somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুসংবাদ অভাব নেই দেশে

১১ ই জুন, ২০১৮ রাত ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
সুসংবাদ
অভাব নেই দেশে


জাহাঙ্গীর বাবু

অভাব নেই দেশে,এই ভেবে ঘুমুতে চেয়েছিলাম আয়েশে।পারিনি,দেশে বাড়ি ভাড়া,স্কুল,প্রাইভেট খরচ,গ্যাস বিদ্যুৎ বিল,ঔষধের খরচ নিয়ে গত তিন মাস বিশ্বাস অবিশ্বাসের দাড়িপাল্লায় উঠা নামা করছে বাবর আলী।

এপ্রিল,মে শেষ,জুনেও আশা নেই বেতন হবার; চান্স ক্ষীন।প্রতিবার বাবার হাতে রোজার শুরুতে যাকাত ফেৎরার টাকা পৌছে যেত। এবার ছাব্বিশ রমজানেও শুন্যতায়। বাবা মায়ের সংসারের খরচ,জেলা শহরে থাকা স্ত্রী সন্তানদের খরচ ও সময় মতো দেয়া হয়নি।চাকরীজিবি স্ত্রী আর বাবর আলী মিলে সংসার চালায় টেনে টুনে।কিস্তি আছে নানাবিধ, হঠাৎ কারো আয় বন্ধ হলে ছন্দ পতন, মা বিশ্বাস করলেও বাবা ভাবতেই পারে, কোথাও গরমিল আছে হয়তো।এত দিন বেতন না পেলে চলছে কি করে।এই সব ভাবনা আসতেই পারে, বাড়ির কাজের বুয়া,দুধ ওয়ালা,কাঁচা পাকা বাজার,বিদ্যুৎ গ্যাস ডিশ বিল,বুড়ো বয়সের ডাক্তার খরচ নিয়ে মাথা কি ঠিক থাকে কারো।

দেশের মানুষ ধার দেনা করতে পারলেও বিদেশে এমন ধার পাওয়া ভাগ্যবান কমই আছে।। মাসের পনের তারিখ পার হলেও ব্যয় বহুল পরদেশী শহরে ঘর ভাড়া দেয়া হয়নি।মোবাইল ডাটা খরচ,খাবার খরচ,বাস,ট্রেন খরচ,ঔষধ খরচ আর না থাক এ সব বাহুল্য বচন!না, বাবর আলীকে অভাবী প্রমানের উদ্দেশ্য নেই আজ,কিঞ্চিত শিক্ষা আছে,শরীরে বল থাকলে সমস্যা কেটে যাবে হয়তো। তবু নিজেকে অভাবীই মনে করে,না হলে এই মধ্য বয়সে পরের গোলামী করতে রোগের কারখানা যুক্ত শরীর নিয়ে বিদেশে
পড়ে থাকে!অবহেলায়,অনাদরে,দুখে কষ্টে!হয়তো কথা গুলি যায়না শিরোনামের সাথে।

সম্প্রতি বাজেট ঘোষনার পর অর্থ মন্ত্রীর প্রলাপে জানা গেলো দেশে অভাবী নেই। তিনি ঠিক বলেছেন হয়তো,এক বছর হয়ে গেলো দেশে থেকে আসার।এর মাঝে সতের আঠারো কোটি লোক স্বাবলম্বী হয়ে গেছে হয়তো।
সে দিন ফোনে মা বলছিল,যারা প্রতিবার যাকাত নেন তারা এর মধ্যে কয়েক বার এসেছেন,আমার ধারনা ছিলো তারা অভাবী।তাদের চাল,চুলা সবই জানি।কিন্তু অর্থ মন্ত্রীর কথার পর তাদের মিথ্যাবাদী মনে হচ্ছে।পত্র পত্রিকায় যাকাতের কাপড়,ইফতার সামগ্রী,সাহায্য নিতে আসা মানুষ গুলো যারা মরে গেছে ভীড়ের চাপে পদ দলিত হয়ে,সবাই অভাবী নয়, ফ্রড,ভন্ড ছিলো! হায়রে দেশ আমার! কি শিক্ষিত জ্ঞানী উম্মাদে দেশ পরিপুর্ণ করে দিলি।

একটা আহ্বান যদি কেউ শোনেন,কথা রাখেন,হাতে নিন মোবাইল,যার যার এলাকার আশে পাশের প্রকৃত অভাবীর সাক্ষাতকার,বাড়ির চিত্র,মোবাইল ভিডিও করে, আপনার ফেসবুকে আপলোড দিন।দেখি কিংবা দেখা যাক অভাবের সমীকরণ আর বিচিত্র চিত্র।

থাকার ঘর আছে কর্ম নাই,খাবার নাই,শিক্ষা নাই,চিকিৎসার সুযোগ,খরচ নাই,সেও অভাবী।বিদেশে গেছে, খরচের অর্থ উঠে নাই,ঋণ গ্রস্থ, সেও অভাবী, দিনে আনে দিনে খায় সেও অভাবী,ফুটপাত,রাস্তা,স্টেশন,ঝুপড়ি বস্তীতে থাকে তারাও অভাবী,ভিক্ষা করে খায় তারাও অভাবী,সরকারী চাকরীজিবি নিম্নস্থ,চতুর্থ শ্রেনী,দ্বিতীয়,তৃতীয় শ্রেনি, যাদের প্রয়োজন আর আয়ে সমতা নেই,যারা বেকার,যাদের কাজ নেই তারাও অভাবী।মন্ত্রী মশাই বলেন দেশে অভাব নেই।

মিল,ফ্যাক্টরি, কলকারখানায় কাজ করা মানুষ অভাবী।বিশ্বের উন্নত দেশ, এদেশেও আছে আভাবী।তাদের জন্য কাজের ব্যাবস্থা,কাজ না থাকলে সাবসিডি,লোনের ব্যাবস্থা করছে প্রতিনিয়ত।তারা বলেনা অভাবী নেই।আমাদের মন্ত্রী বলেন দেশে অভাব নেই!

কেউ বলছেন,আগে ছিলো ত্রিশ,এখন একুশ শতাংশ,কিন্তু তিনি বকেন দেশে অভাব নেই।অভাব না থাকলে আমাদেরই ভালো।আরে স্বীকৃত অভাবীর চেয়ে লজ্জিত অভাবী বেশি।প্রকাশ করতে পারেনা।

দরিদ্র,নিন্মবিত্ত,মধ্যবিত্তের অভাবীর সংখ্যা জানেন।১৯৭২ সালে সত্তর ভাগ অভাবী২০১৮ সালে ১৯ ভাগ বলেছেন তথ্য মন্ত্রী,অর্থ মন্ত্রী বলেন অভাব নেই।

হাসবো নাকি কাঁদবো!এ দেশের মানুষের ধৈর্য্যকে স্যালুট জানাই।যারা পাগল, উম্মাদের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে বেঁচে থাকে।সতের-আঠার কোটি মানুষ সবাইকে সালাম।আমি এই সালামের অংশীদার।

অভাবী নাই দেশে! আজো দেখি ভিক্ষার হাত,ডাষ্টবিনের খাবার খায় মানুষ,আজো ধনীর ফেলে দেয়া খাবার কুড়িয়ে রাত বিরাতে যুবক যুবতি বিলি করে বাস স্টপ,রেলস্টেশনে ফুটপাতে। নোংরা ময়লা আবর্জনায় বাস করে মানুষ। সুরম্য অট্টালিকার শিয়রে দাঁড়িয়ে শহরের ক্ষত চিহ্ন বস্তী গুলি দেখা যায়।দেখা যায় গুগুল ম্যাপে।

স্যাটেলাইট টিভি,ইউটিউব,ফেসবুকে দারিদ্রতার পাশাপাশি ভাইরাল খবর, অর্থমন্ত্রী মশাই লাল চক্ষু দেখিয়ে বলেছেন,দেশে অভাব নাই।আর জাতির বিবেক সাংবাদিক গন বসে শুনেছেন সেই প্রলাপ।বয়কট করেননি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত হল রুমের প্রহসনিক সংলাপ,বিনোদন নিয়েছেন কাব্যিক পদাবলীর।

বাবর আলীরা অভাবী বলেই বিদেশে পড়ে থাকে,কর্ম নেই বলে বিদেশে থাকে,প্রবাসী অভাবীদের অভাব থাকলেও তাদের রেমিটেন্সে সচল দেশ।অভাব অভাবীর শিরোনাম,অভাব স্বাধীন দেশে অভাবীর লজ্জিত অহংকার।

সিঙ্গাপুর থেকে
১১-৬-২০১৮ ইং

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৮ রাত ৯:১৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন: আরও একটি প্রশ্ন

লিখেছেন মুনতাসির, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

প্রথম আলোতে মুনির হাসানের ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ লেখাটি পড়লাম। পাকিস্তানে Google-এর নিজস্ব অফিস চালু হওয়াকে সামনে রেখে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একসময় খুব বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×