রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১১-১২ সালের বাজেট পাশ হয়েছে। এবারের বাজেটের পরিমাণ ১৪৮ কোটি ৫০ লাখ। এর মধ্যে গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৭০ লাখ টাকা। যা কিনা মোট বাজেটের দশমিক ৪৭ ভাগ। এই যদি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের অবস্থা। আর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যদি দশমিক ৪৭ ভাগ বরাদ্দ রেখে বিশ্ববিদ্যালয় বাজেট পাশ করে তাহলে তাদেরকে কি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ বলে ধারণা করতে পারি। দেশপ্রেম থাকলে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসের এমন পায়তারা করতে পারে।
একটি দেশে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয় সেদেশের জ্ঞান বিজ্ঞানের সমৃদ্ধির জন্য। সেখানে গবেষণাই মুখ্য। কিন্তু এখন মনে হয় গবেষণা নয় কিছু সার্টিফিকেট বিক্রয় করা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কাজ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে ছাত্রটি বের হচ্ছে তার কাজের পরিবেশই আমাদের দেশে নাই। তাকে কাজে সন্ধানে দেশের বাইরে চলে যেতে হচ্ছে। আমার দেশের টাকা খরচ করে বিদেশের মাটিতে কর্ম উপযোগী করে লোক তৈরি করা হচ্ছে। যা কখনও কাম্য হতে পারে না। এ যেন ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত।
বর্তমান সময়ে ৭০ লাখ টাকায় কি গবেষণা হতে পারে? আবার কয়টাই-বা গবেষণা হতে পারে। কতজনই বা গবেষণা করেত পারে। এধরণের বাজেট দিয়ে গবেষণার পরিবেশকে রুদ্ধ করা হচ্ছে। বিদেশী দালাল না হলে এধরণের কাজ কেবল গণ্ড মূর্খ ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব। কিন্তু সমাজের যে স্থান থেকে এ সিদ্ধান্ত সমূহ নেওয়া হচ্ছে, সেখানে মূর্খ ব্যক্তির পক্ষে যাওয়া সম্ভব না। মোট কথা তারা জ্ঞানপাপী। আর বিদেশীদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে ও আমাদের দেশের স্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে আমরা ইউজিসিকে সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া একটি প্রতিষ্ঠান রূপে চিহ্নিত করতে পারি।
দিনে দিনে মীরজাফরদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্ত কখনই সফল হবে না। আর নীতিনির্ধারকদের বলতে চাই ভণ্ডামি বাদ দেন। আপনাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইনা। দেশের স্বার্থ বিরোধী কোন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। শিক্ষার বাণিজ্য-করণ বন্ধ কর, করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

