somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম দিকের নবী রাসূল আ:বৃন্দ

০১ লা আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হজরত আদম [আ.] ৯৬০ বছর বয়সে
ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর তার
এক পুত্র হজরত শিশ [আ.]
নবুওয়াতপ্রাপ্ত হন এবং তিনি নিজ
সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্টতা থেকে
রক্ষা করার চেষ্টা করেন। শিশ
[আ.]-এর মৃত্যুর পর আদম [আ.]-এর
বংশধরগণ পৃথিবীর বিভিন্ন দিকে
ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা সময়ের
আবর্তে আল্লাহপ্রদত্ত ধর্ম ছেড়ে
মূর্তিপূজা শুরু করে। আল্লাহর সঙ্গে
বিভিন্ন জড়পদার্থ এবং
সৃষ্টিজীবের আরাধনায় মত্ত হয়ে
যায়।
এভাবে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হলে
আল্লাহ হজরত নুহকে [আ.] নবুয়াত
প্রদান করেন তাদের পথপ্রদর্শনের
জন্য। যাতে তারা মূর্তিপূজা
থেকে বিরত থাকে এবং এক
আল্লাহর বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়।
হজরত আদম [আ.]-এর পরলোক গমন
থেকে হজরত নুহ [আ.]-এর
জন্মকালীন সময়ের ব্যবধান প্রায়
এক হাজার বছর। তিনি হজরত আদম
[আ.]-এর অষ্টম অথবা দশম অধঃস্তন
পুরুষ। অনেক সাহাবির মতে হজরত নুহ
[আ.] ছিলেন হজরত ইদরিস [আ.]-এর
পূর্বেকার নবি। তবে সিরাত ইবনে
হিশাম, আররাহিকুল মাখতুম,
খোলাসাতুস সিয়ার গ্রন্থে রাসুল
মুহাম্মদ সা.-এর যে বংশলতিকা
দেয়া হয়েছে সেখানে ইদরিস
[আ.]-কেই নুহ [আ.]-এর পূর্ববর্তী
বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বংশলতিকাটি এমন- নুহ ইবনে
লামেক ইবনে মাতুশালাখ আখনুখ
(ইদরিস [আ.]) ইবনে ইয়াদ ইবনে
মাহলায়েল ইবনে কায়নান ইবনে
আনুশা ইবনে শিশ ইবনে আদম [আ.]।
[সূত্র : সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩২৭,
ঈমান অধ্যায়; সিরাত ইবনে হিশাম;
খোলাসাতুস সিয়ার; আর রাহিকুল
মাখতুম]
হজরত নুহ [আ.]-কে আল্লাহ তায়ালা
৪০ বছর বয়সে নবুওয়াত দান করেন
এবং তাকে রাসুল হিসেবে
মনোনীত করেন। তিনিই পৃথিবীর
বুকে প্রথম নবি যাকে রাসুল
হিসেবে ভূষিত করা হয়, অর্থাৎ
সর্বপ্রথম তার কাছে ঐশীগ্রন্থ
অবতীর্ণ হয়। যাতে তিনি এই গ্রন্থ
অনুসরণে তার সম্প্রদায়কে পথ
প্রদর্শন করতে পারেন। যদিও তার
পূর্বে একাধিক নবি পৃথিবীতে
আগমন করেন তবে তাদের কাউকে
রাসুলের মর্যাদা দেয়া হয়নি।
তাদের কাছে কোনো ঐশীগ্রন্থ
অবতীর্ণ হয়নি। হজরত আদম [আ.]
হজরত শিশ [আ.] হজরত ইদরিস [আ.]-এর
নবুওয়াতের কথা কুরআন এবং হাদিস
দ্বারা স্বীকৃত। তাদের কারো
কাছেই ঐশীগ্রন্থ অবতীর্ণ হয়নি। এ
তিনজন ছাড়াও এই এক হাজার বছর
সময়কালে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের
কাছে আরও নবি আগমনের
ব্যাপারে অনেক ঐতিহাসিক ও
তাফসিরকারগণ মতামত ব্যক্ত করে
থাকেন। যদিও তাদের নাম কুরআনে
বিবৃত হয়নি। তাদেরকেও
ঐশীগ্রন্থের মহান দায়িত্ব দেয়া
হয়নি। এ কারণে ইসলামের প্রথম
রাসুল বলা হয় হজরত নুহ [আ.]-কে।
হজরত নুহ [আ.]-কে বলা হয় আবুল
বাশার সানি ( ﺍﺑﻮﺍﻟﺒﺸﺮﺍﻟﺜﺎﻧﻰ ) বা
মানবজাতির দ্বিতীয় পিতা।
কেননা তখনকার পৃথিবীবাসীর
পাপের শাস্তি হিসেবে তাদের
সবাইকে প্লাবনে নিমজ্জিত করে
নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়। অবশিষ্ট
থাকে শুধু হজরত নুহ [আ.]-এর
বংশধরগণ। কুরআনে আল্লাহ বলেন,
ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻪُ ﻫُﻢُ ﺍﻟْﺒَﺎﻗِﻴْﻦَ . আমি তার
(নুহের) বংশধরগণকেই অবশিষ্ট
রেখেছি (সুরা সাফফাত, আয়াত :
৭৭)। ফলে ইহুদি-খৃস্টানসহ সকল
ধর্মমতের লোকেরা নুহ [আ.]-কে
তাদের পিতা হিসেবে মর্যাদা
দিয়ে থাকে। [সূত্র : তাফসিরে
ইবনে কাসির, তাফসিরে কুরতুবি,
তিরমিজি শরিফ]
তবে সবচে মজার ব্যাপার হলো,
হজরত নুহ [আ.]-এর মাজার স্থাপিত
হয়েছে পৃথিবীর তিন স্থানে।
একটি আজারবাইজানের
নাখশিভানে, দ্বিতীয়টি তুরস্কের
কাইজারে এবং তৃতীয়টি জর্দানে।
চতুর্থটি ইরাকের নাজাফ অঞ্চলে
ইমাম আলি মসজিদেও তার কবর
রয়েছে বলে দাবি করেন অনেক
ঐতিহাসিক। কোথায় তিনি শুয়ে
আছেন সে ব্যাপারে আল্লাহই
ভালো জানেন।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×