আমিরুল ও একটি বিলবোর্ড
জামাল উদ্দীন
জল থই থই ঢাকা। ঘরের বার হওয়ার ইচ্ছে থাক দূরে, কল্পনাতেও নেই কারো। এমন ঘনঘোর বরিষা ঢাকাবাসী আর দেখেনি। সাগর উত্তাল। নিম্নচাপের প্রভাব আছে। বৃষ্টি হবে। তাই বলে কি একদম শহরটাকেই তলিয়ে দেবে? ভেবে পায় না আমিরুল। তবু গত কয়দিনে তাই হয়েছে। এমনিতেই বউয়ের চোখে সেরা অলস ব্যক্তি সে। আষাঢ় মাসে আলস্য ধরে বেশি। এবারের বর্ষা সে আলস্যকে আরো বেশি হারে অলংকৃত করেছে। তবে আমিরুলের দু:খ একটাই। এমন বাদল দিনে গ্রামে টিনের ঘরে থাকতে পারলে জল পড়ার সেই ছন্দ সানন্দে উপভোগ করতে পারতো।
আমিরুল যতই দু:খ করুক বৃষ্টির মহিমা এখন আর নগরবাসীর মনে ধরছে না। বরং চারদিকে হইচই শুরু হয়ে গেছে। গত তিনদিনে এক নাগাড়ে বৃষ্টিপাতে খোদ রাজধানী ঢাকা যখন পানিতে ভাসছে, তখন বর্ষার মহত্ব নিয়ে গীত শোনারও অভিপ্রায় নেই কারো। একঘেঁয়েমি ভর করেছে সবার মধ্যে। আমিরুল ভাবে - ভাগ্যিস বাসাটা তেতলায় ছিল। নইলে নীচতলার ভাড়াটেদের মত ছাদেই আশ্রয় নিতে হত। বড্ড ঝামেলার হত তা।
আমিরুল নিজেকে ভাগ্যবান মনে করে আরো একটি কারণে। এমন প্রজন্মের কাতারে পড়েছে সে, যেখানে এই মহাদুর্যোগেও তার নেটওয়ার্কটা সচল আছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবাতাস এটি। ওয়্যারলেস প্রযুক্তির ইন্টারনেট সেবা গ্রহিতা হিসাবে সুযোগটি এমন দুর্দিনে তার বিরাট কাজে এসেছে। শুধু আমিরুলই নয়, ঢাকা শহরের অধিবাসীরা ইন্টারনেটনির্ভর হয়েছে অনেক আগেই। নইলে এখন কি যে উপায় হত!
আমিরুল তার ল্যাপটপে বসে বৃষ্টিস্নাত শহরটা দেখছিল। ওয়েবসাইটগুলোতে নতুন ঢাকার ছবি পোস্ট করা হয়েছে। তাতে শুধু পানি আর পানি। ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশান ও তার পাশে ঢাকার পূর্বদক্ষিণাঞ্চল পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। ওখানে বসতি ছিল এমনটি আর বোঝা যাচ্ছে না।
আমিরুল নিজেকে আরো ভাগ্যবান মনে করে এজন্যে যে, ধানমন্ডিতে নিচতলা পর্যন্ত ডুবে গেলেও ওপরতলাগুলো আর ডুবছে না। বউকে বলল-ভালইতো আছি।
- তুমি ভাল থাকলে কি চলে? আমার মা-বাবার বাড়িটা তলিয়ে গেছে। সেটা নিয়েতো তোমার কোন আক্ষেপও নেই।
আমিরুলের স্ত্রী ফারজানা ববি গৃহিনী। বি,এ পাস করার পর আর পড়া হয়নি। ঘরগেরস্থালির কাজও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই বন্ধনশিল্পে নিজের নৈপূণ্য দেখাতেই বেশি তৎপর। রান্নাবান্না, কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত ফারজানা তার স্বামী আমিরুলকে যতই অলস বলুক না কেন, তাতে কিছু মনে করে না আমিরুল। বউয়ের আবেগ মেনে তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করে। বলে- উনারাতো ভালই আছে। বাড়ি যাই হোক না কেন।
স্বামীর কথায় কান না দিয়ে ফারজানা ববি চলে যায় রান্না ঘরে। আত্মীয়স্বজনের কেউ কেউ তার বাসায় এসে উঠেছে। কেউ উঠেছে তার বোনের বাসায়। আমিরুল আগে থেকেই অতিরিক্ত চালডাল কিনে রেখেছিল। আমেরিকায় পড়াশোনা করার সময় আবহাওয়া বার্তা মেনে চলার কারণেই আগাম প্রস্তুুতি নিতে পেরেছে সে।
স্ত্রী চলে যাওয়ার পর আবারো ল্যাপটপে চোখ রাখে আমিরুল। ফেসবুকে লসএঞ্জেলেস থেকে তার বন্ধু রবার্ট লুইস বার্তা পাঠিয়েছে। আমিরুল তাকে আশ্বস্ত করে ফের লিখেছে কোন সমস্যা হচ্ছে না তার।
আমিরুলের কথায় আশ্বস্ত হতে না পেরে লুইস সরাসরি কানেক্ট হল। বলল, নেটওয়ার্ক কিভাবে ঠিক থাকলো।
- আমরা এখন বিশ্বের আইটি এনাবলিং কান্ট্রির মধ্যে শীর্ষে উঠে এসেছি।
- সত্যিই তাই। এমন ভাল খবরটি প্যাসিফিক সি’র পাশের লোকেরা জানে না কেন?
- তোমরাতো সবসময় ভাবো আমরা গরীব। দুর্যোগের দেশ। আমরা যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও শীর্ষে সে কথা কি জানো?
- সেটা শুনেছি।
- এটাও জেনে রেখো যে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে শীর্ষে আছি।
- শুনেছি তোমার দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন।
- সত্যি শুনেছো। অস্বীকার করছি না। ভালো খবরটাও তোমাদের জানা উচিত। তোমার জানা উচিত যে, আমেরিকার আশি ভাগ ডাটা ট্রান্সফার হচ্ছে বাংলাদেশের কল সেন্টারের মাধ্যমে।
- তোমরা কিভাবে এতদূর এগুলে।
- যেভাবে আমাদের পূর্বপুরুষরা যুদ্ধ করে দেশটি স্বাধীন করেছিল। বাঙালিকে বলা হয় বীরের জাতি। যা চায় তাই করতে পারে।
- ধন্যবাদ। তাহলে বর্ষার দুর্যোগ কিভাবে মোকাবেলা করছো?
- এটি কোন দুর্যোগও নয়। পুরো শহরটা কিন্তুু ডুবে যায়নি। নিম্নাঞ্চল ডুবেছে মাত্র। কারো কারো জন্য এটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সত্য। তবে আমরা ঘরে বসেই এখন সব কাজ করছি।
- যেমন,
- এই ধরো, কেনাকাটা করতে আমাদের বাইরে যেতে হয় না। ই-শপিং আরো দশ বছর আগেই আমাদের দেশে চালু হয়েছে।
- তারপর..
- এক সময় ঢাকাকে বলা হত রিক্সা আর যানজটের শহর। গত দুবছর ধরে রাস্তায় যানজট নেই। কারণ, আমরা অনলাইনেই সবকিছু করছি। বাসায় বসেই অফিস করছি। ই-ফাইল চালাচালি হচ্ছে। ডিসিশন দিচ্ছি ইমেইলে। ইউটিলিটি বিল পে করছি ইন্টারনেটে। খবরের কাগজ পড়ছি ঘরে বসে, পিসিতে। স্বাস্থ্যসেবাতো মোবাইল ফোনে আরো দশ বছর আগেই চালু হয়েছে।
- এ তো দেখছি নীরব বিপ্লব।
- আরো আছে। আমরা হসপিটাল গিয়ে আর রোগি দেখি না। আত্মীয় স্বজনের বাসায় গিয়ে খোঁজখবর নিই না।
- তাহলে
- স্কাইপিতে আমরা কথা বলি, ভিডিও কনফারেন্স করি। শহরের যে প্রান্তেই থাকি না কেন, মনে হয় আত্মীয়স্বজন মিলে একই ছাদের নিচেই আছি।
- ওয়াও..
আমিরুল বুঝতে পারে লুইস কিছুটা ঈর্ষান্বিত কিংবা তার কথা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না। না করার কথাই। তৃতীয় বিশ্বের এই গরীব দেশে বন্যা, জ্বলোচ্ছ্বাসই ছিল প্রধান খবর। প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসাবে খ্যাতি আগে থেকেই। তারপর যোগ হয়েছে দুর্নীতি। কিন্তুু ভাল দিকগুলো বিশ্ববাসী জানে না।
ফারজানা এসে খাবারের কথা বলে গেল। লুইসকে সাইনআউট করলো আমিরুল। আরেকবার শহরটা ঘুরে দেখার জন্য সিটি সাইটে গেল। পানি আটকে আছে। হেলিকপ্টার মহড়া দিচ্ছে। মানুষজন আগেই সরে গেছে তাই ক্যাজুয়ালটি নেই। এখন শুধু অপেক্ষা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে আরো সপ্তাহখানেক লাগবে। তারপর সবাই বাড়ি ফিরে যেতে পারবে। একটি নোটিশও আমিরুলের দৃষ্টি কাড়ে। কেউ যদি হেলিকপ্টারে সিটি ঘুরে দেখতে চায় তবে নৌকাযোগে বাঁশ দিয়ে নির্মিত তিনতলার হেলিপ্যাডে পৌঁছাতে হবে। এই খবরে নড়েচড়ে উঠলো আমিরুল। অনেকক্ষণ ধরে বসা সে। আড়মোড়া ভেঙে উঠতে উঠতে মনস্থির করলো- একবার হেলিপ্যাডে যাই।
বাঁশ দিয়ে নির্মিত হেলিপ্যাডটি ল্যাপটপে ভালই দেখাচ্ছিল। শ্রাবণ টেলিভিশন তাদের উন্নতমানের স¤প্রচার যন্ত্রের সাহায্যে সেই বিশাল নির্মাণযজ্ঞ সরাসরি স¤প্রচার করেছে। লাগসই প্রযুক্তির এই হেলিপ্যাডটিও অত্যাশ্চর্য দর্শনীয় বস্তুু। আমিরুল ঠিক করলো বিকালেই সে যাবে। তাই লগ অন করলো ডব্লিউ ডব্লিউ ডব্লিউ ডট বাংলা নৌকা ডট কমে। নিজের ঠিাকানাটা লিখে বুকিং দিল বিকেল ৪টার। কনফার্মেশন পেয়ে গেল।
বউয়ের আরেকদফা ডাকাডাকি শুরু হয়ে গেলে আমিরুল দ্রুত খাবার টেবিলে পৌঁছে গেল। তার শ্বশুরশাশুড়ি অপেক্ষা করছে। আটজনের ডাইনিং টেবিলে বারো জন বসেছে। অন্য সময়ে খেতে খেতে গল্পগুজব ভালই জমে। আজ তেমনটি হবে বলে মনে হয় না। আমিরুলের মেজাজ ফুরফুরে থাকলেও তাকে দ্রুত রেডি হয়ে হেলিপ্যাডে যেতে হবে। তাই নিজেই কথাটা পেশ করলো।
ফারজানা বলল- যাও, কিন্তুু দেরি করো না। আগে বললেতো আমিও যেতে পারতাম।
আমিরুলের শাশুড়ি মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, এই দুর্যোগের সময় তোর ঘরের বার হওয়ার দরকার নেই।
- কেন মা, দুর্যোগ কোথায়।
- মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না, আর তুই বলিস দুর্যোগ কোথায়।
- এতো তোমাদের সময়কার কথা বলছো। দেখ কারো কোন অভিযোগ নেই। সবাইতো ঘরে বসেই সব কাজ করছে।
আমিরুলের শ্বশুর স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলে, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগ। আগের দিন আর নেই।
একথা সেকথার মাধ্যমে খাবার পর্ব শেষ হয়। সাড়ে তিনটা বাজে। আধাঘন্টা সময় হাতে আছে তাই আমিরুল কিছুক্ষণের জন্য বিছানায় গড়াগড়ি খায়।
ঠিক চারটা বাজার দু’মিনিট আগে আমিরুলের মোবাইল ফোনটা বেজে ওঠে। ফারজানা টেবিল থেকে ফোনটা নিয়ে স্বামীর হাতে দেয়। হ্যালো বলতেই অপর প্রান্ত থেকে উত্তর: স্যার নৌকা নিচে অপেক্ষা করছে।
ফারজানা বুঝে নেয় নৌকা এসেছে। ঈষৎ হেসে আমিরুলকে বিদায় জানায়। তার আগে আমিরুলের হেডফোনের সঙ্গে ক্যামেরার চিপসটা লাগানো আছে কি না, তা দেখে নেয়। এই চিপসের মাধ্যমে আমিরুলের হেলিপ্যাডে ওঠা থেকে শুরু করে আকাশে ওড়ার প্রতিটি মুহূর্ত ঘরে বসেই দেখতে পারবে ফারজানা। ইচ্ছে করলে জরুরী মেসেজও আদানপ্রদান যাবে।
আমিরুল নৌকায় চড়ল ঠিক চারটায়। মিটারে বিল গণণা শুরু হয়ে গেল। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে নৌকাটা চলছে। কম্পাসের সাহায্যে দিকনির্দেশনা পাচ্ছে এই আধুনিক যুগের নৌকা। আমিরুল জানে পুরো কাহিনী। তবু নৌকার মাঝির কাছে বিশদ জানতে চায়। তবে শুরুটা করে এভাবে - দেখুন আগে কেউ কি এরকম ভাবতে পেরেছে? নৌকায় যাচ্চি, অথচ মাঝিকে হাল ধরতে হচ্ছে না।
- সরি স্যার, এই নৌকার মাঝি লাগে না। আমরা এটেনডেন্ড।
- আচ্ছা
- আপনি হয়তো জেনে থাকবেন, গত বর্ষায় ঢাকার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ভবিষদ্বাণী করেছিল যে এবারে বর্ষায় ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে।
- তারপর
- আমাদের কোম্পানির চেয়ারম্যান ইজ্জত আলি গোসাই তখন থেকেই পরিকল্পনা নিয়েছিলেন এমন একটি নৌকা বানানোর। যেটি ঢাকার রাস্তায়, অলিগলি চিনে আপনাআপনিই চলতে পারবে। শুধু গন্তব্যটা বলে দিতে হবে।
- ওর কি কান আছে, বললে শুনবে?
- সরি স্যার, আপনি বুঝুন এটি কম্পিউটার সিস্টেমে চলে। বাটন চেপে গন্তব্যস্থল লিখে দিতে হয়। কোথা থেকে রওনা করছেন সেটিও লিখতে হয়। তারপর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এটি চলবে এবং আপনি পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে।
ঘটনাটা আগে থেকে জানলেও এধরণের নৌকায় এই প্রথম চড়লেন আমিরুল। অভিজ্ঞতা চমৎকার। আমিরুল স্বগতোক্তি করে- এমেইজিং, ইন্টারেস্টিং... থ্যাংকস গড।
গন্তব্যে পৌঁছে আমিরুল আরো বেশি অবাক হয়ে গেল। বাঁশ নির্মিত হেলিপ্যাডটি খুবই দৃষ্টিনন্দন। এর সিঁড়িগুলোও চমৎকার। পেঁচানো সিঁড়ি ধরে আমিরুল উঠে গেল চুড়ায়। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানালো দুজন তরুণী। ধীর পায়ে আমিরুল হেলিকপ্টারে পা রাখলো। তার চিপসটা এখন সচল। এখন থেকে তার সব মুভমেন্ট বাসার কম্পিউটারে রেকর্ড হবে। ফারজানা হয়তো বসে আছে স্বামীর আকাশে উড্ডয়ন সরাসরি দেখার জন্য।
হেলিকপ্টার আকাশে উড়লো। আমিরুল একা নয়, আরো দুজন আছে তার সঙ্গী। এই হেলিকপ্টারে মোট পাঁচজন। একজন পাইলট, একজন গাইড আর বাকি তিনজন যাত্রী। গাইড প্রথমেই নিজের পরিচয় দিয়ে শহর ভ্রমণ শুরুর ঘোষণা দিল।
দু’মিনিটের বেশি লাগেনি। হেলিকপ্টার চলে এসেছে একেবারেই পানির ওপরে। মনে হয় সমুদ্রের মাঝখানে একটি পাখি উড়ছে। কখনো নিচে নামছে আবার উপরে উঠছে। ঠিক যেমনটি পাখিরা মাছ শিকারের সময়ে করে থাকে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কোন পাখি বুঝি মাছ শিকারে ব্যস্ত। এমন ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে হঠাৎ আমিরুলের চোখ আটকে গেল একটি বিলবোর্ডে। ঝুলন্ত বিলবোর্ডটি দেখে তার পুরনো দিনের স্মৃতি মনে পড়ে গেল। এক সময় ঢাকার বাড়ি-গাড়ি, রাস্তার আশপাশে বিলবোর্ডের ছড়াছড়ি ছিল। যা দেখে ব্যঙ্গ করে পত্রিকাগুলো লিখেছিল- মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে। কিন্তুু এই বিলবোর্ডটি কিভাবে এখানে এলো। একেবারেই ঝুলে আছে। হয়তো ঘরে বসে কেউ অত্যাধুনিক ডিভাইসের মাধ্যমে এটি অপারেট করছে।
গাইডের মাধ্যমে পাইলটকে অনুরোধ জানালো আমিরুল। পাইলট বিলবোর্ডটির কাছে চলে গেল। দেখা গেল সব ইমেইল আর মোবাইল ফোন নম্বরে ঠাসা বোর্ডটি। নিচে বড় করে লেখা ‘অন্য বাংলাদেশ হাউজিং কোম্পানি’। এখানে প্লট বুকিং চলছে।
আমিরুল আন্দাজ করতে পারে যেখানটায় প্লট বুকিং চলছে এটি আসলে মধ্যবাড্ডার একটি আবাসিক এলাকা। যেখানে পানির নিচে আছে শত শত বিল্ডিং। তার মনে প্রশ্ন জাগে- ওসব বাড়িঅলা কি বিলবোর্ডটি দেখেছে? হেলিকপ্টার হেলিপ্যাডের দিকে এগিয়ে যায়। আমিরুল ভাবে- খবরটি মনে হয় পত্রিকাঅলাদের নজরে আসেনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


