(এক)
ওহে নরগণ, তোমরা করহ শ্রবণ ।
প্রশংসার্হ ব্যাক্তি (নরাশংস) সদা প্রশংসিত হন ।
ওহে কৌরম, রুশম গণের মধ্যে মোরা
ষষ্ঠি সহস্র নবতি পাইয়াছি আমরা ।।
(দুই)
বিংশতি উষ্ট্র টানে শকট যাহার
স্ত্রীগণও সদা থাকে সঙ্গেতে তাহার ।।
ঐ রথচূড়া স্বর্গ ষ্পর্শ না করিয়া ।
সদাই থাকে হে উহা অবনত হইয়া ।।
(৩)
মামহ ঋষিকে তিনি স্বর্ণমুদ্রাশত
দশ স্বর্ণ শিরোমালা, অশ্ব তিনশত
দশ সহস্র গাভী করিয়াছিলেন দান
অতীব তেজস্বী হয় ঐ অশ্বগণ ।।
(৪)
সত্য বিস্তার কর রেভ সত্য বিস্তার কর
পক্ষী যথা গায় শুষ্ক বৃক্ষের উপর ।
কাচির ধারাল দুই ফলকের মত
ঠোট ও জিহ্বা তোমার হউক স্পন্দিত ।।
(৫)
শিকারী-দেখিয়া যেমন শিকারগণ
বলশালী বৃষবৎ করিয়া পলায়ন ।।
গৃহেতে থাকে তাহাদের কেবল বৎসগণ
অপেক্ষা করিয়া থাকে গাভীদের কারণ ।।
(৬)
ওহে রেভ, প্রভুকে প্রার্থনা করে যারা
দৃঢভাবে প্রজ্ঞাকে ধারণ করিয়া তারা
ইহা হইতে-উৎপন্ন উৎকৃষ্ট বস্তু, গাভীগণ ।
পাইবে সতত ইহা প্রার্থনা কারণ
বিলাইয়া দাও ইহা দেবতাদের স্হানে
তীরন্দাজ যথা শর নিক্ষেপের ঠিকস্হানে ।।
(৭)
পার্থিব রাজার কর স্তুতি জয়গান
মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ তিনি দেব হন
সকল জনের তিনি হন পরিচালক
সকলেরে হন তিনি আশ্রয় দায়ক
(৮)
সকলেরে করেন তিনি আশ্রয় প্রদান
সিংহাসনে বসিয়া জগতকে শান্তি দেন
শান্তিস্হাপনের কথা করুবাসী যাহারা
গৃহনির্মাণ কালে বলিতেছে তাহারা ।।
(৯)
রাজার রাজত্ব মাঝে যদি সে রাজন
সকলে করেন রক্ষা, করেন শান্তিস্হাপন
একজন স্ত্রী তাহার স্বামীকে জিজ্ঞাসেন
তাহার সম্মুখে দধি করিবে স্হাপন ।
(১০)
পক্ক যব ফাটল স্হানে উৎপন্ন হইয়া
আকাশের দিকে যায় উন্নত হইয়া
যে রাজা সকলকে করেন আশ্রয় প্রদান
সমৃদ্ধি লাভ করে তাহার প্রজাগণ
(১১)
স্তুতিকারী গায়ককে ইন্দ্র জাগাইয়া দিয়া
চর্তূদিকে লোকদের কাছে দিলেন পাঠাইয়া
ইন্দ্রের মাহাত্ন কীর্তন করিতে বলিলেন
যাহাতে ধার্মিকগণ ইহা জানিতে পারেন
তাহা হইলে ঈশ্বর তারে করিবেন পুরস্কৃত
ইন্দ্রের মাহাত্ন যদি হয় প্রচারিত
(১২)
গাভী, অশ্ব আর মনুষ্যগণ
গুণিতক হারে হেথা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হন
কেননা এখানে শাসন করেন যিনি
অতীব সুন্দর আর উদার তিনি
দানে ও যজ্ঞেতে করেন সহস্র দান
অতীব উদার তিনি অতি দয়াবান
(১৩)
গাভীগুলি হোক দৃঢ়, তাহাদের প্রভুগণ
ক্ষতিগ্রস্ত তাহারা যেন না হয় কখন
ওহে ইন্দ্র, যেন কোন শত্রু ও তস্করে
তাহাদেরে পরাস্ত করিতে নাহি পারে
(১৪)
সেই মহাবীরে মোরা প্রশংসা করিব
সুমধূর গানে যশ কীর্তন করিব
দয়া করি গ্রহণ কর প্রশংসা মোদের
যাহাতে অনিষ্ট নাহি হয় আমাদের
---------------------------শ্রী অমরেন্দ্র নাথ সাহা ; এম এ
১ম মন্ত্রে যে ঋষির প্রশংসা গীত গাওয়া হইয়াছে, তাহার নাম নরাশংস । নরাশংস অর্থ প্রশংসিত , প্রশংসার্হ । মোহাম্মদ অর্থ প্রশংসিত ।
(খ) 'কৌরম' অর্থ দেশত্যাগী । ইহা উক্ত ঋষির দ্বিতীয় পরিচয় । মন্ত্রে উক্ত হইয়াছে যে, দেশত্যাগী ব্যাক্তিকে ষাট হাজার নব্বই ব্যাক্তির মধ্যে দৃষ্ট হইতেছে ।
আমরা ইতিহাসে দেখতে পাইযে, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর যুগে আরব দেশের লোক সংখ্যা ছিল প্রায় ষাট হাজার ।
আরো দেখা যায় যে, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) তাহার মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করিয়া মদীনায় চলিয়া যান এবং সমগ্র আরব দেশের ষাট হাজার মানুষ তাহার সঙ্গে বৈরিতা পোষণ করে ।
সুতরাং নরাশংস -প্রশংসিত ; কৌরম - দেশত্যাগী , উভয় বিষয় হযরত মোহাম্মদ সাহেবের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রযোজ্য হইতেছে ।
২য় মন্ত্রঃ- এই মন্ত্রে উক্ত ঋষির তিনটি পরিচয় প্রদত্ত হইয়াছে ।
(ক) উষ্ট্রে আরোহণকারী হইবেন-
এত দ্বারা সুষ্পষ্টভাবে ব্যক্ত হয় যে, (১) ভবিষ্যতে আগমনকারী ঋষি মরুভূমি দেশের অধিকারী হইবেন এবং (২) তিনি ভারত বর্হিভূত অহিন্দু জাতি হইতে আর্বিভূত হইবেন । কারণ উট মরুদেশ ছাড়া পাওয়া যায়না এবং হিন্দু ব্রাক্ষণের জন্য মনুষ্মৃতিতে উটে আরোহণ নিষিদ্ধ করা হইয়াছে (১১/২০১) । এমনকি মনুসংহিতায় উটের দুধ ও মাংস খাওয়াও নিষিদ্ধ করা হইয়াছে (৫/৮,১১/১৫৭) ।
(খ) তাহার একাধিক স্ত্রী থাকিবেন -
(গ) তিনি রথে চড়ে উর্দ্ধাকাশে ভ্রমণ করিবেন -
এই তিনটি পরিচয়ও হযরত মোহাম্মদ সাহেব সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্ত হয় । তিনি মরূভূমি আরব দেশের অধিবাসী ছিলেন, তিনি জীবনব্যাপী উটে আরোহণ করেন , তাহার একাধিক স্ত্রী ছিল এবং তিনি ঐশীবাহন বোরাকে চড়ে সপ্তাকাশ, স্বর্গসমূহে ভ্রমণ করেন, যাহা মিরাজ নামে খ্যাত । ঐতিহাসিক হিট্টি এই ভাবে বর্ননা দিয়াছেন--
Within this Pri-Hijirah period there are also falls the dramatic ‘isra’ that nocturnal journey in which the prophet is said to have been instantly transported from AL-Kabah to the Jerusalem preliminary to his ascent (Miraj) to the seventh heaven, (History of the Arabs Ch. VIII page 114)
তয় মন্ত্রঃ-(ক) এখানে উক্ত ঋষির আর একটি নাম দেওয়া হইয়াছে, তাহা হইল - মামহ । 'মামহ' সংস্কৃত শব্দ নয়, উহা বিদেশী শব্দ । মামহ আসলে আরবী 'মহম্মদ' এর সংস্কৃত রূপ ।
ঋগ্বেদে ৫ম মন্ডল ২৭ সুক্ত ১০ মন্ত্রে ও মামহ ঋষির উল্লেখ আছে ।
(খ) উক্ত ঋষিকে একশত স্বর্ণমুদ্রা, দশটি হার, তিনশত অশ্ব এবং দশ সহস্র গাভী প্রদত্ত হইবে ।
স্বর্নমুদ্রা, হার, অশ্ব ও গাভী- এইগুলি পার্থিব অর্থে ব্যবহৃত হইতে পারে না । কারণ এই সকল পার্থিব বস্তু লাভের দ্বারা কোন ঋষির মাহাত্ন প্রকাশ পায় না, বরং তাহার পার্থিব-কলুষতাই প্রকাশ করে প্রকৃতপক্ষে এইগুলি অলংকারিক অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে । তাহার শিষ্যগণের মধ্যে আধ্যাত্নিকতা ও ধার্মিকতার ক্ষেত্রে একশত জন স্বর্নমুদ্রা স্বরূপ, দশজন গলার হার স্বরূপ, তিনশতজন ধর্ম-যোদ্ধা অশ্ব-স্বরূপ এবং দশ হাজার জন সততা ও মানব কল্যাণের প্রতীক গাভী স্বরূপ হইবেন ।
হযরত মোহাম্মদ সাহেবের শিষ্যগণের একশত জন সংসার ত্যাগী ও আল্লাহতে সমর্পিত প্রাণ ছিলেন , যাহারা ইতিহাসে 'আসহাবে সুফফা' নামি খ্যাত ছিলেন ।
দশজনকে তাহাদের ধর্মে চরম সফলতার লাভের জন্য এই ইহজীবনেই স্বর্গ-লাভের সুসংবাদ দেওয়া হয় । তাহারা 'আশারা মোবাশ্বারা'হ (সুসংবাদ প্রাপ্ত দশজন ) নামে খ্যাত ।
হযরত মোহাম্মদ সাহেব মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করিয়া মদীনায় আসেন । কিন্তু মক্কার বিপক্ষগণ ৩০০ মাইল দূরে মদীনা আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে একহাজার সৈন্যসহ আগমন করেন । হযরত মোহাম্মদ সাহেব তাহার তিনশত শিষ্যসহ তাহাদের মোকাবেলা করেন এবং সেই তিনশতের বীরত্ব ও বিক্রমে বিপক্ষের একহাজার সৈন্য পরাজিত হয় এবং তাহাদের সত্তর জন নিহত ও সত্তর জন বন্দি হয় । এইজন্য উক্ত তিনশত জনকে ধর্মের ক্ষেত্রে 'অশ্ব' উপাধি দান করা হয় । যাহারা ইতিহাসে 'বদর সাহাবা' নামি খ্যাত আছেন।
হযরত মোহাম্মদ সাহেব অষ্টম হিজরীতে দশ হাজার শিষ্যসহ মক্কাভিমুখে রওনা হন । মক্কাবাসীগণকে সামান্য প্রতিরোধ করার পর নিঃশর্ত আত্নসমর্পন করে । হযরত মোহাম্মদ সাহেব তাহাদের প্রতি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রদর্শন করলে তাহার দশহাজার শিষ্য-সৈন্যগণও সকলের প্রতি উদার ব্যবহার করেন । এইজন্য তাহাদিগকে গাভীর ন্যায় কল্যাণের প্রতীকরূপে চিহ্নিত করা হইয়াছে । ইতিহাসে এই ঘটনাকে 'মক্কা বিজয়' নামে অবিহিত করা হইয়াছে ।
অতএব মন্ত্রের এইরূপ সুসামঞ্জস্য হযরত মোহাম্মদ সাহেবকেই নির্দেশ করিয়াছে ।
৪র্থ মন্ত্রঃ এখানে বলা হইয়াছে, হে রেভ; সত্য প্রচার কর ।
বেদের হিন্দু ভাষ্যকার 'রেভ' এর অর্থ করিয়াছেন যিনি প্রশংসা করেন তথা প্রশংসাকারী । অর্থাৎ রেভ দ্বারা এমন ঋষিকে সম্বোধন করিয়া সত্য প্রচার করার ঐশী আদেশ দেওয়া হইয়াছে, যাহার নামের অর্থ প্রশংসাকারী ।
আহমদ অর্থ প্রশংসাকারী । রেভ উহার সংস্কৃত শব্দ ।
কোরআনে তাহাকে আদেশ দেওয়া হইয়াছে , " আপনা প্রভূর নিকট হইতে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয় তাহা প্রচার করূন ।"
৫ম মন্ত্রঃ- এখানে মক্কা বিজয়ের বর্ণনা দেওয়া হইয়াছে । প্রশংসাকারীর দল প্রভূর প্রশংসা করিতে করিতে চলিয়াছেন আর তাহাদের সন্তানগণ গৃহে তাহাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করিতেছে ।
৬ষ্ঠ মন্ত্রঃ এখানে -ও রেভ ঋষিকে জ্ঞানময় স্তোত্র । (প্রশংসাগীতি) ধারণ করিয়া মানুষের মধ্যে তীরন্দাজের ন্যায় সুনিপূণ ভাবে প্রচার করিতে আদেশ করা হইয়াছে ।
হযরত মোহাম্মদের উপর অবতীর্ণ কোরআনকে 'হাকিম' জ্ঞানময় গ্রন্হ বলা হইয়াছে ।
আশ্চর্য বিষয় যে, কোরআনের প্রথম সূরাটিও প্রভূর প্রশংসা দ্বারা আরম্ভ হইয়াছেঃ" সমস্ত সৃষ্টি জগতের সৃষ্টিকর্তা প্রভূ আল্লাহর সকল প্রশংসা, যিনি অনন্ত করূণাময় পরম দয়ালু ।" (সূরা-ফাতিহা)
৭ম মন্ত্রঃ- এখানে উক্ত ঋষিকে রাজ ক্ষমতার অধিকারী রূপে চিহ্নিত করা হইয়াছে যে, তিনি রাজ সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হইয়া দেশে শান্তি স্হাপন করিবেন ।
হযরত মোহাম্মদ একমাত্র সেই ঋষি ব্যাক্তি, যিনি রাজ সিংহাসনের অধিকারী ছিলেন এবং বিশ্বে সমাচ্ছন্ন 'অজ্ঞতা ও বর্বরতার ' (Time of ignorance and barbarism, Prof. Hitti ch VII) যুগের অবসান ঘটান এবং সমগ্র আরব তথা বিশ্বে সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন । তাহার প্রতিষ্ঠিত ধর্ম ইসলাম, যাহার অর্থ হইল শান্তি ।
এই মন্ত্রে সেই রাজ ঋষিকে বিশ্ব-জনীন বলা হইয়াছে অর্থাৎ তিনি কোন বিশেষ জাতি বা দেশের ঋষি হইবেন না । বরং তিনি হইবেন বিশ্বনবী এবং তাহার শাসন ও পরিচালনা করা সম্ভব হইবে । এই কষ্টিপাথরে যাচাই করলে একমাত্র হযরত মোহাম্মদ সাহেব ও তাহার কোরআন-ই চিহ্নিত হইতে পারে , অন্য কেহ নহে । এই জন্য কোরআনে হযরত মোহাম্মদ সাহেবকে বিশ্বনবী এবং কোরআনকে বিশ্ব-জনীন বিধান (যিকরালীর আলামীন) বলে ঘোষণা করা হইয়াছে , যা বিশ্ব ইতিহাসের কষ্টি পাথরে বাস্তব সত্য রূপে প্রতিষ্ঠিত ও অমর হইয়া আছে ।
৮ম-৯ম মন্ত্রঃ- এখানে ও ঋষিকে রাজারূপে চিহ্নিত করা হইয়াছে । তাহার রাজ্যে এইরূপ শান্তি বিরাজ করিবে যে, একজন কুলবধূ-ও বাজার থেকে নির্ভয়ে দিবা-রাত্র্রি যে কোন সময় দধি ক্রয় করিয়া আসিতে সক্ষম ।
পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র হযরত মোহাম্মদ সাহেবের যুগেই এইরূপ সম্ভব হইয়াছিল । বর্তমান আধুনিক যুগে-ও যা সম্ভব নয় । বর্তমান যুগে দেখা যায় যে, পাশ্চাত্য নারীগন বাহিরে বর্হিগত হওয়ার সময় নিজের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র সঙ্গে নিতে বাধ্য থাকে এবং তজ্জন্য তাহারা অস্ত্র শিক্ষা গ্রহণ করেন । অথচ অত্যাশ্চর্য হইরেও সত্য যে, এখন্র মক্কায় আজান শ্রবণ করার সঙ্গে সঙ্গে নিজ নিজ গৃহ ও দোকান সমূহ খোলা রাখিয়াই মসজিদে নামায পড়িতে ছুটিয়া যান ।
১০ মন্ত্রঃ ৭ম, ৯ম ও ১০ মন্ত্রে উক্ত ঋষিকে 'পরিক্ষিত' নামেও অভিহিত করা হইয়াছে । পন্ডিত খেমচরণ দাস ত্রিবেদী মহাশয় 'পরিক্ষিত' এর অর্থ সর্বপ্রকার ঐশ্চর্যবান রাজা করিয়াছেন । গ্রন্হটি কলিকাতা ন্যাশনাল লাইব্রেরীতে আছে ।
(Call. No 180 Jb, 92,119. (5)
এখানে তাহার রাজত্বে শান্তি ও সমৃদ্ধির উল্লেখ করা হইয়াছে ।
১১শ মন্ত্রঃ এখানে ঋষিকে ৪র্থ মন্ত্রের ন্যায় 'প্রশংসাকারী' বলা হইয়াছে এবং তাহাকে সর্বত্র ঈশ্বরের প্রশংসা প্রচার করিতে আদেশ দান করা হইয়াছে ।
ইতিঃপূর্বে ব্যক্ত হইয়াছে যে, হযরত মোহাম্মদ সাহেবের অন্য নাম আহমদ, অর্থ প্রশংসাকারী এবং কোরআন হইল প্রভূর প্রশংসা গীতি ।
১২শ-১৩শ মন্ত্রঃ এখানে উক্ত ঋষির রাজত্বে জনমানব ও পশু সকলেন উন্নতি ও সমৃদ্ধি ঘটিবে বলা হইয়াছে । হযরত মোহাম্মদ সাহেবের নেতৃত্বে গঠিত ও পরিচালিত মুসলিম জাতি পৃথিবীতে কত সমৃদ্ধি ও উন্নতি লাভ করিয়াছিল তাহা নিঃসন্দেহে বিশ্ব ইতিহাসে উজ্জ্বলতম অধ্যায়, এই কথা জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই স্বীকার করিয়া নিয়াছেন ।
১৪ মন্ত্রঃ এখানে ঋষিকে বীর যোদ্ধা নামে সম্বোধন করা হইয়াছে এবং তাহাকে আমাদের প্রশংসা গ্রহণ করিতে অনূরোধ করা হইয়াছে, যাহাতে আমারা পাপ হইতে রক্ষা লাভ করিতে পারি ।
যোদ্ধা ঋষি আমরা একমাত্র হযরত মোহাম্মদ সাহেবকে দেখিতে পাই । এজন্য ঐতিহাসিকগন তাহার সম্পর্কে লিখিয়াছেন-
The Koran with one hand and the Sword with the other (History of the Arabs, prof Hitti ch XI page 143)
'একহাতে কোরআন, আর অন্য হাতে তলোয়ার ।'
তাহার প্রশংসা করিলে পাপ মোচন হয় এবং পাপ হইতে নিস্কৃতি লাভ হয়, এই বলিয়া কুন্তাপ মন্ত্র সমাপ্ত হইল । (বিদ্রিঃ দরূদ পড়ার ফজিলত অনুরূপ)
অনলাইনে ইংরেজী ভার্সনে মন্ত্রটি এখানে দেখুন
--এছাড়াও
http://saifur.tripod.com/kuntap.html
উৎসঃ----বেদ - পুরাণে আল্লাহ ও হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) - ধর্মাচার্য অধ্যাপক ড. বেদপ্রকাশ উপাধ্যায়, ইসলামী সাহিত্য প্রকাশনালয়, ৪৫, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০.

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

