আজ থেকে অনেক বছর পূর্বে সালটি মনে হয় ১৯৯৪, রাতটি ছিল শবে বরাতের আর অনেক শীতের, ছোট বেলা থেকেই দেখে এসেছি এই রাতে নামাজ পড়ার পাশাপাশি অনেকেই আতসবাজিঁ করে আনন্দ করিতে (যদিও ঠিকনা), আমিও নারায়নগঞ্জের উত্তর চাষাড়ার ছোট মসজিদে নামাজ পড়ে ঐ এলাকার কিছু ছেলের সাথে রাত প্রায় ২টায় আতসবাজিঁতে মেতে উঠি, এমন সময় আমাদের সাথের এক ছেলে একটি বোমা, যেটার নাম চকলেট বোমা (ইন্ডিয়ার বানানো আর উঠতি মাস্তানেরা ব্যবহার করে ভীতি সঞ্চারের জন্য) এর রশিতে আগুন দেয়, কিন্তু বোমার মাথায় এসে তা নিভে যায়। আমি সাহস করে বোমাটি হাতে নেই আর ঐ ছেলেকে বলি আমি বোমাটি ধরি তুমি রশির মাথায় আগুন দাও, আগুন দেবার সাথে সাথে তুমি সরে যাবে আর আমিও বোমাটি ফেলে দিব, যেই কথা সেই কাজ, আমি ধরলাম বোমাটি, ছেলেটি মেছের কাঠি দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিল বোমার মাথায়, তারপর আমার আর হুশ নেই শুধুই কেদেঁছি আর বেহুশ হয়েই রয়েছি প্রায় ঘন্টা খানেক, কারন ছেলেটি বোমার মাথায় আগুন দিয়ে সরে যেতে পারলেও আমি বোমাটি হাত থেকে ফেলিতে পারি নাই, যার কারনে আমার হাতেই সেই চকলেট বোমাটি ফেটে গিয়েছিল আমার আর আমি মনে করেছিলাম আমার হাত উড়ে গেছে, যাক ভাগ্যিস আমার হাত বেঁচে গেছে আর আমি আজো সুস্থ পরমকরুনাময়ের কৃপায় এবং পরিবারের সকলের ভাগ্যে কিন্তু সেই যন্ত্রনাময় সৃতি আজো তাড়া করে, যদিও জীবনের শেষ আনন্দ হিসেবেই আমি ঐ দিন প্রতিজ্ঞা করি আর আনন্দের নামে এই ধরনের আতস বাজিতে লিপ্ত হব না আর হইনি আজও, সেদিনের সাধারন একটি চকলেট বোমার আঘাতের কারনে আমি আজো বোমা নামের এই বস্তুটাকে ঘৃনা করি কিন্তু আজকের তরুন প্রজন্ম ককটেল ও পেট্রল বোমা নিয়ে যে ভাবে খেলছে সেটা নিজেদের ভবিষ্যত ধংস করার শামিল, তরুন প্রজন্মের ভাবা উচিত আমাদের পরিবার আমাদের জন্মের পর অনেক সপ্নের জাল বুনে রেখেছেন, আমাদের দ্বারা পরিবারের উন্নয়ন হবে, আমরা পরিবারের জন্য বয়ে আনবো শান্তি কিন্তু আমরা কি করছি রাজনীতি বা দেশ রক্ষার নামে? কেহু নিজেরাই এই ধরনের বোমা মেরে বিরোধীদের নাম দেওয়ার জন্য মানুষ মারিতেছে, কেহু গাড়ী জ্বালাচ্ছে, কেহু জনগনের সম্পদের ক্ষতি করছে কিন্তু লাভটা হচ্ছে কার? ডঃ ইউনুস পেলেন ও পাচ্ছেন অনেক গোল্ড মেডেল তার কৃত কাজের জন্য কিন্তু আমরা এই ধরনের বোমাবাজিঁর জন্য পাচ্ছি নিজেদের লাশ, পরিবারের কান্না ও সপ্ন চূরমার। আন্দোলন কর কিন্তু শান্তি প্রিয় ভাবে, বিরোধী দলগুলোকে মোকাবেলা কর রাজনৈতিক কর্মসূচীর মাধ্যমে, ত্যাগ কর বোমাবাজি। তোমার লাশের পাশে হায়েনারা আসবেনা, যদিও সহকর্মীরা তোমার লাশের প্রতিশোধ নিবার সংকল্পে আরো লাশ ফেলিবে। আইন রক্ষার নামে বা আন্দোলন দমনের নামে নিরিহ মিছিলকারীদের উপর বোমা নিক্ষেপ বা গুলি চালানো আইন প্রয়োগকারীদেরও উচিত, যে কর্তা জনগনের উপর আঘাত করার হুকুম দেয়, সেই কর্তাকে প্রমান সহ গ্রেফতার করে মিডিয়া ও জনগনের সামনে তুলে ধরা, আইন প্রয়োগকারীদের ভুলে গেলে চলিবেনা যে, তারা জনগনের সেবক আর জনগনের ট্যাক্সেই তারা পালিত, তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে দেশ থেকে অন্যায় দূর করার জন্য, অন্যায় করার জন্য নয়।
আলোচিত ব্লগ
ছাতিম গাছের ছায়ায়
১
সূর্যটা আজ যেন আগুনে আগুন। মাথার ওপর তামাটে আকাশ। নিচে তপ্ত পিচঢালা পথ। এই কাঠফাটা দুপুরে একদল কিশোর লক্ষ্যহীন হেটে চলেছে । রনি, রাহাত, ওলি আর আশফাক। তাদের পদক্ষেপে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের ওভারব্রীজ
বেশ অনেকদিন আগের কথা। আমি কোন এক দুর্ঘটনায় পা এ ব্যাথা পাই। হাসপাতালে ইমারজেন্সি চিকিৎসা নেই। কিন্তু সুস্থ হতে আরো অনেক দেরী। সম্ভবত চিটাগাং রোডে (নারায়ণগঞ্জ) এ রাস্তা পার হবার... ...বাকিটুকু পড়ুন
বৈচিত্রে ভরা মহাবিশ্ব, তবে মানুষ কেন একই রকম হবে?

এবার শেখরনগর কালীপূজার মেলায় গিয়ে সন্ধ্যার পর ভাগ্নি আর এক দাদার মেয়েকে বললাম, ‘চল, তোদের অন্য এক জীবন দেখাই।’
সরু গলি দিয়ে ওদেরকে নিয়ে গেলাম পিছনদিকে যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন
আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।