অভিশপ্ত প্রবাস জীবন
দীর্ঘ প্রবাস জীবনে শতকরা ৯৫ ভাগ প্রবাসীদের দেখেছি পরিবার পরিজনদের জন্য শেষ চেষ্টা করে যেতে, একটু সুখ,একটু শান্তি,একটু হাসি, একটু আনন্দ ভাগ করার সে কি প্রচেষ্টা,দেশের চেয়ে অধিক দাম দিয়ে প্রসাধন সামগ্রী, কাপড়াদি মুটে বয়ে দূর দুরান্ত পর্যন্ত পৌছে দেয়ার প্রানান্ত চেষ্টা। বিয়ের আগেতো শতভাগ ই বিলিয়ে দেয়।কিন্তু কেউ খুশী হয় না,অনেকে মুখের বলে দেয় এ তো আমাদের গ্রামের দোকানেও পাওয়া যায়।আজ কাল পিতা মাতা ভাই বোন স্ত্রী সন্তান ও যেন কেমন না পাওয়ার তেষ্টায় ভুগে।পিতা সন্তান কে সরাসরি না বললেও ঘুরিয়ে বলেন,বাবা দিচ্ছ তো,আমাদের যা প্রোয়োজন তা কি আরা দিতে পারবে, আল্লাহ যত টুকু ভাগ্যে রাখে তাই তো দিবে।বোন ভাবে কি বা করেছে, আমার স্বামী কি ফেলনা,ভাই বলবে উনি অর্থ দিয়ে সংসার চালিয়েছে,আমই শ্রম দিয়েছি।রিক্সাওয়ালার রিক্সায় না বসে হাটলে বলবে শালা ছোট লোক।নজর এখনো ছোট।
এই প্রবাসীদের অনেকেই ফিরে দেশে তখন নিজেই হয়ে যায় সংসারের বোঝা,যে প্রবাস জীবনে সবার খেয়াল রেখেছে তার ঝোলা তখন শুন্য থাকে।কেউ তাকে জিজ্ঞেস করে না কেমন আছে সে!
যাদের জন্য একটা ফেয়ার ওয়েল লাভলীর মুল্য যোগাতে হয়তো একবেলা খারের মেনু ছোট করতে হয়েছিল তার।সংসারের প্রয়োজন মেটাতে বাড়তি কাজ করতে হয়েছিলো,সে কাজ যোগাড়ে অধীনস্তদের তোষামোদ করতে হয়ে ছিলো।
প্রবাসী দেখে,শোনে,আর নির্বাক হয়ে চেয়ে থাকে ওই আকাশে।উত্তর খুজে স্বীয় অপরাধের। হাতের রেখায় দেখার চেষ্টা করে অভিশপ্ত প্রবাস জীবন।
জাহাঙ্গীর বাবু, সিঙ্গাপুর

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



