somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ রকম বাংলাদেশ দেখনি তুমি

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পোড়া গন্ধ ইতোমধ্যে বাতাসে মিশে গেছে। কিংবা মাইল দেড়েক দূরে বঙ্গোপসাগরের দিকে চলে গেছে। বাড়িতে ঢুকতেই চোখে পড়ল চারপাশের সবুজের মধ্যে কালো দাগ। সামনের কাছারির টিন ও ভেতরে পুড়ে গেছে। দেয়ালগুলো কোনোরকমে খাড়া আছে। বাম পাশে আম, জাম, কাঁঠাল, রেইনট্রি গাছ পুড়ে ছাই। আর চেয়ারম্যানের পাকা বাড়ির ভেতরে গান পাউডার দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। ভেতরে পোড়া দাগ। আশপাশে আরো কয়েকটা ঘরে একই দৃশ্য। সামনে হাতের ডানে শুধু শূন্য ভিটাটাই দেখা যাচ্ছে।
এই দাগ এখন ওইসব ঘরের বাসিন্দাদের মনে স্থায়ী হয়ে গেছে। তারা অস্থির আর আতংকের মধ্যে আছে। স্বাধীন একটা দেশ, স্বাধীনতার পর বিয়াল্লিশ বছর পার হয়েছে। আর ঘরগুলো পুড়িয়েছে স্বাধীনতার বিরোধী যে দল তারা। কি যে করুণ এই ঘটনা। যেন ইতিহাসের তামাশা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আছে, সরকার আছে, শক্তিশালী গণমাধ্যম আছে, অথচ কেউনাই।
একটা জিনিস আছে। তা হচ্ছে সন্ত্রাস। মানুষের মনে সন্ত্রাস ঢুকে গেছে। নিষ্ঠুর হয়ে গেছে তার হৃদয়। যে দল ইসলামের নামে রাজনীতি করে, ধর্মের কথা যেখানে সেখানে বলে, তারাই এই অধার্মিক কাজ করেছে।
তখন দুপুর। রোদ হয়ত ছিল। তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়নি। তারা যখন দল বেঁধে আসে, তখন রোদও লজ্জা পেয়েছিল কিনা, সেই কথা আজ বিকেলের আকাশে কিংবা শিমফুলে আঁকা আছে কিনা আমি জানি না। তবে দৃশ্য দেখে, কিছু কথা শুনে আমারও খুব লজ্জা লাগল। মনে হলো, এ রকম হওয়ার কথা না। এ রকম হতে পারে না। তবুও বারবার কেন হয়? কেন মাথা পেতে নিতে হয়?
একটা ঘরের কথা বলি। বর্বররা যখন আসে, তারা ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে ফেলে। ঘরটা ছিল পাকা। বাইরে রান্নাঘর তখন জ্বলছে। তারা দরজা ধাক্কায়। দা-কিরিচ লোহা দিয়ে ভাঙতে চায়, পারে না। গালিগালাজ করে। এদিকে ধোঁয়া ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। একটু পর বলে, দরজা যখন খুলিসনি এবার ঘরের ভেতর মর।
একটা কণ্ঠে শোনা যায়, চেয়ারম্যানের পোলারে বের কর। টুকরা করে নিয়ে যাব। ওই টুকরার অনেক দাম।
যার কথা বলছিল, সেই ছেলেটার বয়স মাত্র চার মাস। ছোট্ট একটা শিশুর প্রতিও এ রকম ক্রোধ! কেন? এত অমানুষ হয়ে গেছি আমরা!
তাদের এক চাচা, তার ঘরের ছাদ ছিল কাঠের। কাঠ জ্বলে যাওয়ার পর বেরিয়ে কীভাবে যেন তাদের বের করে আনে। না হয় ধোঁয়ায় প্রাণ যেত।
ঘটনাটা কেন ঘটল?
জামায়াতের এক নেতার লাশ পাওয়া যায় গ্রামের মধ্যেই। এর পরই এই ঘটনা। এলাকার চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের। কিন্তু ওই নেতাকে কে খুন করেছে তা কেউ জানে না। তবে ক্ষোভ চেয়ারম্যানের ওপরই পড়ল।
কথা হচ্ছে, এটা কি হতে পারে? কে হত্যাকা- ঘটিয়েছে তা জানা নাই, একের অপরাধে অন্যের ওপর আঘাত করা যায়? সেটা কোন ধর্মে আছে? সেই ধর্মটা পড়তে খুব ইচ্ছে করছে।
অনেক বাঙালি এসব দেখে না, বিবেক খাটায় না। তারা শুধু ইসলামের কথা বলে। কিন্তু ইসলামের নামে কেউ ভ-ামি করছে, তা তাদের নজরে পড়ে না।
আসার সময় গাড়ির পেছনে লেখা দেখলাম : পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিচারালয় হচ্ছে নিজের বিবেক। পড়ে মনে মনে হাসলাম। এই হাসির মধ্যে অনেক দুঃখ লুকিয়ে ছিল।
বেরিয়ে যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী একজন বলেন, ওই দেখেন। দেখলাম। কালো, লম্বা একটা ছেলে, মোবাইল হাতে আলপথে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ওই ছেলেটা পথ দেখিয়ে দিয়েছিল।
বাড়িঘর পুড়িয়েছে গ্রামের ছেলেরাই। এ রকম দৃশ্য কোথায় নাই? সীতাকু-, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, সাতক্ষীরা, নীলফামারি, বগুড়াÑসবখানে আজ আগুনে পোড়া বাংলাদেশ।
আগুনে পোড়া বাংলাদেশ/ক্ষত তোমার শুকানোর আগেই/হয়ে যায় কত কত ক্ষত/এভাবে স্বপ্নহীন আর কত!
রাজনীতির নামে হিংসা, হানাহানি চলছে, ধর্মের নামে হানাহানি চলছেই। বাহ! বেশ। বেশ তো চলছে সোনার বাংলাদেশ।
মামণি, এ রকম বাংলাদেশ তুমি দেখনি। তুমি দেখবে, সেই আশঙ্কা আজ মনের মধ্যে কিলবিল করে। এ রকম বাংলাদেশ দেখব বলে কি আমরা আশা করি? জানি না, আমাদের মনের মধ্যে কী আছে।

(এ লেখা পড়ার পর ভুক্তভোগী একজন কী বলেছে জানেন? তিনি বলেছেন, চোখ ভিজে গেল। বুকের মাঝে চাপা কষ্ট হচ্ছে।)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×