
একজন পাঠক লিখেছেন- বইটি পড়া শেষ হলে আমার মত অনেকেই ধাক্কা খাবে এবং প্রচন্ড ভাবে বিষন্নতায় ভরে যাবে মন। কিছু কিছু বই আছে যেগুলো পড়ার পর কোন কিছু আর ভাল লাগে না, প্রচন্ড আবেগে চারিদিক অন্ধকার হয়ে যায়। কাজুও ইশিগুরোর নেভার লেট মি গো উপন্যাসের কাহিনীটি সেধরনের একটি কাহিনী। বইটি পড়ার সময় আমার আশে-পাশের সব কিছু আমি ভুলে ছিলাম। বইটি শেষ না-করে কিছুতেই নামাতে পারছিলাম না হাত থেকে। নিজের সাথে যুদ্ধ করেছি চোখের পানি আটকানোর জন্য অনেক বার। অনেকদিন পর কোন বই আমার এতো ভাল লাগল। শুরু থেকে কাজুও ইশিগুরো আমাকে বিষন্নতার চাদড়ে মুরিয়ে রেখেছিল, কি জানি হাড়িয়ে ফেলছি টাইপের অনুভুতি কাজ করেছে উপন্যাসটির শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। উপন্যাসটিকে অনেকে বলেন সাইন্স ফিকশন, আমি বলবো বেদনাদায়ক এক ত্রিভূজ প্রেমের উপন্যাস। সাইন্স ফিকশন টাইপের কনো কিছু এই গল্পটিতে পাওয়া যাবে না। বরং এই গল্পটিতে আছে মানুষের গল্প, কিছু সুন্দর সম্পর্কের গল্প, বিজ্ঞান ও নৈতিকতা নিয়ে পরীক্ষার গল্প। এই উপন্যাসটি নিয়ে আসলে বেশি কিছু লিখার নেই। উপন্যাসটি পড়ে অনুভবের ব্যাপার, আর এই বইয়ের মূল সোন্দর্যই এটা। একটি বোর্ডিং স্কুলে অসংখ্য বাচ্চাকে বড় করা হচ্ছে।এই বাচ্চাগুলো জন্ম নিয়েছে অন্য কারো ক্লোন থেকে। তাদেরকে লেখা-পড়া শিখিয়ে সুন্দর জীবন-যাপনের সুবিধা দিয়ে বড় করার একটি মাত্র কারন, তারা পূর্ণ বয়স্ক হয়ে উঠবার পর তাদের সকল অঙ্গ দান করে তাদের ডিএনএর উৎসকে দীর্ঘ জীবন দান করতে পারে। একদল মানুষ নিজের বিকল হতে পারে এমন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এদের জন্ম দিয়েছে। কাজুও ইশিগুরোর লেখা নেভার লেট মি গো বইটি না পড়লে জানতেই পারতাম না বিষন্নতার এত রুপ।
কাজুও ইশিগুরোর নেভার লেট মি গো-এর বাংলা অনুবাদ করেছেন কবি হাবীব কাইউম। একুশে বইমেলা ২০১৮-তে বইটি আসছে ইনভেলাপ পাবলিকেশন্স থেকে।
রকমারি- প্রি-অর্ডার লিঙ্ক- Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




