somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লেখা লেখির ভ্য়ারা !কবিতা,গল্প,ফিচার,সংবাদে লিখি ইতিহাস।

১৫ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১০:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখা লেখির ভ্য়ারা !কবিতা,গল্প,ফিচার,সংবাদে লিখি ইতিহাস।

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু

একটা নাটক দেখেছিলাম ইউটিউবে , মোশারফ করিম এর মরিচ খাওয়ার ব্যারাম, মরিচ খাওয়ার ভেরা উঠে. সে নিজেই বলে এ আমারে থামা, আবার থামাতে গেলে মরিচের ঝুড়িটা দিতে চায় না।
তেমনি আমার ভেরা হয়েছে , লেখা লেখির ভ্য়ারা ! মাথায় গিজ গিজ করে, দেশে বিদেশে কোন ঘটনা ঘটলেই ,মনে আনন্দ,, কষ্ট যন্ত্রণা হলেই ,চোখের সামনে ,মনের কল্পনায় , স্বপ্নের ঘোরে কিছু একটা হলেই শব্দরা ভীড় করে, অস্থির করে তোলে,এ দিকে লেখক বোদ্ধা ,পাঠক মহল , মান সম্পন্ন ব্যাকরণ সমৃদ্ধ,গুরুচন্ডালী বিহীন ভাষা ,ভুল /ভূল ছাড়া অর্থ পূর্ণ লেখা ,সমাজ,দেশের ,সাহিত্যের কল্যাণ মূলক লেখা , মানবতা ,বিবেক জাগ্রত হয় এমন লেখা ,লেখাতে যেন সমাজ পরিবর্তনের দিক নির্দেশনা থাকে ,যেন থাকে নিটোল ,নিখুত প্রেম কাব্য,দেশপ্রেম ,স্বাধীনতা স্বাধিকারের কথা যেন থাকে লেখার মধ্যে। যদি কবিতা হয় ,মাত্রা যেন ঠিক থাকে। পারলে চাটুকারী ;লেখাও কেউ প্রকাশ্যে কেই ইশারায় ইংগিতে আশা করেন।

আচ্ছা যার বাংলা শিক্ষা শুধু দশম শ্রেণী ,সে কি করে এতো সীমাবদ্ধ লেখা লিখবে বলুনতো ! আমি হলাম মুহুর্তের লিখিয়ে,বিষয় নিয়ে লিখি বেশি । একদিন মনির বলছিলো ,ভাই আপনি তাত্ক্ষনিক বেশি লিখেন,তাই এই সব লেখা ইতিহাস হবে না ! আমি বলেছিলাম,ভুল বললে, আমার লেখায় ইতিহাস মনে করিয়ে দেবে,দিন,তারিখ ,সময়! কবিতা,গল্প,ফিচার,সংবাদে লিখি ইতিহাস।

যা মনে আসলো লিখে ফেললাম। এর জন্য অবশ্য এজন্য এখন ফেসবুক,অনলাইন পত্রিকা,মোবাইলের বাটনে সহজে বাংলা লেখার সুযোগ বেশী দায়ী। আগেতো খাতা ,ডায়রীর পাতায় লিখতাম। বিজয় দিয়ে জীবনেও লিখতে পারি নাই। ২০০৮ সালে বাংলা ওয়ার্ড নাম একটা সফট ওয়্যার পেয়েছিলাম। প্রথম দিকে ফেইস বুকে ইমেজ করে পোষ্ট দিতাম ২০০৯ সালে। তার পর ইউনিকোড এ লিখে পত্রিকায় পাঠাতাম ই-মেইলে। একবার দেখি সৌদি আরবের কর্ম জীবনের বন্ধু সাইফুল ভাই বাংলায় ইনবক্স করেছে।জিগ্গেস করলাম কিভাবে কি? বললেন, ইউনিকোডে লিখে কপি ,পেষ্ট- পোষ্ট করা যায়। এভাবে চলল ২০১২ নাগাত। একদিন বাংলার কন্ঠ সাহিত্য পরিষদের কবি শ্রমিক মনির বলল ভাই মোবাইলে লেখা যায় ,ব্যাস হয়ে গেলো আগে শুধু অবসরে কাজের বিরতিতে লিখতাম ,এখন হোক কাজ পাতালে ,হোক সুউচ্চ ইমারতের চূড়ায় মনে আসলেই লেখা শুরু।বাথরুম।চলন্ত বাস,মেট্রো মেট্রো রেইল ,সিনেমা হল ,চা-কফির আড্ডা ,মিটিং ,সভা ,গ্রুত্ত্ব পূর্ণ কোন কাজের মাঝেই ফেস বুকের স্টেটাস লেখা চলে। অনেকে বলে কাজ করি না ! আচ্ছা কাজ না করলে মাস শেষে বসিয়ে কেউ বেতন দিবে।কাজ না করলে সিঙ্গাপুরের মতো দেশে থাকা যাবে।

লেখার মান নিয়ে যারা বলার যোগ্য তারা বলে ,যারা অযোগ্য় তারাও সুযোগ নিয়ে কটাক্ষ করে। কিন্তু বেহায়া এই কলম, না কলম না মোবাইলের বাটন,ল্যাপটপের কি বোর্ড চুম্বকের আকর্ষণে আঙ্গুল গুলিকে নিয়ে যায় ,মনের অজান্তে প্রসবিত হয় শব্দ বাক্য।গুগুলের অনলাইন ইউনিকডের পাতায়। ইংরেজি অক্ষরে চলে বাংলা লেখা। আন্দাজ করে বানান করলেই স্ক্রিনে আসতে থাকে মায়ের ভাষায় আমার শব্দ মালা। ভুল সংশোধনের অপেক্ষায় না থেকে মুহুর্তেই ফেসবুকের স্টেটাসে ,অনলাইন পত্রিকার ঠিকানায়।২০১১ থেকে ২০১৬ আজ পর্যন্ত আমার সর্বাধিক লেখা প্রকাশিত হয়েছে বাংলার কন্ঠে,সেই ঠিকানায়। অনেক সময় মনে থাকে না কোন কোন ঠিকানায় পাঠিয়েছি লেখা। লেখা প্রকাশ হলে শেয়ার করে তৃপ্তি পাই.কখনো কত জন পড়লো তা ভাবনায় আসে না ,শুধু লেখা আসে। সিঙ্গাপুরের মোস্তফা ক্যাফেতে কফি পানের সময় ,বেশ কয়েটি পদক প্রাপ্ত সর্বজন স্বীকৃত কবি,আমার বন্ধু কাজী শিহাব উদ্দিন লিটন সে দিন বলছিলো তোর লেখা লেখির ভ্য়ারা হয়েছে।
মনে মনে বললাম তাই হবে হয়তো ,আমার লেখালেখির ভ্য়ারা হয়েছে। তা না হলে ,এত লেখা আসবে কেনো ,আমায় জ্বালাতন করতে। প্রতিদিন ফেসবুকের পাতায় বুদ্ধিজীবিরা ইনিয়ে বিনিয়ে কম তো বলছে না। তাও তো থেমে নেই। চলছে লেখালেখির ভ্য়ারা , যতোই জ্ঞানদেন রোগী শোধরাবার নয়. এই ভ্য়ারা থামার নয় !

সিঙ্গাপুর , ১৪-৬-২০১৬ ইং

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১০:২৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



মাঝে মাঝে খুব অবিশ্বাস্য ব্যাপার সহজ ভাবে ঘটে যায়।
এই যে আমি শাহেদ। শাহেদ জামাল। রমিজ উদ্দীনের ছেলে। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ছোট ঘর। ঘরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×