিছুটা অধৈর্য। মেয়েটা সিগারেট টেনে যাচ্ছে আর একটু পর পর আয়েশ করে চায়ে চুমুক দিচ্ছে।
আমি একটা বিস্কিটের প্যাকেট হাতে নিয়ে ডাক দিলাম, টাইগাররররর!!!!!
টাইগার আচমকা ডাক শুনে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে এদিক সেদিক চেয়ে আমার দিকে দৌড়ে আসল। কাছে এসে মনে হলো, বেচারা কিছুটা লজ্জিত। বললাম, শালার লুল কুত্তা!! মেয়েটাকে ইংগিত করে বললাম, ঐটা তো খালি হাড্ডি!! নে বিস্কুট খা।
সে বিস্কুটও খেলো আবার পানিও খেলো। ইন্টারেস্টিং ঘটনাটা ঘটল ঠিক তখনই।
মেয়েটার সিগারেট খাওয়া শেষ, সাথের ছেলেটাকে নিয়ে চলে যাচ্ছিল। খুবই পেশাদারভাবে মেয়েটা রাস্তায় সিগারেটের শেষ অংশটা বুড়ো অঙ্গুলের মাথায় রেখে তর্জনি দিয়ে ছুড়ে মারতেই, টাইগার মেয়েটার কাছে ছুটে গিয়ে দিলো বিশাল এক হুংকার। প্রথম ডাকেই মেয়ের অবস্থা খারাপ, পারলে ছেলের কাঁধে উঠে। এই অবস্থায় টাইগার ভয়াবহ দ্বিতীয় ডাক দিলো। মেয়েটা দ্রুত ছুটে গিয়ে গাড়ি সামনে দাঁড়ালো তৃতীয় ডাকের সময় মেয়ে গাড়িতে উঠে পগার পার!!
সামগ্রিক ঘটনায় যখন সবাই আমরা হাসছি, ততক্ষনে ব্যাটা আমার কাছে ফিরে এসেছে। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে অফিসের দিকে হাটা দিলাম, সেও আমার সাথে সাথে রাজকীয় দুলকি চালে অফিস পর্যন্ত এলো। অফিসের দারোয়ানরা সবাই ওকে চিনে। আমি লিফটে উঠলাম, দেখলাম, টাইগার জিভ বের করে সিঁড়িতে বাঘের পজিশন নিয়ে বসে আছে। ভাবখানা এমন যেন, টাইগার আভি জিন্দা হ্যায়!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



