somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিমান আর বিমানবন্দরের সুশৃঙ্খলা আশাকরা কি অরণ্যের রোদনের শামিল ?

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিমান আর বিমানবন্দরের সুশৃঙ্খলা আশাকরা কি অরণ্যের রোদনের শামিল ?

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু

বাংলাদেশ বিমান বন্দরের হয়রানি নতুন নয়। এ যেন ঠিক হবারও নয়। সরকার যায় সরকার আসে ,বিমান মন্ত্রী বদল হয়,ভোগান্তি রয়ে যায় ! ভি আই পি ,সি আই পি থেকে সাধারণ যাত্রী সবাই বিমান বন্দরের দুর্ভোগের শিকার। চোরাচালানি যারা করে তারা চক্ষু পরিষ্কার পক্রিয়ার অধীনে মাঝে মধ্যে ধরা পড়ে ,চোরাকারবারির কি হয় কে জানে ?আর ধৃত মাল কত টুকু রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয় তাও বা জানে কয় জন। আসলে বিদেশ যাত্রার প্রথম ধাপ পাসপোর্ট দিয়ে হয়রানি র শুরু আর শেষ পাসপোর্ট ধারির মৃত্যু।রেমিটেন্সের প্রবাহকারী শ্রমিক ,অর্থিনীতির অন্যতম সঞ্চালক সাধারণ শ্রমিক।সারা বিশ্বে কর্মজীবী শ্রমজীবী মানুষ বেশির ভাগ অনিরাপদ বিমানবন্দরে। বলছিলাম বাংলাদেশের বিমান বন্দরের কথা। হযরত শাজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর,ঢাকা ,ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, সিলেট ,শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ,চট্টগ্রাম ,আটটি অভ্যন্তরীণ ,পাঁচটি স্বল্প কালীন ব্যবহারের জন্য বিমানবন্দর রয়েছে। কোথায় নেই ভোগান্তি আর দুর্গতি নামের অভিশাপ।
বিদেশী মুদ্রা ভাঙ্গানো,যোগাযোগের জন্য ফ্লেক্সি লোড,ইন্টারনেট সংযোগ,সিম নেয়ার জন্য যেই সকল কাউন্টার রয়েছে তাদের সবার একটাই টার্গেট কিভাবে ঠকানো যায়.কারণ দীর্ঘদিন দেশের হাওয়া বাতাস থেকে দূরে।যাত্রীর তাড়া কখন বের হবে ,সেই সুযোগে রেট কম বেশির হের ফের। সেবার নামে গলাকাটা ব্যাবসা।
বিদেশের বিমান বন্দর গুলিতে এক জন যাত্রীকে যে সন্মান দেয়া হয় তা সিকি ভাগ দেশের বিমান বন্দরে আশা করা অরণ্যের রোদন ! কোটি টাকার চোরাচালান যোগ সাজেশে খালাস পেলেও সামান্য দু চার আনা সোনা নিয়ে বিপাকে পড়েন শ্রমজীবী প্রবাসীরা। বিয়ের জন্য নির্ধারিত কোটার স্বর্ণ নিয়ে বিপাকে পড়েন বিবাহ প্রত্যাশী যাত্রী। টেক্সের মালামাল থাকলে যদি কেও ফাঁকি দেয় তার কি অবস্থা হয়.তাকে জরিমানা করার অর্থ কোথায় যায় নাই বললাম। আজকাল আবার জঙ্গি ইস্যু। বাক্স পেট্রা খুলে কিভাবে লুট করবে তার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে বিমান বন্দরের লাইসেন্সধারী মুখোশ ধারীগণ। হয়তো দু চারজন ভালো মানুষ ,ভালো অফিসার থাকতেও পারেন ,তার দেখা কয়জন পান। মালামাল গুলি যেই ভাবে ছুঁড়ে ফেলা হয় ,যাত্রীর চোখের আড়ালে হলে বাড়িতে গিয়ে আফসোস করেন,আর সম্মুখে হলে চোখ দিয়ে রক্ত ঝরে। বুক ফেটে মরে যেতে ইচ্ছে করে।
উনিশ বছর প্রবাস জীবন আমার। কাজের পাশাপাশি সংবাদ পত্রে প্রতিনিধিত্ব করার একটা শিরোনাম আছে। মুখে বলে সাংবাদিক,যেমন পানি খাওয়া আর পান করার মতো। আসলে রিপোর্টার,কলামিষ্ট বা সংবাদ প্রতিনিধি ,প্রতিবাদ তাই হাতে নয় কলমেই করি।
২০১৪ সালে আমি আর চাচাত ভাই এক সাথে যাই। সে দিন আমি না থাকলে তার বিয়ে বকুল ফুলের মালয় করতে হতো। বিমান বন্দরের লাঞ্ছনায় সিঙ্গাপুরের জাদরেল এক সুপারভাইজার মুন্না পুরো হত বিহ্বল হয়ে যায়! তার হাতের ব্যাগ কোথায় সে কোথায় ? তার সাথে থাকা দুই/তিন ভরি সোনা নিয়ে ইন্টারগেশন সেলের জেরা শুরু হয়। আমি তাকে ছাড়িয়ে আনি কিংবা আমার সাংবাদিকতার নামটা কাজে দেয়।
বেল্টের সামনে একজন জোয়ান সুদর্শন স্মার্ট ছেলে বিশ বছরের পুরানো প্রবাসীকে যে ভাবে ধরেছিলেন ,চট্টগ্রামের ভাষায় যাত্রী যেই ভাবে চিৎকার করছিলেন তা আজো চোখের সামনে ভাসে। কোথা থেকে একজন অফিসার সদয় হয়ে তাকে মুক্ত করেন।
দেশে থেকে আসতে কিছু খাবার যদি কেউ আনেন অর্থের বিনিময়ে ছাড়েন অথবা নারিকেল,আম ,রান্না করা গোস্ত নিয়ে যান মহিলা ,পুরুষ যারাই থাকেন।
এয়ারপোর্র্ট থেকে বের হবার সময় যাত্রী মালের চেয়ে প্রিয়জনের দিকে চোখ রাখেন, বুক কাঁপে দুরু দুরু সেই সুযোগে মালামাল নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু দালাল থেকে ড্রাইভার ,সবার ! কেমন ছিনিয়ে নেয়ার এটিচিউট।
আজকাল বিমান বন্দরে বিদায় জানানো আর রিসিভ করতে আসা, স্বজনের কি অবস্থা! যদি বলি জাহান্নামের কষ্ট পান তারা। বেশি বলা হবে কি?
আমার বৌ বাচ্চাদের ইচ্ছা বিমান বন্দর আসবে, ফুলের তোড়া দিয়ে রিসিভ করবে। প্রবাস স্বামী বা সন্তানদের এই আবদার এইবার মেটাতে সাহস হলো না! কেন? পাঠক চোখ বন্ধ করুন। বুঝবেন আশাকরি। সব ঝামেলা ব্যাড দিলাম,কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে এই কর্মটি করবে? বলতে পারেন। আমি কিন্তু আনসার সাহেবদের হুইসেল এখনি শুনছি।
প্রবাস ফেরত মানুষ গুলি সবাই যেন দেশদ্রোহী। তাদের কষ্ট দেয়ার জন্যই কি আমাদের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর। কে দেখবে, কেউ নেই! বছর কয়েক আগে লিখেছিলাম ,ভি আই পি মর্যাদা নয় নিরাপত্তা চায় প্রবাস ফেরত শ্রমজীবী মানুষেরা।শুধু যে শ্রমিক ভাইয়েরা কষ্ট পাচ্ছেন তা নয়.
যারা দীর্ঘদিন প্রবাসে স্বপরিবারে থাকছেন শেকড়ের টানে তারা মাঝে মাঝে দেশে আসেন ,নিজের সন্তানদের পরিচয় করতে চান আমাদের ইতিহাস ,ঐতিহ্যের সাথে , আমাদের সংস্কৃতির সাথে তারা ব্যর্থ হন বিমান বন্দরে এসে! তাদের সন্তানরা বাম মায়ের মুখে শুনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস,তারা শোনে বাংলা ভাষার ইতিহাস,তারা শুনে ভাতৃত্ব , বন্ধনের ,সম্মানের,অনুশাসনের,ইজ্জতের,মায়ামমতার বাংলাদেশের কথা. বিমান বন্দরের পরিবেশ,কর্মচারীদের ব্যাবহার লজ্জায় ফেলে পিতা মাতাদের, অভিভাবকদের।মিথ্যুক প্রমান করে তাদের।সন্তানরা মনে করে কোন কল্প কাহিনীর দেশ বাংলাদেশ। বলে ডিসকাস্টিং।
যারা চিকিৎসার জন্য,বা ভ্রমণে বিদেশে আসা যাওয়া করেন তাদের মধ্যে চোরাকারবারীও আছে কিন্তু তার সংখ্যা কম,পর্যটকই বেশি ,বলছিলাম বাংলাদেশ থেকে যারা ভ্রমনে আসেন তাদের কথা ,তাদেরও ছাড় নেই হয়রানিতে। বছর দুবছর পাঁচবছর পরে দেশে যাবার সময় বিমান বন্দরের হয়রানি কত কষ্ট দেয় ,ঈদে বিশেষ করে বেশি প্রবাসীরা দেশে যান ,অনেকে ঈদের আগের দিন ছুটি পান একটি বিশেষ দিন কাল হয়ে দাঁড়ায় বিমান বন্দরের হয়রানির কারণে!
এ থেকে পরিত্রানের উপায় কেউ জানেনা বাংলাদেশের এডমিনিস্ট্রেশন।তারা বিদেশের বিমানবন্দর কি ভাবে পরিচালিত হয় তার উপর জনগণের টাকায় কোর্স করে যায় ,কি শিখে?এ ক্ষেত্রে সরকারের কিছুটা দায় থাকলেও বাকি সবটুকুই পরিচালনা,আর সংস্লিস্ট কর্মচারীর লোভকেই দায়ী বলে মনে করি। লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়ে বেসরকারি ভাবে নিয়োগ পাওয়া সর্ব নিন্ম কর্মচারীর বাড়ি গাড়ির কথা শোনা যায় ! কি ভাবে ?
যে হারে হয়রানি বিমানের চলছে ,অনেকের পথেই ঈদ হবে হয়তো । বিলম্ব ঊড্ডয়ন ,পৌছোয়ন ,লাগেজ চুরি, দেরিতে পাওয়া যেন নিত্য ঘটনা। শীততাপ যন্ত্র বিকল অবস্থায় বিমান চলাচল ! ক্ষোভ প্রকাশ করে কিছু লেখলেই মন্তব্য ,বিদেশেবসে দেশ প্রেমের কাব্য করেন , এসে দেখেন, থাকেন ,দেশ প্রেম বের হয়ে । ভাইদের মনে হয় ধারণা বিদেশে সুখে থাকি। বেশি কিছু না, গত তিন দিনে তিন ঘন্টা ও ঘুমের সুযোগ হয়নি শুধু কাজ আর কাজ ,এই রকম যে হটাৎ তাও না । সিলেটের এক জন ল্যাপটপ হারিয়েছেন ,বেল্ট থেকে মাল নেয়ার সময় ট্রলি থেকে মুহূর্তেই গায়েব।আবুধাবিতে বিমানের কো - পাইলট শপিং মলে চুরির দায়ে ধরা পড়ে জেলে আছেন।রিজেন্টে কয়দিন আগে আগুন লাগলো।কি বলব ,দেশটা যে আমার !দেশের দোষ নাকি স্বপ্নের দোষ?দেশের দোষ নাকি সিস্টেমের দোষ?দেশের দোষ নাকি যারা সিস্টেম চালায় তাদের দোষ? বিমান মন্ত্রীর দুঃখ তার লাগেজ ও নাকি পাঁচ ঘন্টা পরে পাওয়া গেছে !
বিমান আর বিমানবন্দরের সুশৃঙ্খলা আশাকরা অরণ্যের রোদনের শামিল বৈকি !


পুনশ্চ: সরকারতো বেতন আর কম দেয় না,কার টাকায় ,কিভাবে দিচ্ছে সব বাদ দিয়ে বলি ,আমরা করবো জয় একদিন ,সাফ সুতরা ,ভেজাল মুক্ত ,বিমান বন্দর,পথ ঘাট ! নিরাপদ হবে কোন একদিন আমাদের চলাচলের পথ.আমাদের জীবন।জীবদ্দশায় যেন দেখে যেতে পারি।

সিঙ্গাপুর

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:২৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



আমার এক বন্ধু আছে। ধরা যাক, নাম তার করিম। করিমকে একদিন চায়ের দোকানে একজন বলল, “আপনি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?” করিম চায়ের কাপ নামিয়ে বলল, “ভূয়া হলে লাভটা কী?” লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×