somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতির পাতায় ইক্কিনি ইতিবৃত্ত

২৮ শে মে, ২০১৬ সকাল ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


স্মৃতির পাতায় ইক্কিনি ইতিবৃত্ত
-মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু।
আম্মা দেশে ,আব্বা চাকুরীর ব্যস্ততায় ,আমাদের বাসায় আমি একা বাসার সামনে বসে আড়ি খোলা রেলওয়ে স্টেশনের কোয়ার্টারের ছেলেমেয়েদের খেলা দেখছিলাম। বাবা মাস কয়েক হলো ময়মনসিংহ থেকে বদলী হয়ে এসেছেন , তাই এখনো সব ছেলে মেয়েদের সাথে সখ্যতা হয়ে উঠে নি। দূর থেকে বড় মাস্টারের মেয়ে, মায়া আপু এগিয়ে আসলেন ,মন খারাপ দেখে বললেন,
তোমার নাম কি ,বললাম বাবু ,এসো আমাদের সাথে খেলা করবে।
বললাম বাসায় কেউ নেই। আমু দেশে ,আব্বাও লাইনে গেছে।
তাহলে তো আরো মজা ,তোমাদের বাসায় খেলা করতে পারি।
আমি হেসে দিলাম।
মায়া আপু সবার লিডার। ডাকলেন সবাইকে।
আমি সবাইকে বাসায় ভিতর ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম। মায়া অপু ভাবলেন ছোট্ট পরিসরে কি খেলা যায় , মায়া আপুর ছোট বোন্ শিল্পী ,দুজনেই লম্বা ছিপ ছিপে গড়নের।
মায়া আপু বললেন, তুমি আমার ছেলে ,আর ও শিল্পীর মেয়ে।
আমি মায়া অপুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। উনি বললেন আরে সত্যি সত্যি নয় মিছামিছি। বাকিরা হেসে উঠলে মায়া অপু চোখ রাঙ্গালেন , বললেন তোমরা বর যাত্রী.
শুরু হয়ে গেলো খেলা মিছা মিছি বউ জামাই খেলা , গায়ে হলুদ থেকে বিয়ে পড়ানো, বিয়ে পড়ানো থেকে কবুল বলা পর্যন্ত। সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো। তা না হলে জানি না বাসর হতো কি না। মিছা মিছি বাসর ?
১৯৮৬ সালে প্রথম সে খেলাতেই প্রথম দেখেছিলাম। ভাষা গত দিক থেকে আমার বউ আর আমি নোয়াখালীর। একদিনের খেলার সাথী আমার বউ নামটা পরে বলি এখন মনে আসছে না সিওর এখনি মনে পড়বে। মায়া আপুরা কলনী থেকে চলে গেছে পরের বছর. মেয়েটির সাথে দেখা হয়েছিল ৯০ সালে। আমি চিনতে পারিনি। সাইকেলে স্কুল থেকে ফিরছিলাম, এস,এস,সি র বছর,সাইকেলের সামনে দাড়ালো ইয়া বড় এক হাতি,জালি জালি জর্জেটের লাল জামা,ফরসা লাল টুক টুকে এক মেয়ে হাতি, কামিজ আঁকড়ে ধরে ছিলো তার ফুটন্ত যৌবনকে।আমি লাফ দিয়ে ব্রেক কষে নামলাম,আমার চোখ একবার দেখেনিলো হাতিটিকে একেবারে নায়িকা মৌসুমীর মতো। কিছু বলার আগেই বলল,
আজ এক হাপ্তাহওই গেলো, আন্নের বো আইছে আন্নের খবর নাই।
আমি চুপ।
আন্নে অন অ “ইক্কিনি” রই গেছেন।
বাসার দিকে মুখ ফিরতেই নুপুরের হাত ধরে আন্টি এলেন,যাকে সবাই সায়মার মা বলে ডাকে।বুঝতে আসুবিধা হলো না,মেয়েটি রেক্সানা,জলিল সাহেবের শালিকা ,রেহানার খালা,চার বছরে বালিকা থেকে হয়ে গেছে তরুনী।বাড়ন্ত গড়নের রেক্সানার সাথে এক দিন জামাই বউ খেলা খেললেও আমি লজ্জায় কথা কম বলতাম,মিশুক মেয়েটি চাইতো ওকে সময় দেই। পারিনি, কেন?
অই যে ইক্কিনি।মানে সাইজে ছোট ছিলাম।সামান্য দেহ ক্ষিনকায় শরীর নিয়ে আমি বেমানান ছিলাম,তার পাশে ।
আমি এস এস সির পরা শোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম .
একদিন স্কুলে যাবার সময় তড়ি ঘড়ি এ দিক ওদিক খুঁজছি ,
পাচ্ছিলাম না। আম্মাকে বললাম ,আম্মা বললেন কোথায় রাখিস ,
এর মাঝে ও এলো , ব্যস্ততা দেখে বললো কি খুজিস ,বলছি না লজ্জায়। কয়েক বার জিগ্গেস করে রাগ হলো বললাম আন্ডার ওয়ার ,
কি ?
এবার বললাম জাইঙ্গা,
কয়টা ,
আরে ভাই একটা ,আবার কয়টা।
মাত্র ওগ্গা ,আর তো মেলা।
তুই ও গুলো দিয়ে কি করিস।
হিনদি (পরি)
আম্মা দিলেন ধমক ,এই নে তোর্ প্যান্টের ভিতর ই ছিলো আর চোখ বড় করে ওরঅর দিকে তাকালেন।
সে দিন জানলাম ,মেয়েরাও আন্ডার ওয়ার পরে.এর পর মাঝে মাঝে কথা হলে বলতো.
তুই এত ছোঢ কিল্লাই দেইখতে, বিয়ার হ্রস্তাব আইসতেছে,
তত দিনে একটা মুদ্রা দোষ রেক্সানাকে পেয়ে বসেছে,,কথায় কথায় বলত "আস তারা ফালতু"।
এক বার জিজ্ঞেস করেছিলাম,এই কথা কেনো বলিস, উত্তর ছিলো জানি না।দূর থেকে অর দিকে তাকিয়ে দেখতাম ভাবতাম মেয়েরা এতো তাড়া তাড়ি বড় হয়ে যায় কেনো? আমার পরীক্ষার আগেই চলে গিয়েছিলো। যাবার আগে এক রাতে বসেছিল অনেক ক্ষন,আমার পাশে। আমার পড়ার টেবিলে। সবাই টিভিতে হিরা মন দেখছিলো। রেক্সানা ধরেছিলো আমার হাত,বার বার বলছিল তুই এত ছোঢ কিল্লাই? ইক্কিনি কিল্লাই ?সে আরো বলেছিলো, আঁই ভাইব ছি তুই অনেক বড় ঐছ্ত ,এ স্মার্ট ঐচত। অন দেখি তুই ইক্কিনি।আমি চুপ করে ছিলাম।আর দেখা হয়নি একদিনের কয়েক ঘন্টার সেই বউয়ের সাথে,আমার এক দিনের বৌয়ের সাথে। " ইক্কিনি" এই শব্দের গভীরতা সে দিন উপলব্ধি না করলেও আজ বুঝি।
আজ মেয়র রোডে সাইট পরিদর্শনের পর দেখলাম দুটি ছেলে মেয়ে খেলা করছে,মাটি নিয়ে, প্লাস্টিকের খেলনা নিয়ে।ইচ্ছে করল ছবি তুলি।অনুমতি ছাড়া তোলা যাবে না, মনে পড়ল একদিনের বৌয়ের কথা ,ওদের পাশে বসে মোবাইল টিপে টিপে লিখলাম, একদিনের বউয়ের কথা। ইক্কিনি শব্দের ইতিবৃত্ত.
নিজের বউ থাকলেও মনে পড়ে গেলো খেলার সাথী একদিনের বউ এর কথা।আজ হয়তো সেও আমার মত চল্লিশ পেরিয়ে গেছে। স্বামী সন্তান নিয়ে আছে কোথাও। আজ সত্যি সত্যি আমার বউ আছে। আছে দুটি মেয়ে। হটাত কেমন করে মনে পড়ে গেলো এক দিনের বৌয়ের কথা। মনে মনে ভাবছি সে খেলার দিন গুলি ভালো ছিলো ,বাস্তব বড়ই কঠিন। দোয়া করি যেখানেই থাকো ভালো থেকে। আমি আছি ,প্রবাসে ,ভালো ই আছি।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০১৬ সকাল ৭:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×