somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিউবা, রিপাবলিক অব কিউবা

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমেরিকার দক্ষিণে মাত্র নব্বই কিলোমিটার ভৌগোলিক দূরত্বে একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। ক্যারিবিয়ান সাগরের মাদকময় ক্যালিপসোর সুর, গাল্ফ অফ মেক্সিকোর সুপ্রাচীন ঐতিহ্য আর আটলান্টিকের বিশালতায় এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে সবার মাঝে বিস্ময় নিয়ে বেঁচে আছে দেশটি।

আনুমানিক সাত হাজার বছর পূর্বে তাইনো, গুয়ানজাতাবেই আর ছিবোনে নামধারী গোত্রভিত্তিক মানুষদের বসবাস শুরু হয় এই অঞ্চলে, আজো প্রায় তিরিশ শতাংশ লোক এই যাদের আমরা আদিবাসী বলি, বসবাস করে এই অপূর্ব দেশটিতে।

দিন বদলায়, প্রকৃতি বদলায়, বদলায় ইতিহাস। এই সহজ সরল প্রাকৃতিক মানুষগুলোর সুখ সহ্য হলো না স্প্যানিশদের। আফ্রিকা লুটপাটে তাদের সাথী তখন ব্রিটিশ, পর্তুগীজ, ওলন্দাজ এবং নাম না জানা লুটেরা বাহিনী। স্প্যানিশরা লাভের বখরা ছেড়ে দিয়ে পাড়ি জমালো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে। দখন করে নিলো এই সুন্দর উর্বর দেশটি।

দাস হিসেবে নিয়ে এলো জ্যামাইকা, গিনি অথবা আফ্রিকার মানুষদের, কারণ লুটপাটের পর সেইসব সামগ্রী ঝেড়ে মুছে রাখতে হলে ইতর, অশিক্ষিত, ছোটলোক তো লাগবে। স্প্যানিয়ার্ডরা সেই যে পনেরোশ শতকে এলো আর গেলো উনিশ শতকের শুরুর দিকে। যাবার আগে সাদা চামড়া বানিয়ে দিয়ে গেলো তিনশত বছরের অধিক দীর্ঘ পথপরিক্রমায়, যাদের সংখ্যা আজ সে দেশের ৬২ শতাংশ।

তবে স্প্যানিশরা এমনিতেই যায় নি। বৈশ্বিক রাজনীতি, আমেরিকাসহ অন্য লুটেরাদের বর্ধিত শক্তির কাছে ম্রিয়মাণ হয়ে, অর্থনৈতিক বিরুপতায় ১৯০২ সালে ২০ মে আমেরিকার কাছে বর্গা দিয়ে স্প্যানিশরা চলে গেলে প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে দেশটি।

পৃথিবীর যে কটি দেশ একটা সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে তাদের মধ্যে এ দেশটি সর্বশেষ। অর্থাৎ অঞ্চলভেদে, উৎপাদিত পণ্যের মাণ অনুযায়ী লাভ-ক্ষতি আর কর নির্ধারণ করা হয়। দেশটিতে চিনি, তামাক আর কফি হচ্ছে জীবিকা নির্বাহের আদিমতম অর্থনৈতিক অবস্থা। তাছাড়া বর্তমানে দক্ষ জনশক্তিতেও এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

মানব উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী জীবনযাপন, শিক্ষা এবং বাৎসরিক আয়ে ল্যাটিন আমেরিকায় অষ্টম স্থান দখল করে আছে দেশটি।

HDI বা হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইন্ডেক্স অনুযায়ী,
মোট চার ধাপে একটি দেশের উন্নতি বিচার্য। জটিল এই সমীকরণে তখনই একটি দেশ সফলতার দিকে এগোয় যেখানে জীবনদৈর্ঘ বেশি, শিক্ষা ব্যবস্থা দারুণ, বাৎসরিক আয় বেশ আর সঠিক পরিবার পরিকল্পনা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত।

ইউএনডিপি (United Nations Development Program) নিয়মিত করেই প্রকাশ করে এ তালিকা। এবারও দেশটি ৬৭ তম অবস্থানে থেকে জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বকে, যে ইতিহাস বদলাতে ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন হয়, মেধার প্রয়োজন হয় আর প্রয়োজন হয় ভালোবাসার। মাঝে মাঝে সেজন্য কঠোর হতে হয়। উন্নতির পথে বাঁধা সরাতে হয় আর সেকাজ করতে গেলে শিরদাঁড়া সম্পন্ন একজন মানুষই যথেষ্ট।

HDI এর তথ্য অনুযায়ী ইউ এস এ ৮ম, স্পেন ২৬তম আর বাংলাদেশ ১৪২তম অবস্থানে আছে এ বছর।

জিডিপির বিচারে ৫৮ তম
জনসংখ্যার দিক থেকে ৭৮ তম
আয়তনের দিক থেকে ১০৪ তম অবস্থানে থাকা দেশটির মাথাপিছু বাৎসরিক আয় প্রায় একুশ হাজার ইউ এস ডলার।

***আপনি নকল করে বারাক ওবামা মায় ট্রাম্প হতে পারবেন, চাইলে ইউনুস আর সুকি'র মতো নোবেলও বাগিয়ে নিতে পারবেন কিন্তু শত চেষ্টা করলেও ওবামার মুখের উপর বলতে পারবেন না 'ইহুদি দালাল', কিংবা ট্রাম্পকে বলতে পারবেন না 'হোৎকা শূয়োর', অথবা ইউনুসকে বা সুকিকে বলতে পারবেন না কেনো কি করে তারা নোবেল বাগিয়ে নিয়ে গেলো।

কিন্তু আপনি চাইলেও ফিদেল ক্যাস্ট্রো হতে পারবেন না, নকল করলেও না। তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নন, তিনি নোবেল লরিয়েট নন। কিন্তু পৃথিবীর মানুষ একসময় বলবে ওবামা অততম প্রেসিডেন্ট ছিলেন, উমুক এততম নোবেল পেয়েছিলেন আর ফিদেল ক্যাস্ট্রো; ইউরোপ আমেরিকার তথা তাবত বিশ্বের মানুষ শতাব্দী পরেও বাচ্চাদের রুপকথা শুনাবে এমন এক মানুষের কথা বলে যেখানে থাকবে কিসিঞ্জার নামক এক দৈত্যকে, আমেরিকার মতো সাম্রাজ্যবাদীদের যিনি পকেটে নিয়ে ঘুরতেন, চুরুটের ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিতেন আর স্বপ্ন দেখাতেন মানুষ তার নিজের দায়িত্ব নিজেরাই নিতে পারে আর সেটা তিনি করেও দেখিয়েছেন।

দেখতে চাইলে একবার ঘুরে আসুন কিউবা, দেখুন রুপকথারা রাস্তায় শিশুরা ঘুরে বেড়ায় লাল স্কার্ফ পরে, দেখে আসুন নিখরচা শিক্ষা ব্যবস্থা বলতে আসলে কি বুঝায়, বুঝে আসুন প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য ১৩০ জন ডাক্তার নিয়ে ল্যাটিন আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থার শীর্ষে কিভাবে উঠে এসেছে দেশটি, শিখে আসুন- যে ইউরোপ আমেরিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ আপনি, আসলে তারা কতটা নিচু, কতটা দুর্বল, কতটা ভঙ্গুর, কতটা লোভী, কতটা অমানুষ।

আর তাই মোহাম্মদ আলি নন, মাইকেল জ্যাকসন নন, কোন দেশের প্রেসিডেন্ট নন, সক্রেটিস কিংবা মার্কস নন - আমাদের হিরো ফিদেল। আমাদের পথ দেখায় ফিদেল ক্যাস্ট্রো।

আর সেই দেশটির নাম কিউবা, রিপাবলিক অব কিউবা।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৩৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×