somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্রিপুরায় রবীন্দ্রনাথ

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১১ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কোন চিৎকার চেচামেছি নেই। নেই কোন বিলবোর্ড, পোস্টারের ছড়াছড়ি। শান্ত পরিবেশ, সুন্দর ছিমছাম রাস্তা। দু’পাশে সবুজ বৃক্ষরাজি। শ্যামলিমার মায়ায় চোখ জুড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের পাশে থেকেই এরা কত পরিচ্ছন্ন। উন্নয়ন কর্মী জাহিদ ছিল সাথে। বলল, এখানে কি মোবাইল কোম্পানি নেই? এইডসের ছড়াছড়িও কি নেই?
জাহিদের হঠাৎ এমন প্রশ্ন অবান্তর মনে হয়। পরক্ষণেই বুঝি ঢাকার সঙ্গে তুলনা করছে সে। ঢাকার শত শত বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ডের কথা বলছে।
আগরতলা ত্রিপুরার রাজধানী। কারো কাছে মনে হতে পারে মোটে একটা জেলা শহর। আখাউড়া পার হওয়ার পরই বোঝা গেছে ভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন রাজ্যে পদার্পণ করেছি।
জাহিদ ঠিকই বলেছে, আমাদের শহরটা বিলবোর্ড, পোস্টার, সাইনবোর্ডের ভার যেন আর সইতে পারছে না। শ্রীহীন করে তুলেছে শহরের সৌন্দর্য্যটাকে। আর এসবে প্রয়োগকৃত ভাষাও কখনো কখনো অশালীন, অরুচিকরও বটে। যদিও শালিনতা আর অশালিনতা নিয়ে একের সঙ্গে আরেকের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে। তবে একথা মানতেই হবে যে, শ্রীহীন করে দেয়, অমানবিক ও মূল্যবোধে ক্ষয় ধরাতে পারে, এমন কোন প্রচারই কাম্য হতে পারে না।
ত্রিপুরার রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে সে কথাই মনে হল। আর সে কারণেই বুঝি ত্রিপুরায় নতুন করে রবীন্দ্রনাথকে আবিস্কার করলাম। রবীন্দ্র রচনাবলীতে মানবিকতা আর মূল্যবোধের যে চিত্র আমরা পাই তাই বুঝি ত্রিপুরাবাসী ধরে রাখতে চাইছে। রবীন্দ্রনাথের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা দেখে মনে মনে বললাম, ধন্যবাদ ত্রিপুরা সরকার। বাংলার মান ধরে রাখতে তোমাদের প্রয়াস অুন্ন থাকুক।
ত্রিপুরায় রবীন্দ্রনাথের স্মৃতির কথা পড়েছি। ত্রিপুরায় রবীন্দ্রনাথ এমন শিরোনামে সাহিত্যপাতায় একাধিক লেখাও পড়েছি। সেই থেকে রবীন্দ্রনাথ ও ত্রিপুরা মনে বিঁধে আছে সমানভাবে। তাই ত্রিপুরা আসার সুযোগ হওয়ায় বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ছিলাম। শুধু রবীন্দ্রনাথই নয়, রবীন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে ত্রিপুরার শাসকদের দীর্ঘদিনের যোগসূত্র ছিল। ১৮শ’ শতকের মাঝামাঝিতে ত্রিপুরার সংকটকালীন সময়ে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী রবীন্দ্রনাথের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাই রবীন্দ্রনাথ ও তার পরিবারের সঙ্গে ত্রিপুরার সম্পর্ক এক ইতিহাসও বটে। এমনকি ত্রিপুরার শাসকদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ পরিবারের এই সম্পর্কের চিড় ধরেনি কখনো। বরং তা দীর্ঘায়িত হয়েছে। এমনকি রবীন্দ্রনাথ আজ নেই, কিন্তুু ত্রিপুরার বর্তমান মূখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার নিজেও রবীন্দ্রনাথের একজন ‘ভক্ত’। আগরতলার রাস্তায় রাস্তায় রবীন্দ্রনাথের বানী ও তার জন্মের সার্ধশত বর্ষের আয়োজন দেখেও তাই মনে হল। ত্রিপুরায় ১৬ জুলাই ২০১০ তারিখে মানিক সরকার উদ্বোধন করেছেন রবীন্দ্র চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর। যেখানে প্রদর্শিত হয় রবীন্দ্রনাথের ওপর সত্যজিত রায়, তপন সিনহা, পুর্নেন্দু পত্রীর নির্মিত ছবি।
ত্রিপুরার বর্তমান সরকারের রবীন্দ্রপ্রীতির আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে- ত্রিপুরা সরকার কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়কে লিখেছে আগরতলা বিমান বন্দরের নাম বদলিয়ে রবীন্দ্রনাথের নামে করা হোক।
রবীন্দ্রনাথ ‘দ্য গ্রেট পোয়েট’, ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন সাতবার। সময়টা ছিল ১৮৯৯ সাল থেকে ১৯২৬। ১৯২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি শেষবার তথা সপ্তমবার ত্রিপুরা সফরে যান। সেই সময়ে তিনি থাকেন বর্তমান গভর্ণর হাউজ(রাজ ভবন), তৎকালীন পু®পভান্ত প্যালেস। এই প্রাসাদের বয়স ৯৩/৯৪ বছর। এখানে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতির অুন্ন রাখতে রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘর ও গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেয় ত্রিপুরা সরকার।
এসব জেনে মনে হলো রবীন্দ্রনাথের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনে একটুকুও কার্পণ্য নেই ত্রিপুরাবাসীর। ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য যোগাযোগ ভাল। ভবিষ্যতে আরো শুভযোগাযোগ হবে এমনটি আশা ব্যবসায়ীদের। কিন্তুু সাংস্কৃতিক যোগাযোগের বলয় সেভাবে গড়ে ওঠেনি ত্রিপুরার সঙ্গে। আমাদের রবীন্দ্রনাথ হতে পারে সেতুবন্ধন। যেখানে আমাদের অতি নিকট প্রতিবেশী ত্রিপুরাবাসী, ভাষা আর ঐতিহ্যে আমাদের সমগোত্রীয়। এমনটি ভাবতে ভাবতে সামনে হাটি আর দেখি, রবীন্দ্রনাথের উদ্বৃতি। যেগুলো তুলে ধরা হয়েছে রাস্তার পাশে। তৈরি করা হয়েছে রুচিশীল বিলবোর্ড। আগরতলা শহর ঘুরেফিরে মনে হলো রবীন্দ্রনাথ যেন ত্রিপুরাতেই আছেন। অবশ্য জীবদ্দশাতেই ত্রিপুরা রবীন্দ্রনাথকে এত কাছে টেনেছিল যে, অনেক গান তিনি লিখেছেন ত্রিপুরায়। এখানকার মানুষকেও ভালবেসেছেন তিনি। লিখেছেন বিসর্জন, মুকুট, রাজর্ষি প্রভৃতি গ্রন্থ। বিপরীতে আজও তিনি আছেন ত্রিপুরার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×