somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুনো পশ্চিমের কাহিনী- পর্ব ১

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ক্লাস সেভেনে প্রথম পড়েছিলাম সেবার ওয়েষ্টার্ণ- রওশন জামিলের লেখা 'প্রত্যয়'। তার পরপরই পড়ি ওসমান পরিবারের কাহিনী- 'রত্নগিরি'। তারপর থেকে no looking back. পড়ছি তো পড়ছিই। এখন নতুন স্টাইল যোগ হয়েছে, পুরনো বইগুলোর মূল ইংরেজী কালেকশন করি। 'লুই লামুর', 'জেন গ্রে'- এরা এখন খুব পরিচিত নাম আমার কাছে।

খুব ভাল একটা বই হাতে পেলাম, যেখানে সেই বুনো পশ্চিমের বেশ কিছু সত্যি ঘটনা লেখা হয়েছে। সেই সাথে কোন জায়গায় এই ঘটনাগুলো ঘটেছিলো তার বিস্তারিত বর্ণনা। ঘটনার পাত্র-পাত্রীদের সম্পর্কেও আলোচনা আছে। সব মিলিয়ে আমার মত লাইফ টাইম ওয়েস্টার্ণ ভক্তের জন্য সোনার খনি বলা যায়। ঠিক করেছি পড়বো আর ব্লগের জন্য অনুবাদও করে দেবো।

জায়গার নাম: হোল ইন দ্যা ওয়াল
স্টেট: অ্যারিজোনা
ডিস্ট্রিক্ট: পিমা


‘হোল ইন দ্যা ওয়াল’ মূলত: একটা গুহা যা ‘কলোসাল কেভ’ নামেও পরিচিত। রিনকন পর্বতে অবস্থিত এই গুহাটি ছিলো খুবই সুরক্ষিত জায়গায় অবস্থিত। পানি আছে, সেই সাথে প্রচুর খাবার দাবার মজুত করার জায়গাও আছে। ঠিক ঠাক মত পাহারা দিলে কয়েক সপ্তাহ ধরে অবরোধ করলেও কোন লাভ হবেনা। এক চালাক আউটল দল ঠিক করলো এই গুহার যথাযথ ব্যবহার করবে।

১৮৮৪ সাল। সাউদার্ন প্যাসিফিক রেলওয়ের একটি ট্রেনে ডাকাতি হলো। ডাকাতের দল ট্রেনে থাকা ৬২ হাজার ডলার লুট করে নিয়ে গেল। তারপর আশ্রয় নিলো ‘হোল ইন দ্যা ওয়াল’ গুহায়। কাছের শহরের শেরিফের নেতৃত্বে গঠিত পসি ৩ সপ্তাহ ধরে অবরোধ করে বসে রইলো গুহার মুখে কিন্তু ডাকাতের দল ধরা দিলোনা।

যে কোন বিচারেই তিন সপ্তাহ অনেক সময়। আউটলয়ের দল দেখলো যে এই পসি তো নাছোড়বান্দা। তাই তারা বিকল্প পথে গেলো। তাদের জায়গা বাছাইটা সত্যিই পারফেক্ট ছিলো কারণ ‘হোল ইন দ্যা ওয়াল’ এর একটা গোপন বের হবার পথ ছিলো। পথটা হচ্ছে ঢোকার মুখ থেকে ১ কিলোমিটার দূরে, গুহা থেকে আরো ৪০ গজ উপরে ক্যাকটাসে ছাওয়া সরু একটা চিমনীর মত মুখ। সেখান দিয়ে লুটের মাল নিয়ে ৪ ডাকাত বের হয়ে গেল অবরোধকারী পসির সম্পূর্ণ অজান্তে। একে তো এতগুলো টাকা সফল ভাবে লুট করার আনন্দ, তার সাথে ধাওয়াকারী পসির কাছ থেকে বেঁচে যাওয়া। আউটলরা নিজেদের আর ধরে রাখতে পারলো না। কাছের ছোট শহর উইলিকক্সে গিয়ে মদ খাওয়ার উতসবে মেতে উঠলো।...............এবং সেটাই কাল হলো তাদের।

কেউ একজন গিয়ে খবর দিলো গুহার মুখে তখনো অপেক্ষারত পসি বাহিনীকে। আর যায় কোথায়? রুদ্ধশ্বাসে তারা ছুটলো উইলিকক্সের দিকে। ৪ ডাকাতের ৩ জন ঘটনাস্থলেই গুলি খেয়ে মারা গেল। বেঁচে যাওয়া একমাত্র আউটল ফিল কার্ভারকে বিচারের মুখোমুখি করা হলো।

২২ বছরের যুবক কার্ভার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক কথাই বলে গেল- সে গুহার মুখ পাহাড়া দিয়েছে। তার অপর ৩ সহযোগী (ইতিমধ্যেই নিহত) লুট করা সোনা কোথায় লুকিয়েছে তা সে জানেনা। শেষ পর্যন্ত বিচারক তাকে ২৮ বছরের সাজা দিলেন।

ইউমার জেল থেকে ফিল কার্ভার ছাড়া পেল ১৮ বছর পর, ভগ্ন সাস্থ্যের কারণে। আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকজন তক্কে তক্কে ছিলো। ছাড়া পাওয়া মাত্র তার পেছনে লোক লাগানো হলো। কিন্তু কার্ভার ঘাগু লোক, ১ সপ্তাহ পরেই তার আর কোন হদিস পাওয়া গেলনা। বেশ কিছু গুজব এদিক ওদিক থেকে শোনা যেতে লাগল- কেউ বলে তাকে মেক্সিকোতে দেখা গেছে, আবার কেউ বলে ইংল্যান্ডে। কিন্তু কিছুদিন বাদেই খবর আসলো তাকে টাকসনের উত্তরে রিংকন পাহাড়ের কাছে শেষ দেখা গেছে, অর্থাত সেই পুরনো ডাকাতির জায়গার কাছাকাছি। পুলিশ হন্ত দন্ত হয়ে ছুটলো। ‘হোল ইন দ্যা ওয়াল’ এর ১২০ ফুট লেভেলে গিয়ে পাওয়া গেল কেবল ৩ টা খালি ক্যানভাসের ব্যাগ। ভেতরের সোনা হাওয়া! কার্ভারের টিকিরও কোন খবর নেই।

ঐতিহাসিক (!!) এই গুহা এখনো প্রায় আগের মতই আছে। তবে ১৯২০ সালে এক মৃদু ভূমিকম্পে গুহার বের হবার পথটা আংশিক ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

নোট: লুই লামুরের লেখা 'ফ্লিন্ট' নামের উপন্যাসে ‘হোল ইন দ্যা ওয়াল’ এর উল্লেখ আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:০৯
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×