
-১০-১২ জন সাংবাদিক আহত।
-১৬ টি গাড়ী ভাঙচুর।
-তাৎক্ষণিকভাবে, আইনশৃঙখলা বাহিনীকে হামলার ঘটনা জানানো হলেও হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
-এর আগেও ঢাকা-১ আসনে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের যানবাহনে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
-খুব স্বাভাবিক ভাবেই হামলা চালিয়েছে যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ।
-যুগান্তরের ধামরাই প্রতিনিধি শামীম খান নিখোঁজ। ( পাওয়া গিয়েছে কিনা জানা নেই। রাতে নিখোঁজই দেখেছিলাম।)
...
অথচ এই ঘটনা নিয়ে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কি সেইরকম সাড়া পড়েছে? স্বয়ং যমুনা টিভির ব্রেকিং নিউজে বলা "অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তের হামলা"। এই দুর্বৃত্ত শব্দ থেকে কবে মুক্তি পাবে মিডিয়া! নিজেরা মারা খেয়েও আসল কালপ্রিটের পরিচয় বলছে না কার ভয়ে? এই ভয় কে দিয়েছে?
এসব ভয় জয় না করলে বিপত্তি আরো বাড়বে।
এই একই হামলার সংবাদের বিডি নিউজ লিখেছে এক দল হামলা করেছে। তারাও কোন কিছু স্পেসিফাই করে নি। শুধু তাই নয় এরকম নিউজও হচ্ছে হামলার অভিযোগ। আর এই "দুর্বৃত্ত আর অভিযোগের" সাংবাদিকতা দিন দিন এদেশের সংস্কৃতি হয়ে যাচ্ছে। এই পোস্ট লেখার সময় (রাত ২ টা) পর্যন্ত যুগান্তর আর প্রথম আলোকে দেখলাম সরাসরি হামলাকারী সন্ত্রাসীদের পরিচয় দিতে। পরে মানব জমিনে দেখলাম হামলাকারীদের পরিচয় দিতে। অন্য কোথাও দিয়েছে কিনা জানা নেই। কিন্তু অবাক করার ব্যাপারে এই ঘটনায় যুগান্তর পরে আরেকটি নিউজ করে যেখানে তারাও এবার হামলাকারীদের পরিচয় দিয়েছে দুর্বৃত্ত।
প্রথম আলোঃ নবাবগঞ্জে সাংবাদিক পেটাল আ. লীগ কর্মীরা

যুগান্তরের প্রথম নিউজঃ ঢাকা-১: গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা

যুগান্তরের পরের নিউজঃ Click This Link
ঢাকা-১ এ আছে শেয়ারবাজারের দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান। আর তার ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি যদি এসব খবর কম কভার করে বা বিকৃত করে তবে সেটা মানা যায়। কারণ এর আগে বসুন্ধরা গ্রুপের নিউজ২৪ চ্যানেল, বিডি নিউজ , কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন অত্যন্ত নোংরা ভাবে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিরুদ্ধে নিউজ করেছিলো।
সব মিডিয়ার সর্বাত্মক ভাবে হামলার এবং হামলাকারীর খবর প্রকাশ খুবই জরুরী। নিজেদের মিডিয়ায় হামলা হয় নাই তাই অন্য মিডিয়ায় হামলায় একটু চাইপা নিউজ করার ভবিষ্যৎ আত্মঘাতীই হবে। কাকের মাংস কাকে খাইলে সমস্যা।
এভাবে মিডিয়ার স্বাধীনতা নষ্ট হতে থাকলে সাগর-রুনিদের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে। ডরে ভয়ে সঠিক খবর পৌঁছাবে না মাস পিপলের কাছে। আর সেই সুযোগে খবিশ দালাল সাংবাদিকরা হলুদ সাংবাদিকতা করে যাবে নির্লজ্জের মত আরো বেশি করে।
এই হামলার ঘটনায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, “সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে, কই? কোনো পত্রিকায় তো উঠেনি। সব ক্ষেত্রেই ইসির কাছে অভিযোগ দিতে হবে কেন। ইসি তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগে থেকেই এসব ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েই দিয়েছে। সাংবাদিকরা স্থানীয় পুলিশের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন।"
- নির্লজ্জ আর মেরুদন্ডহীন আচরণ দেখাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তারা যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগে থেকেই এসব ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়ে থাকে, তাহলে সি নির্দেশনা কি ছিলো? হামলাকারীদের ছাড় দেয়ার নির্দেশনা?
অনলাইনের চেতনা ব্যবসায়ীরা ছোট ছোট নগন্য বিষয়ে বিতর্ক তুলে এসব হামলা, জোচ্চুরি থেকে সরিয়ে রাখতে চাইবে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ওদের প্রোপাগান্ডা মূলক তথ্য নিয়ে বিতর্কে না যেয়ে ফোকাস রাখা দরকার বাস্তবে কি হচ্ছে। বাস্তবের চেয়ে মিডিয়ায় কমই আসছে। শহর, মফস্বলের বাইরে কয়টা খবরই বা আসে!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




