somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাহিত্যাঙ্গনে ডাকতি হচ্ছে বিবেকের !

০৮ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাহিত্যাঙ্গনে ডাকতি হচ্ছে বিবেকের !

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু

ভালো হোক মন্দ হোক ,লেখা লেখির অভ্যাস কিশোর বয়স থেকেই। নিজে লেখার পাশা পাশি বন্ধুদের সাথে দলীয় লেখার ও অভ্যাস ছিলো। যখন অষ্টম শ্রেণীতে ইম্প্রভাইজেশনাল পদ্ধতিতে মঞ্চ নাটকের স্ক্রিপট ও লিখেছি, নামটা জানলাম যখন নাটকের কর্মশালায় ,নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ,তার মানে নিজে নিজে চরিত্রের সাথে মিল রেখে কিছি বলা বা অভিনয় করা। যা আজকাল নাটক সিনেমায় ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। তার মানে না বুঝে যা করতাম তাও ছিলো আর্ট এর অংশ!
২০১১ সালের শেষ দিক থেকে সিঙ্গাপুরের বাংলার কন্ঠ পত্রিকায় ধারাবাহিক,নিয়মিত লেখা প্রকাশ , বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ এর সুযোগ,হালের ফেসবুকে স্বাধীন পোষ্ট পদ্ধতি ,ঘরে ঘরে জনে জনে গ্রুপ সংগঠন আর অনলাইনে লেখা প্রকাশ এর সুবাধে লেখার পরিমানটা বেড়েছে ,যা অবসর বলে কোন অবসর রাখেনি আমার জীবনে ।
সংস্কৃতির অঙ্গনে নতুন নই, ১৯৮২ সাল থেকে মঞ্চে বানরের লাফালাফি শুরু হয়েছে ,আজো থামেনি।কেমন এক নেশা প্রাইমারী স্কুলের মঞ্চ,কালিগঞ্জ পাইলট হাই স্কুলের মঞ্চ,কালিগঞ্জ শ্রমিক কলেজ ,ঢাকা পলিটেকনিক ,গাইড হাউজ,মহিলা সমিতি,দোয়েল চত্বরের উম্মুক্ত মঞ্চ ,সৌদি আরবের বিভিন্ন ইস্তারাহ ,সিঙ্গাপুরের বাংলার কন্ঠ,এম ডাব্লিউ সি ,ন্যাশনাল লাইব্রেরী ,ন্যাশনাল ইউনভার্সিটি সিঙ্গাপুর মঞ্চ ,নিজ এলাকা সেনবাগ,নোয়াখালী কলকন্ঠ সাংস্কৃতিক সংগঠন এর মঞ্চে একবার বিরানব্বই সালে আর ২০১৪ সালে সেনবাগ পাইলট স্কুলের মঞ্চে উঠেছি।
মঞ্চে ঠিক কতবার উঠেছি তার হিসাব নেই,রাখিনি। কবিতা ,নাটক ,কৌতুক ,একক অভিনয়ে সঙ সেজেছি রং মেখে বহুবার। সংগঠন সংগঠন করে জীবনের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করেছি। কসম করি আর যাবো না অনেক হয়েছে। সিগারেটের নেশার চেয়েও ক্ষতিকর মঞ্চের নেশা । জীবনের রঙ মঞ্চেই হয়েছি বদনাম। যেকোন উপায়ে হোক যেন মঞ্চে থাকা চাই। উপস্থাপনার বাতিক অনেক পুরানো। কিন্তু কি পেয়েছি,তার উত্তর খুজতে গেলে নিজেকেই ধিক্কার দিতে হয়। শুরু করেছিলাম লেখা লেখির কথা। ফিরে আসলাম আবার ,অনেকেই ফেসবুকে লেখি বলে বাঁকা চোখে দেখেন! যদিও তারাও ফেসবুকি ,গালিটা আমাকেই বা আমর মতো কাউকে দেন.নিজেকে ভাবেন বুদ্ধিজীবী আমাদের হিবিজিবি।

আসলে আপনার কি মত জানিনা ,আসলে ফেসবুক না থাকলে এত লেখা হতো না,মান অভিমান,প্রতিবাদ ,হাসি ,কান্না ,আনন্দ -বেদনা সবই অতি সহজে লেখা যায়.মনের জমানো কষ্টের ভারী পাহাড় হালকা হয় দ্রুত। ফেসবুকে আমি কিন্তু আজো কাউকে বলিনা লাইক ,কমেন্ট ,শেয়ার করুন। করুন এটা সম্পুর্ন ব্যক্তিগত বিষয়।আমার কাজ লিখা,লেখলাম পোষ্ট দিলাম ,লাইক ,কমেন্ট,থাকলে ঠোঁটের কনে একটু হাসির রেখা আসে বৈকি। আর অনলাইনের কিছু পত্রিকা, লেখা গুলি তাদের নির্ধারিত বিভাগে প্রকাশ করে,এতে কবি লেখকদের এক রকমের উত্সাহ বাড়ছে,নিজের লেখাটা একটা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।দেখতে ভালো লাগে,লেখক কবি পত্রিকার পাশাপাশি নিজেও শেয়ার করে ,এতে অনলাইনের হিট বাড়ে, কবি, লেখকের লেখা গুলি নিজের ছবি বা অলংকরনে পায় নতুন মাত্রা। লেখা চুরি হয়,গুগলে সার্চ দিলে পাওয়া যায়, কে কোথায় কিভাবে চুরি হয়েছে ,দারুন এক লুকুচুরি খেলা আজকাল নিজেই নিজের সাথে খেলছি ।

সাহিত্য অঙ্গনে একটা বিশাল চুরি, না, না ডাকাতি হচ্ছে বিবেকের। বাংলাদেশের মিডিয়ায় যেমন হয় হটাত এলো ,ধুমধাম নাম ধাম হলো ,তার পর হারিয়ে গেলো ,সাহিত্য অঙ্গনে হারাবে কিনা জানি না ,তবে ফেসবুকীয় অনলাইন যুগে ধুমধাম কিন্তু আসছে ।আসছে আবার কতিপয় দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। পদ,পদক,পদবী ,সংগঠন প্রধান ,দেশে- বিদেশে বই প্রকাশ ,বাংলার আগেই ইংরেজি,কিংবা বাংলা ,ইংরাজি সব ভাষায়। পারেতো ফার্সি, আরবি সব ভাষায় প্রকাশ করে যিনি এই মাত্র লিখলেন তিনিও ।

এটা যেমন সাহিত্য বোদ্ধা এবংসাহিত্য যোদ্ধাদের চোখে বাঁধে ,তেমনি যারা করতে পারছে না তাদের ও ঈর্ষা লাগে। সংগঠন প্রধানরা পেছনে পড়ে গেলে কষ্ট পান ,প্যান প্যান করেন আমি পথ দেখাইছি ,আমি সুযোগ দিছি, এখন আমার সংগঠন রাইখা একাই সব করে ফেলছে ,"যদিও কথাটি যুক্তি যুক্ত" কিন্তু কথা হলো এখন যাত্রা শুরু কিংবা প্রদর্শন দলীয় হলেও ,সেরা অভিনেতার পুরস্কার এক জন পায় পুরস্কার। জয়ী , জয়িতা যদি ,নিজের মঞ্চ ,যেখান থেকে তার পরিচয়,পরিধি বেড়েছে,খ্যাতি পেয়েছে ক্রেষ্টের পাশে বা সন্মাণনার পাশে সে মঞ্চকে রাখতে পারে আবার নাও পারে যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

তবে কেমন যেন লেখকের চেয়ে কবি হওয়ার দৌড় একটু বেশি,বেশি দ্রুত বেগে আছে সাংবাদিক হওয়ার শর্ট কাট রাস্তা খুঁজার প্রতিভাগুলি। হলুদ নাকি লাল সেটা পরের বিষয়। ৩৪ বছরের মঞ্চ পাগল ,ছাব্বিশ বসন্ত ধরে এইটিন প্লাস ,বিয়াল্লিশ পেরিয়ে তেল্লিশে পদার্পণ ,তারপর শুন্যের কোঠায় সাহিত্য আর সংস্কৃতির অর্জন। দেখি কাব্য কবিতার জগতের নগ্নতা,অসভ্যতা ,বিবেকের নির্লজ্জ সমর্পণ ,সাংবাদিকতা,কবি ,কবিতায় ক্ষমতাসীনের পদতলে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার আজ নিরব বিপ্লব । গ্রুপবা সংগঠন করে বানিজ্যের ধান্দা ,উড়ে এসে জুড়ে বসে নামের সাথে কবি লেখক সাংবাদিক জুড়ে দেয়া হয়ে গেছে ফ্যাশন। বিশেষ করে যারা সাংবাদিক তারা কে কয়টা সংবাদ করেছে বর কথা নয় ।সাংবাদিকের টাই গলায় ঝুলিয়ে নির্বাচন করছে! ভোট চুরি করছে। বিশে করে মফস্বলে। বই প্রকাশনার প্রতিষ্ঠান করে লুটে নিচ্ছে নবীন কবি লেখকদের অর্থ । সংগঠনের আড়ালে কি করছে তা খতিয়ে দেখার বিষয়। আসলে কি কবিতার সন্ধ্যা ,নাকি কোন দলীয় কর্মকান্ড বা প্রপাগান্ডার পায়তারা। আর পদক ব্যাবসার কথা আজ কে না জানে! তবে এই সব কাদা মাখির মাখির মাঝে কিন্তু কিছু ভালো কবি লেখক সাংবাদিক শিল্পী সংস্কৃতিমনা মানুষ নিরুত্সাহিত হচ্ছে। গাধার সাথে ঘোড়ার দৌড়ে জয়ী ঘোড়াই হবে। তবে গাধার পিঠে থাকে বোঝা আর ঘোড়ার পিঠে সওয়ারী ,সহিস নিজে।"চিন্তার খোরাক " সাহিত্য জগতে কি হচ্ছে ?ফেসবুক,অনলাইনে,আর কাগুজে সংগঠনের নামে। কে হচ্ছেন স্পন্সর ,কোথা থেকে আসে বাজেট ,কে দেয় চাঁদা একবেলা না খেয়ে। কে হয় লাভবান সংগঠন করে. সারা জীবন ঘেটু পুত্রের মতো আনন্দ দেয় এক শ্রেনীর সংগঠন ,সাহিত্য সংস্কৃতি প্রিয় কিছু হাঁদারাম। মজা লুটে নেয় ধূর্ত মানুষ।হোক সদস্য হোক নেতা,পাতি নেতা। ধরা খায় নিবেদিত প্রাণ কর্মী। সবাই চোখে ধুলা দেয়!

মাঝে মাঝে মনে হয় আর কত বিরক্ত করব ,পাঠককে ,যদিও বই কেনা পাঠক নয়, ফেসবুকীয় অনলাইন পাঠক। মেগাবাইট লেখকের মেগাবাইট পাঠক। বইমেলার বিক্রি ,বই প্রকাশে অবদান অনেকাংশে ফেসবুকের। অনেক নবীনের বই বিগত কয়েক বছর প্রকাশ পেয়েছে, যারা ফেসবুকে লিখতেন আমার মত,তেমনি অনলাইন পত্রিকা লেখকের বই ও প্রকাশিত হচ্ছে । যেখানে অনলাইন পত্রিকা চালাতে মেগাবাইট প্রয়োজন,ফেসবুকে লেখক পাঠক দুইয়েরই মেগাবাইট প্রয়োজন,তাই বলা যায় ,সাহিত্য -সাংবাদিকতা বন্দী আজ মেগাবাইটে। আর আমার জীবনটাও যেন বন্ধি আজ মেগাবাইটে। ফেসবুকে,নয়তো অনলাইন পত্রিকার পাতায়। কেন ? কেন আবার লেখাতে কয়টা লাইক পড়লো ,কে কি কমেন্টস করলো আর কোন অনলাইন লেখাটা প্রকাশ করলো।দেশে বিদেশে যেখানে দেখি মঞ্চ টানে আমায় আমায় অজানা আহ্বানে ,এ যেন এক নেশা ,যেমন মেগাবাইট খরচ করে পড়ে থাকি অনলাইনে । নেশা আজব নেশা,মঞ্চ ,সাহিত্য,সংস্কৃতি,সাংবাদিক গিরি আর অনলাইন।সাহিত্যাঙ্গনে ডাকতি হচ্ছে বিবেকের ! বিকল্প নেই অস্তির অসুরিয় সময়ে সাহিত্য সাংস্কৃতিক চর্চার। যত বেশি এই দিকে নিমগ্ন থাকবে মস্ক্তিস্ক ধৌত করার সুযোগ পাবেনা অন্ধ ধার্মিকেরা।

সিঙ্গাপুর ,৭-৬-২০১৬ ইং

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১০:২৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×