somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু
ঘামের কালিতে হৃদয়ের কোরা কাগজে লিখি শ্রম সাহিত্য

ক্ষুধার কাছে পরাজিত করোনায় মৃত্যু ভয়।

২৭ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ক্ষুধার কাছে পরাজিত করোনায় মৃত্যু ভয়।


জাহাঙ্গীর বাবু

ক্ষুদার রাজ্যের পৃথিবী গদ্যময়,বসে খেলে রাজার ভান্ডারেও টান পড়ে। আমাদের তো হ্যান্ড টু মাউথ জীবন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন,স্বেচ্ছাসেবক ছাড়া বছরে দু, চার, শ, হাজার কম্বল,রমজানে ইফতারি,বন্যা,ঘুর্নি ঝড়ে চিড়া মুড়ি কেজি হারে চাল তেল আলু, কলা,বিস্কুট, রুটির সেল্ফি ছবি, পত্রিকার শিরোনাম হওয়া দানবীরগন গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরী,কলকারখানা,শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক,তারা অনেকেই আবার ভাষণবিদ,রাজনীতির সাইনবোর্ডে, হালের টকশোজীবি মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব, দেশের বিভিন্ন সেক্টর প্রধান,তারাই দেশ চালান।


তারা মাসের পর মাস খাবার দিয়ে মানুষ বাঁচিয়ে রাখবেন এ কথাও বিশ্বাস করতে হবে!দেশের সরকার সাধ্যমত চেষ্টা করছে, করবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু তার ওতো সীমাবদ্ধতা আছে।স্থবির অর্থনীতি,দাঁড়িয়ে আছে মেগা প্রজেক্টগুলো,আয়ের উৎস বন্ধ,বিভিন্ন প্রণোদনা আকাশ চুম্বী।ক' দিন ইনকাম লেস থেক্র পত্রিকার শিরোনামের হাত তালির জিডিপি রেট পার হেড ডলারের রেটে ধরে রাখতে পারবে। খুলতে হবেই সকল চাকা দু দিন আগে আর পরে।

এতোই যখন গেছে আরো মাস খানেক ধৈর্য্য ধরা উচিৎ ছিলো।প্রয়োজনে কার্ফিউ দিয়ে ঘরে বন্দী করা প্রয়োজন ছিলো,কিন্তু এমন কিছু করলেই আবার সরকারের দোষ। সেই যাই হোক আমার লেখার উদ্দেশ্য শ্রমিক হেনস্তা,শ্রমিকের জীবন নিয়ে মালিকদের ছিনিমিনি খেলা সরকার নীরব সমর্থন আর ইচ্ছা অনিচ্ছায় করোনা ভাইরাসকে টিকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র।

বিশ্ব থেকে করোনা চলে গেলেও হয়তো থেকে যাবে বাংলাদেশে। কেন? তা আর ভেঙ্গে বলার প্রয়োজন নেই।কারন যে মোবাইলের বাটনে লিখছি তা যে কোরনা মুক্ত আমিই জানিনা। ফেব্রুয়ারী থেকে দেশে পরিবারের কাছে যাই না,কর্ম রক্ষায়,পরিবার রক্ষায়,নিজের রক্ষায়,সব আয়োজন ভেস্তে গেলো লাগামহীন সিদ্ধান্তে, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের আসা যাওয়ার রেসে,বাজারের প্রত্যহিক চাহিদায়,কর্মস্থল কিছু খোলা,কিছু বন্ধ,একবার ঢাকায় আসো,আবার গ্রামে যাও,আবার আসো এই সব ছেলে খেলায়।

গরীবের উপর ষ্টিম রোলার সৃষ্টির আদিকাল থেকে।প্রাকৃতিক দুর্যোগ,মানুষ্য সৃষ্টি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার বারবার, মহামারীতেও মুল টার্গেটে দরিদ্ররা।এই করোনা ভাইরাসের আক্রমন প্রতিহত করতে চাই সামাজিক,শারিরীক দুরত্ব,কোয়ান্টারেন,আইসোলেশন,লকডাউনে লক,হয়ে থাকা। এই দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষেকি আদৌ সম্ভম? ৫/১০ জন এক ঘরে,এক টয়লেটে ১০-৫০ জন,কর্মক্ষেত্রের তিন ফুট আকাশ কুসুম কল্পনাই বটে।এর মাঝেও জোতদার,বানিয়া,মালিক শ্রেনী কি খেলাটাই না খেললো। এক বার ঢাকা থেকে যেতে বাধ্য করে ইদ মৌসুমের মত,আবার নব্বই এর গন আন্দোলন,মুক্তি যুদ্ধের সময়ের মতো পায়ে হেঁটে শহরে আসতে বাধ্য করে। না এলে বকেয়া পাওনা পাবেনা, চাকরীটাই যাবে। কি খাবে,কি খাবেনা। ভেবেছিলো সাপ্তাহ খানেকেই করোনা পালাবে। সেল্ফিবাজি করতে করতে আবার সব ঠিক হয়ে যাবে,অল্পস্বল্প ত্রান প্রহসনে হবে করোনার যবনিকা,করোনা প্রতিরোধে বিশ্ব মোড়লেরা যেখানে পায়নি পাত্তা,আমেরিকা,ইটালী,লন্ডন,সিঙ্গাপুর খাচ্ছে হিমশিম, সেখানে আমাদের তথাকথিত মৌখিক সিঙ্গাপুর,মালোশিয়া আমার জন্মভুমি বাংলাদেশ কষ্টতো হবেই।কষ্টে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার কষ্ট কিসের।কষ্ট বাড়ায় বেয়াদব,অর্বাচীন,নীতিহীন,অবিবেচক,কুপরিচালক,লোভী মানুষ নামের পশু গুলো, যাদের হাতে দরিদ্রের রুটি,রুজি,বেঁচে থাকা,আশ্রয়।সব কিছুর মালিক আল্লাহ মানি,সে আল্লাহই এই সব মানুষদের বসিয়েছে ক্ষমতার চেয়ারে,মালিকের আসনে।

করোনা মাহামারীতে আরো একবার মুখোশ উম্মোচন হলো শাসকের,নীল চাষীদের হাত কেটে দেয়া ব্রিটিশদের কথা মনে করিয়ে দিলো,চোখে ভাসলো ইতিহাসের সেই মসলিন কাপড়ের কারিগরদের কথা,লবন চাষী,সমুদ্র পাড়ের জেলে জীবন,গার্মেন্টস কর্মী শিল্প কলকারখানা,ফ্যাক্টরীর কর্মী,কৃষক,কৃষানী,দিনমুজুর জীবন, এমন কি প্রবাসী শ্রমিকের দুঃখ কষ্ট গুলো এক,যা শেষ হবার নয়।প্রকৃতি যেমন খেলে জীবন নিয়ে,তেমনি খেলে কৃত্তিমতা, আশরাফুল মাখলুকাতের সেরা সৃষ্টি,মানুষ,সেই মানুষ সৃষ্ট শোষনের ষ্টিম রোলার।


এই করোনা মহামারী এক দিন শেষ হবে।ক্ষত রেখে যাবে,পচন হবে, দুর্গন্ধ থাকবে অনেক দিন।শ্রমজীবি মানুষেরা যুদ্ধ করেই যাবে।মৃত্যু ভয় পরাজিত ক্ষুধার কাছে অনন্তকাল ধরে।

২৭-৪-২০২০
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:০৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×