
জাহাঙ্গীর বাবু
ক্ষুদার রাজ্যের পৃথিবী গদ্যময়,বসে খেলে রাজার ভান্ডারেও টান পড়ে। আমাদের তো হ্যান্ড টু মাউথ জীবন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন,স্বেচ্ছাসেবক ছাড়া বছরে দু, চার, শ, হাজার কম্বল,রমজানে ইফতারি,বন্যা,ঘুর্নি ঝড়ে চিড়া মুড়ি কেজি হারে চাল তেল আলু, কলা,বিস্কুট, রুটির সেল্ফি ছবি, পত্রিকার শিরোনাম হওয়া দানবীরগন গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরী,কলকারখানা,শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক,তারা অনেকেই আবার ভাষণবিদ,রাজনীতির সাইনবোর্ডে, হালের টকশোজীবি মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব, দেশের বিভিন্ন সেক্টর প্রধান,তারাই দেশ চালান।

তারা মাসের পর মাস খাবার দিয়ে মানুষ বাঁচিয়ে রাখবেন এ কথাও বিশ্বাস করতে হবে!দেশের সরকার সাধ্যমত চেষ্টা করছে, করবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু তার ওতো সীমাবদ্ধতা আছে।স্থবির অর্থনীতি,দাঁড়িয়ে আছে মেগা প্রজেক্টগুলো,আয়ের উৎস বন্ধ,বিভিন্ন প্রণোদনা আকাশ চুম্বী।ক' দিন ইনকাম লেস থেক্র পত্রিকার শিরোনামের হাত তালির জিডিপি রেট পার হেড ডলারের রেটে ধরে রাখতে পারবে। খুলতে হবেই সকল চাকা দু দিন আগে আর পরে।
এতোই যখন গেছে আরো মাস খানেক ধৈর্য্য ধরা উচিৎ ছিলো।প্রয়োজনে কার্ফিউ দিয়ে ঘরে বন্দী করা প্রয়োজন ছিলো,কিন্তু এমন কিছু করলেই আবার সরকারের দোষ। সেই যাই হোক আমার লেখার উদ্দেশ্য শ্রমিক হেনস্তা,শ্রমিকের জীবন নিয়ে মালিকদের ছিনিমিনি খেলা সরকার নীরব সমর্থন আর ইচ্ছা অনিচ্ছায় করোনা ভাইরাসকে টিকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র।
বিশ্ব থেকে করোনা চলে গেলেও হয়তো থেকে যাবে বাংলাদেশে। কেন? তা আর ভেঙ্গে বলার প্রয়োজন নেই।কারন যে মোবাইলের বাটনে লিখছি তা যে কোরনা মুক্ত আমিই জানিনা। ফেব্রুয়ারী থেকে দেশে পরিবারের কাছে যাই না,কর্ম রক্ষায়,পরিবার রক্ষায়,নিজের রক্ষায়,সব আয়োজন ভেস্তে গেলো লাগামহীন সিদ্ধান্তে, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের আসা যাওয়ার রেসে,বাজারের প্রত্যহিক চাহিদায়,কর্মস্থল কিছু খোলা,কিছু বন্ধ,একবার ঢাকায় আসো,আবার গ্রামে যাও,আবার আসো এই সব ছেলে খেলায়।
গরীবের উপর ষ্টিম রোলার সৃষ্টির আদিকাল থেকে।প্রাকৃতিক দুর্যোগ,মানুষ্য সৃষ্টি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার বারবার, মহামারীতেও মুল টার্গেটে দরিদ্ররা।এই করোনা ভাইরাসের আক্রমন প্রতিহত করতে চাই সামাজিক,শারিরীক দুরত্ব,কোয়ান্টারেন,আইসোলেশন,লকডাউনে লক,হয়ে থাকা। এই দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষেকি আদৌ সম্ভম? ৫/১০ জন এক ঘরে,এক টয়লেটে ১০-৫০ জন,কর্মক্ষেত্রের তিন ফুট আকাশ কুসুম কল্পনাই বটে।এর মাঝেও জোতদার,বানিয়া,মালিক শ্রেনী কি খেলাটাই না খেললো। এক বার ঢাকা থেকে যেতে বাধ্য করে ইদ মৌসুমের মত,আবার নব্বই এর গন আন্দোলন,মুক্তি যুদ্ধের সময়ের মতো পায়ে হেঁটে শহরে আসতে বাধ্য করে। না এলে বকেয়া পাওনা পাবেনা, চাকরীটাই যাবে। কি খাবে,কি খাবেনা। ভেবেছিলো সাপ্তাহ খানেকেই করোনা পালাবে। সেল্ফিবাজি করতে করতে আবার সব ঠিক হয়ে যাবে,অল্পস্বল্প ত্রান প্রহসনে হবে করোনার যবনিকা,করোনা প্রতিরোধে বিশ্ব মোড়লেরা যেখানে পায়নি পাত্তা,আমেরিকা,ইটালী,লন্ডন,সিঙ্গাপুর খাচ্ছে হিমশিম, সেখানে আমাদের তথাকথিত মৌখিক সিঙ্গাপুর,মালোশিয়া আমার জন্মভুমি বাংলাদেশ কষ্টতো হবেই।কষ্টে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার কষ্ট কিসের।কষ্ট বাড়ায় বেয়াদব,অর্বাচীন,নীতিহীন,অবিবেচক,কুপরিচালক,লোভী মানুষ নামের পশু গুলো, যাদের হাতে দরিদ্রের রুটি,রুজি,বেঁচে থাকা,আশ্রয়।সব কিছুর মালিক আল্লাহ মানি,সে আল্লাহই এই সব মানুষদের বসিয়েছে ক্ষমতার চেয়ারে,মালিকের আসনে।
করোনা মাহামারীতে আরো একবার মুখোশ উম্মোচন হলো শাসকের,নীল চাষীদের হাত কেটে দেয়া ব্রিটিশদের কথা মনে করিয়ে দিলো,চোখে ভাসলো ইতিহাসের সেই মসলিন কাপড়ের কারিগরদের কথা,লবন চাষী,সমুদ্র পাড়ের জেলে জীবন,গার্মেন্টস কর্মী শিল্প কলকারখানা,ফ্যাক্টরীর কর্মী,কৃষক,কৃষানী,দিনমুজুর জীবন, এমন কি প্রবাসী শ্রমিকের দুঃখ কষ্ট গুলো এক,যা শেষ হবার নয়।প্রকৃতি যেমন খেলে জীবন নিয়ে,তেমনি খেলে কৃত্তিমতা, আশরাফুল মাখলুকাতের সেরা সৃষ্টি,মানুষ,সেই মানুষ সৃষ্ট শোষনের ষ্টিম রোলার।

এই করোনা মহামারী এক দিন শেষ হবে।ক্ষত রেখে যাবে,পচন হবে, দুর্গন্ধ থাকবে অনেক দিন।শ্রমজীবি মানুষেরা যুদ্ধ করেই যাবে।মৃত্যু ভয় পরাজিত ক্ষুধার কাছে অনন্তকাল ধরে।
২৭-৪-২০২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

