
জাহাঙ্গীর বাবু
আমি অনেককেই চিনি,জানি,যারা দেশ প্রেমের কথা বলেন,হুন্ডির বিপক্ষেও বলেন,তাদের ও দেখি হুন্ডিতে টাকা পাঠায়।কারন রেট বেশি।এখানকার ব্যাংকার বা ব্যাংকের স্টাফরা হুন্ডি ওয়ালাদের বন্ধু।বিভিন্ন এ জি এম বা ব্যাংকের অনুষ্ঠানে হুন্ডি ওয়ালারা অতিথি। আমরাই শালার বড় পাগল।সরকারের লসের চিন্তা করি।হুন্ডিতে একটু রিক্সতো আছেই।তাও মানুষকে হুন্ডি করতে বাধ্য করে ব্যাংক গুলো।তাদের ব্যাবহার,সময় ক্ষেপন,বিদেশে শনি,রবি, দেশে বৃহ:পতি,শুক্রবারের বন্ধের অজুহাত ডিজিটাল সময়ে চার দিনের মার প্যাঁচ থাকে। রেটটাতো বড় ফ্যাকটর।অনুৎসাহিত করার জন্য বড় অস্ত্র।
তিন মাস ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে টাকা না পাঠালে বিদেশে দেশীয় ব্যাংকের কর্মচারীদের বেতন ভাতা অফ,হাইকমিশনের বেতন ও সাবসিডি দিয়ে চালাবে সরকার।কালোবাজারীদের পোয়া বারো।বৈধ আর সৎ পথে চলার কথা বলব আমরা,হাইকমিশন আই মিন সরকার হুন্ডি ওয়ালাদের সাথে করবেন ডিনার পার্টি।রেমিটেন্স পাঠাবো প্রবাসীরা,লুট করাবেন উনারা।ব্যাংকাররাই ব্যাংক লুট করায়,সুবিধা নিয়ে,পারসেন্টেজ খেয়ে।ওরা ভালো করেই জানে এই টাকা আর ফিরবেনা ব্যাংকে,তাদেরই লোন দেয়। না হলে হাজার কোটি লোপাট হয় কি করে।তাও সরকারের বেতাল মন্ত্রীদের সায়েস্তার জন্য বাংলাদেশের ব্যাংক বয়কট করতে ইচ্ছে হয়।বিবেকের তাড়নায় পারিনা।কুকুরতো পায়েই কামড় দেয়,ঘেউ ঘেউ করেই যায়।
দেশে অভাব নেই,গরীব নেই,ভিক্ষুক পাওয়া যায় না কতো টেষ্টি কথা।বাংলার মানুষকে কতো ধৈর্য্য আল্লাহ দিয়েছে, সব শুনেই যায়।রেমিটেন্সের কথা যে বলে,এই বিদেশে জব মার্কেট কোন সরকার,হাইকমিশন কুটনৈতিক আলোচনায়, সৃষ্টি করেছে।এর শুরু অবৈধ ভাবে বিদেশ পাড়ি দেয়া হতভাগ্য দেশ প্রেমিকদের সৃষ্টি।এট লিষ্ট শুরুটা সাধারণ জনতার মাধ্যমে।
এই সিঙ্গাপুরে দেশীয় সরকারের তৎপরতায় কত জনের বিদেশে আসার সৌভাগ্য হয়েছে কে বলতে পারবে,এখানকার হাই কমিশন শ্রমিক কল্যানে কি কি কাজ করেছে বাৎসরিক দু একটা অনুষ্ঠান ছাড়া। সিঙ্গাপুরের মার্কেট শেষের পথে। শ্রমিকেদের আয়োজিত সাহিত্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাদের অতিথি করা হয়,হাই কমিশনের অনুষ্ঠানে রাজা বাদশাহরাই নিমন্ত্রিত। যাক এই সব বকে লাভ নেই।রাজা বাদশাহদের মধ্যেও কারা থাকেন,সাংবাদিক,সাহিত্যিক,প্রফেসর,শিক্ষাবিদ, সাচ্চা ব্যাবসায়ী,নাকি আই পি ব্যাবসায়ী,হুন্ডি ব্যাবসায়ী আর- থাক ওই নাম নিয়া একবার কেলেংকারীতে পড়ছিলাম।
সে দিন একজন ফোন করে বলল,দশ বছর সিঙ্গাপুরে আছেন, কত ব্যাবসা ওই খানে কি করলেন?চাকরী ছাড়েন,ব্যাবসা ধরেন,মাসে দুই তিন ট্রিপ।কিছুক্ষন চুপ থেকে বললাম, হুম হয়তো আপনি ঠিক।ব্যাবসা করলেতো, যেহেতু পি আর সিটিজেন না,অর্থ ও নাই,স্মাগলারদের ক্যারিয়ার হওয়া ছাড়া উপায় কি?প্রতারণা যা করার, তাতো কইরাই ফেলছে,বাড়ি,গাড়ি দেশ বিদেশে হোটেল রেস্টুরেন্ট,দেশে হেলিকপ্টার ভ্রমণ,সব তারা করে ফেলছে।মিডিয়া এসে তাদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে।তারাই বিজনেস আই কন,ভাগ্যলক্ষীর বেতাজ বাদশাহ, দেশে টেলিভিশিনে দেখি আজকাল এখানের মুদি,কসমেটিক,ইলেক্ট্রনিক্স দোকানদার ও শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছেন বলে সাক্ষাৎকার দেন,সত্যি সেলুকাস কি বিচিত্র এই ভ্রমান্ড!
আর, বাংলার কন্ঠ পত্রিকা,বাংলাদেশ সেন্টার,দিবাশ্রম সংগঠন গুলো একযুগের বেশি সময় ধরে পত্রিকা,আন্তরজাতিক মিডীয়া যেমন বি বি সি আলজাজিরা ইত্যাদী চ্যানেলের ডকুমেন্টিরী, সিংগাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কেয়ার সহ বিভিন্ন আইনি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করছে,আজ শ্রমিকদের কিছু সমস্যা সমাধানের পথে কিংবা সিঙ্গাপুর সরকার নাড়া দিতে পেরেছে,সিঙ্গাপুরের প্রধান মন্ত্রীর মুখে বাংলার কন্ঠ বাংলা পত্রিকার নাম,যদিও আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলা পত্রিকা বা সম্পাদকের নামে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছিলো।সিঙ্গাপুর কিন্তু ভুল করেনি দুটি কথা বলতে। সেই বাংলার কন্ঠ বাংলাদেশ সেন্টার,বাংলাদেশের মিডিয়ার কাছে উপেক্ষিত নয় কি? নাকি অর্থ দিয়ে ধরণা দেয়না বলে!
মাঝে মাঝে হিন্দি সিনেমার খল চরিত্রের মতো হতে ইচ্ছে করে।যেখানে দেখা যায় পুলিশ,প্রশাসন সিস্টেম ভালো থাকতে দেয় না। এরাই পয়দা করে নষ্ট মানুষ,তাদের স্বার্থে।সত্য হোক মিথ্যা হোক ফেসবুকে ভাইরাল প্রবাসীদের আড়াইলাখ টাকার বেশি আয় হলে টাক্স দিতে হবে। ঝড় উঠেছে প্রিবাসীদের মনে।আজ দেখলাম এক প্রবাসী বলছে আসুন এক মাস,দেশে টাকা পাঠাবোনা। এই ক্ষোভের জন্য দায়ী কে?
দেশে নাকি অভাব নেই,দেশে লোড শেডিং নেই,দেশে নাকি ভিক্ষুক নেই কথা গুলি বলছেন মন্ত্রীরা, এই গুলি ও ভাইরাল হচ্ছে।প্রতিবাদ করছে মানুষ।ক্ষোভে ফুসছে।কখন যে বাঁধ ভেঙ্গে যায়,ফেসবুক ছেড়ে রাস্তায় নামে মানুষ!যদিও দেশের মানুষ রাস্তা মুখী নয়,তাই দল গুলো নিজেদের খোদা দাবী করে অলিখিত ভাবে।শান্তি চায়না ওরা কতিপয়।শান্ত দেখতে ওদের গা জ্বলে।মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় নষ্ট মানুষ হয়ে যাই।
সিঙ্গাপুর
১২-৬-২০১৮ ইং
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৮ রাত ৮:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




