somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলা সাল ও মুসলিম সংস্কৃতি (কালেকটেড)

০৬ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৩:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলাম মানুষের সহজাত ও প্রকৃতিগত একটি ধর্ম। ইসলাম সুস্হ ও শালীন ধারা সংস্কৃতিতে সযতনে লালন করে। যে কোনো ধরনের সুস্হ, সুন্দর, মননশীল সংস্কৃতির পক্ষে ইসলামের অবস্হান। সংস্কৃতির উৎসব বা উপাদান বিভিন্ন হতে পারে। তবে সংস্কৃতির প্রধান উপাদান তিনটি-এক. ভুখন্ড, দুই. ভাষা এবং তিন. ধর্ম। যে ধর্মের ওপর ভিত্তি করে সংস্কৃতির উৎপত্তি সেটা সে ধর্মেরই সংস্কৃতি। প্রত্যেক ধর্মেরই নিজস্ব কিছু সংস্কৃতি থাকতে পারে। নিজস্ব সংস্কৃতির মাধ্যমেই সেই ধর্মের স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্যবোধের প্রকাশ ঘটে। এর আবরণেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিচয় পর্বটাও সম্পন্ন হয়ে যায়। সে হিসেবে বাংলাদেশে বাস করে যারা বাংলায় কথা বলে এবং ইসলামী অনুশাসন মেনে চলে তাদের সংস্কৃতিতে বাংলাদেশের মুসলিম সংস্কৃতি বলতে হয়। পয়লা বৈশাখ আমাদের জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপুর্ণ দিন। এদিনটিকে বাংলাদেশের মুসিলম সংস্কৃতি বলাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত। কেননা বঙ্গাব্দ বা বাংলা সাল প্রবর্তনের পেছনে অবদান মুসলমানদেরই। মুসলমানদের প্রয়োজনে মুসলিম সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করেই এর উৎপত্তি।

সাল ও তারিখ গণনার শুরুর ইতিহাস সঠিকভাবে জানা না গেলেও এ কথা বলা যায়, এটা প্রাচীন যুগ থেকে চলে আসছে। আর প্রয়োজনের তাগিদেই এর উৎপত্তি। ইসলামের প্রাথমিক যুগে এ জাতীয় প্রয়োজনেই জন্ম হয়েছিল হিজরি সালের। সে যুগে অন্য কোনো সন গণনা না করে হিজরি সন গণনা করার পেছনে ছিল ধর্মীয় অনুভুতি। হজরত ওমর, (রা.) এর সময় থেকে প্রবর্তিত হয় হিজরি সাল। তখন খেজিস্তানের বাদশা হরমুজান তার থেকে ‘হরমুজ সন’ গণনার প্রস্তাব করে। কিন্তু আলী (রা.) প্রস্তাব করেন হিজরতের দিন থেকে হিজরি সাল গণনা করা হবে। আলী (রা.) এর প্রস্তাবই সবার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়। পরবর্তী সময়ে তা গৃহীত হয় এবং হিজরি সাল গণনা শুরু হয়। ১০০৩ খ্রিষ্টাব্দ মোতাবেক ৬০০ হিজরিতে বখতিয়ার খিলজি বঙ্গ বিজয় করেন। তখন এদেশেও হিজরি সালের গণনা চলে। প্রায় ৩৬৩ বছর পর্যন্ত ভারতবর্ষে এ তারিখের প্রচলন থাকে।

তদানীন্তন সময়ে এ অঞ্চলটি কৃষিনির্ভর। সে সময় জমিতে ফসল উৎপাদনের সময়ের ওপর ভিত্তি করে জমির খাজনা আদায় করা হতো। এ ক্ষেত্রে হিসাব করা হতো হিজরি সালের। কিন্তু হিজরি সাল চন্দ্রমাসভিত্তিক হওয়ায় তা কোনো ফসলি মৌসুম মেনে চলত না। তাই খাজনা আদায়ের হিসাব-নিকাশ সংরক্ষণে গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি হয়। তখন ছিল মোগল বাদশা সম্রাট আকবরের শাসনামল। তার শাসনামলের ২৯ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর এ সমস্যা সমাধানের পন্হা নিয়ে কথা ওঠে। এর আশু সমাধান বের করতে আকবর তার রাজসভার রাজজ্যোতিষ বিজ্ঞপন্ডিত ফতেহউল্লাহ সিরাজীকে নির্দেশ দেন। ফতেহউল্লাহ সম্রাটের নির্দেশ অনুযায়ী সৌরমাসভিত্তিক ফসলি সাল প্রণয়ন করেন। সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ ১৪ ফেব্রুয়ারি মোতাবিক ৯৬৩ হিজরি ২৮ রবিউস সানি। সম্রাটের সিংহাসনে আরোহণের এ স্মৃতিকে চিরভাস্বর করে রাখতে ফতেহউল্লাহ ১৫৫৬ সালের ১১ এপ্রিলকে পয়লা বৈশাখ ধরে ৯৬৩ সনকে মুল ধরে ফসলি সন গননা শুরু করন। ১৫৮৫ খিষ্টাব্দ এই ফসলি সন ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করে। পরবর্তী সময়ে এ ফসলি সনই বাংলা সাল বা বঙ্গাব্দ নাম ধারণ করে। এখানে বঙ্গাব্দের সঙ্গে হিজরি সনের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। ৯৬৩ হিজরিতে জন্মলাভ করে ৯৬৩ বছর ধরে গণনা শুরু অর্থাৎ জন্ম থেকেই বাংলা সালের বয়স ৯৬৩ বছর। তাই হিজরি সনকে বাংলা সনের ভিত্তি বলা চলে। যেহেতু চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষের মধ্যে ১১ দিনের পার্থক্য রয়েছে এজন্য এ দুটি মধ্যে পরবর্তী সময়ে সমতা রাখা সম্ভব হয়নি।

এ থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট যে, বাংলা সনে মুসলিম সংস্কৃতিরই একটি অঙ্গ। সুতরাং পয়লা বৈশাখ উদযাপনও মুসলিম সংস্কৃতি অনুযায়ী হওয়াই
বাঞ্ছনীয়। আনুষ্ঠানিকভাবে পয়লা বৈশাখ পালন করতে হলে ইসলামী সংস্কৃতি ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর চাহিদা অনুযায়ীই করা উচিত। সাংস্কৃতিক ভাবনায় ইসলাম নির্দেশিত নীতিমালা অনুসরণই এক্ষেত্রে যথাযথ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাকার কাকগুলো গেলো কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১০


স্কটল্যান্ড থেকে ২০২৪ সালে ফিরে আসার পর থেকে আমি একটা অদ্ভুত পরিবর্তন টের পাচ্ছি। সকালের শব্দটা যেন অন্যরকম হয়ে গেছে। আমার বার্ডওয়াচার বন্ধুরা বছরের পর বছর ধরে সতর্ক করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুস্থধারায় ফিরছে রাজনীতি; আম্লিগের ফেরার পথ আরো ধূসর হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১০


গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একে অপরের মধ্যে কোথাও কোথাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে এই 'প্ল্যান'-গুলো আমাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর লিস্টে আছে কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



আসসালামু আলাইকুম।
দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিচের বিষয়গুলোর উপর নজর দেওয়া জরুরী মনে করছি।

প্ল্যান - ১
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যেকটিতে গবেষণার জন্যে ফান্ড দেওয়া দরকার। দেশ - বিদেশ থেকে ফান্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !



বাংলাদেশে নূতন ভাবে এই প্রসঙ্গটি আসতে শুরু করছে ।
আমাদের আইনে এই ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু আছে কিনা জানা নেই । তবে বিরোধী দল সংসদে
তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

আমরা ০৯ জিলহজ্জ্ব/০৫ জুন রাত সাড়ে দশটার দিকে মুযদালিফায় পৌঁছলাম। বাস থেকে নেমেই অযু করে একসাথে দুই ইকামায় মাগরিব ও এশার নামায পড়ে নিলাম। নামাযে ইমামতি করেছিলেন আমাদের দলেরই একজন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×