somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জাতীয় কতৃপক্ষ
আমি ভীষণ রকমের হিসেবী কিন্তু কিপ্টা না, সময় বদলায়, মানুষ বদলায় কিন্তু আমি বদলাই না। প্রেম, পাপ, সফলতা ও মৃত্যু এবং অন্যের সংসার নিয়ে ক্যান জানি আমার ব্যাপক চিন্তা হয়।

হিংসার পৃথিবীতে রূপকথা-অবসেশন।

০৮ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শৈশবের প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে কিছু জ্ঞান আমাকে হতাশ করেছিলো। চোখের সামনে থেকে সরে যাচ্ছিলো যবনিকা, আকুল চেষ্টা করেও পর্দার এই অবশ্যম্ভাবী উন্মোচন আমি ঠেকাতে পারিনি।

সোনার কাঠি, রুপোর কাঠি বদল করে দৈত্যের প্রস্তরপ্রাসাদে বন্দিনী রাজকন্যার ঘুম ভাঙানো যায় না; আদতে এমন কোনো রাজকন্যাই নেই, - এটা জানতে পারাটা ছিলো পৃথিবী ধ্বসে পড়ার মতোই। প্রাসাদসংলগ্ন তালপুকুরে ডুব দিয়ে কৌটো তুলে এনেছিলো যে ডালিমকুমার, তার জায়গায় নিজেকে দেখতে কি সাধ যায়নি? ইচ্ছে কি করেনি কৌটো থেকে কালো ভ্রমরকে হাতে নিয়ে একটি একটি করে তার হাত-পা ছিঁড়ি আর প্রাণসংশয় হোক দৈত্যের ? কালো ভ্রমরের উপমা ছিলো আরেকটি জায়গায়।

রাজকন্যার চোখ যেন কালো ভ্রমর, চুল তার শাওনের মেঘ, আপেলের মতো লালচে তার গাল। এমন উপমাদেবী কি কেবল কল্পনার হতে পারে?

চাঁদের বুড়ি নিয়ে স্থির নিশ্চিত ছিলাম। ওখানে সে কেবল চরকা কাটে আর রাশি রাশি তুলো জমায়। এ তুলো দিয়ে কি করে সে? তখন মনে পড়ে সেই সুয়োরাজকন্যা আর দুয়োরাজকন্যার গল্প, যাদের উঠোনে বিছিয়ে দেয়া তুলো ঝড়কে পাঠিয়ে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিলো চাঁদের বুড়ি। তারপর?

দুয়োরাজকন্যা গেল চাঁদে, চাঁদের বুড়ির ঘরকন্না করে দিলো পরিপাটি করে, রেঁধে দিলো পঞ্চব্যঞ্জন, ধুয়ে দিলো বুড়ির শাড়ি; তবেই না রাজকন্যা তুলোর বদলে বুড়ির কাছ থেকে হীরা-মাণিকের গয়নার বাক্স পেলো অনেক অনেক, আর শেষ বাক্সটি খুলে পেলো কান্তিমান রাজপুত্রকে। চাঁদ আছে, কিন্তু চাঁদের বুড়ি নেই, চরকা নেই, চাঁদে কেবল খাঁখা পাথুরে শূন্যতা- এইসব জেনে শোকগ্রস্ত হয়েছিলাম- এটা মনে পড়ে।

আর কিছুদিন পর ফেলুদাই আমাকে আচ্ছন্ন করেছিলো। ভাবতাম বাস্তবের একটি চরিত্র। জটায়ু ওরফে লালমোহন গাঙ্গুলী রোববার সকাল হতেই আচার্য রজনী সেনের বাড়ির দুয়ারে তাঁর এম্বাসেডর নিয়ে হাজির হয়ে যান, আর চা-ডালমুট সহযোগে চলতে থাকে থ্রি মাস্কেটিয়ার্সের জম্পেশ আড্ডা- এ নিয়ে নিশ্চিত ছিলাম।

বছর চারেক আগে সিমলা যখন যাই, ফিসফিসিয়ে বলে উঠেছিলাম- 'বাক্স রহস্য!' কলকাতার রাস্তায় হেঁটে মনে হয়েছিলো- এই রাস্তা দিয়েই হয়তো ফেলুদা ধাওয়া করেছিলো শেয়াল-দেবতা আনুবিসের মূর্তি-চোরকে। যাইনি এখনও, তবে যদি কোনদিন অজন্তা-ইলোরার গুহা দেখতে যাই, চোখ খুঁজবে যক্ষীর মাথা-চোরকে কিংবা সানগ্লাস-পরা ঢ্যাঙা কোনো ইউরোপীয় ট্যুরিস্টকে দেখে মনে হবে- ছদ্মবেশে প্রদোষ সি. মিটার ওরফে ফেলুদা নয়তো?

কাশীতে পা দিলে আমি জানি- গায়ে ছাইভস্মমাখা সাধুবাবাকে দেখলেই মছলিবাবাকে মনে পড়াবে, আর কাশীর গলিতে দেয়ালে বরকন্দাজের ছবি আঁকা মগনলাল মেঘরাজের বাড়ি খুঁজে বেড়াবেই আমার চোখ।রূপকথাই আসল কথা, ওতে মিথ্যে নেই।

মগজে আর হৃদয়ে যা আছে, তার চেয়ে দৃশ্যমান, প্রচলিত অর্থে বাস্তব কিছু অধিক বাস্তব হয় কি করে? সব কিছু জেনেও এমন ভাবতে সুখ পাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১০:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×