somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার নববর্ষ

১৪ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[চলতি পথের বিভিন্ন মুহূর্তে মুঠোফোনে জমানো ক্ষুদেবার্তা থেকে সংকলিত]

পথের শুরুতেই আমার ক্যাম্পাস-বুয়েট শহীদ মিনার,ক্যাম্পাসের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে থাকা বেশ কিছু রঙ – লাল,গোলাপী,সাদা।ক্যাফেটেরিয়া,লাইব্রেরি আর আর্কির সামনে আরো রঙ – RAG কর্নারে চেনা কিছু মুখের অচেনা উজ্জ্বলতা...
[বেলা ১১:৪০]
শহীদ মিনারে – খেলাঘর আয়োজিত শিশু উৎসব, কোরাসে “আমি হব সকালবেলার পাখি”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেষজ উদ্ভিদ বাগানের (medicinal plant garden) আধফোটা সাদা-গোলাপী পদ্মফুল..
পুরো রাস্তায় ছড়ানো বাংলালিংক – এর ভুল বানানে লেখা..”মুছে যাক গ্লানি,ঘুচে (ঘুঁচে) যাক জরা”
[বেলা ১১:৫১]
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান – উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্ট,আর নাগরদোলায় বাচ্চাদের চেয়ে বড়দের বেশি উল্লাস..
কালীমন্দিরের সামনে জলশূন্য পুকুরটিতে বিসর্জিত প্রতিমা...দুটি মেয়ের ছুটে বেড়ানো ফুটিফাটা অতীত পুকুরের মাটিতে।তবুও কচুরিপানার মাঝে সেই বিচিত্র কচুরিপানার ফুল..আর পুকুরের সীমানা ঘিরে খয়েরী,গোলাপী,আকাশী আর জাম রঙা ফুল...
[দুপুর ১২:১২]
বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা জুড়ে সেই মেলা-যা কদিন আগে বইমেলাতেও ছিল...হুইসেল বাঁশি আর ডুগডুগি,আর মাঝে মাঝে বাঁশি বিক্রেতার প্রতিভার বাঁশের বাঁশি...রঙিন পানির উড়ন্ত বুদবুদ...
আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটে বাউল গান...
শাহবাগের পথে – লাল,গোলাপী,সাদা আর আনেক রঙে..খেলনা আর পৃথিবীতে নিজের সবচে’ প্রিয় মানুষ – বাবা,মা কিংবা অন্য কেউ – হাত ধরে হাসিমুখে অথবা ভীরু চোখে হেঁটে যাওয়া ছোট্ট ছেলেমেয়েরা...
[দুপুর ১২:৩০]
চারুকলা – অনন্য এক প্রদর্শনী দেখলাম..আয়না প্রদর্শনী...সেইসাথে জলে ভেজানো ফুলের পাপড়ি – সব ফুল যা আজ বাইরে ফুটে আছে..
অবশেষে বৃষ্টির ফোঁটা - শুধু একটি দুটি মাত্র...
ময়ুরের পাখা হাতে এক বিদেশিনী..
পাবলিক লাইব্রেরির সেই বিশাল সিঁড়িতে – তিন-চার জন যুবকের প্রাণের আনন্দের একতারা,ডুগডুগি আর গান...
[দুপুর ১২:৪৩]
জাদুঘরের সামনে – মাথায় বাক্স আর হাতে অনেক খেলনা পাখির খাঁচা নিয়ে এক বৃদ্ধের নববর্ষ...
[দুপুর ১২:৪৯]
শাহবাগ মোড়ে ক’জনের হাতে খাঁচায় বন্দী এবার সত্যিকারের পাখি...
হঠাৎ পাওয়া প্রিয় এক পেয়ালা দই...
‘অস্তাচল’-এর পথ দিয়ে প্রবেশ করা রমনা পার্কে – বয়ে চলা খোলা পুকুর..একফোঁটা জলের মত নাম-না-জানা টাওয়ারটিতে কার যেন হৃদয়ের আবেগ ফুটে আছে কাঁটাবেঁধা হৃদয়ের স্কেচে..
আরো একটি খোলা কনসার্টে এবার লালন...
[দুপুর ০১:০৮]
‘রবি’-র কনসার্টে...”আমি অপার হয়ে বসে আছি – ওহে দয়াময়..’পারে লয়ে যাও আমায়”...সাথে গাছের ডালে ওঠা আগ্রহী জনতা এবং মাটিতে পড়ে থাকা একটি ভাঙা ডাল...
শাহবাগের চির পুরাতন অথচ চির নূতন – ফুলের মেলায় স্বর্গীয় সুগন্ধিতে হারিয়ে যাওয়া...
[দুপুর ০১:৩৬]
ফুটপাতে পড়ে থাকা একপাটি ছোট্ট স্যান্ডেল – কখনো বেখেয়ালে হারিয়ে যাওয়া একটি শিশুর পা থেকে..ভীড় তো খুব...
অবশেষে মাটির সানকিতে পান্তা ইলিশ...
মন ভাল করে দেওয়া একটি দৃশ্য...
[দুপুর ০২:০৩]
একটি পথশিশুর আজকের পাওয়া – মাটির সানকির বিরিয়ানির আস্বাদ..কৃতজ্ঞতা সেই মেয়েটির প্রতি যে এটুকু দিতে পারে এই শিশুটিকে..
উড়িয়ে নেবার মত বাতাস...আর হাতের ছোট্ট লাল ওড়নাটি মেলে ধরে একটি ছোট্ট মেয়ের উদাস দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা...
[দুপুর ০২:১১]
আমার বাংলার স্বাধীনতার একটি সংক্ষিপ্ত ছবি - সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সেই নাম-না-জানা দেয়ালচিত্রের মত ভাস্কর্যটির সামনে ছোট্ট ছাতা হাতে ছোট্ট দুটি পায়ে হেঁটে যাওয়া একটি শিশু...আর কাক-শালিকের মেলা... আর কিছু তারুণ্যে উদ্দাম উল্লাসের হুইসেল...
গালে নীল প্রজাপতি আঁকা একটি ছোট্ট মেয়ের ইতস্তত ঘুরে বেড়ানো...
আর-ও সব দৃশ্যপট...ক্যামেরায় নয়,কথায় বন্দী করে আমার হেঁটে চলা...
হাওয়ায় ওড়া আমার পতাকা..আর চিরন্তন যজ্ঞকুণ্ডের মত ‘শিখা অনির্বাণ’...
[সঠিক সময় লেখা নেই]
স্নান করা লাগবে,তাই ফেরার পথে যাত্রা শুরু..ডাইনিং এ আজ খাওয়া লাগবে না...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এতক্ষণ কাটানো হল যে ঢোকা আর বেরোনোর পথটা খেয়াল নেই..যাইহোক,এবার TSC হয়ে রুমে ফেরার পালা..
পথে হঠাৎ - হরিণের চামড়ার কোমরবন্ধ,মাথায় পাখির পালক আর হাতে তীর-ধনুক নিয়ে এক আদিবাসী শিকারী...
TSC তে বিশাল জনতার সামনে কনসার্ট... “তোমরা কেউ কি দিতে পারো-প্রেমিকার ভালবাসা” ... তুমুল ভীড়,আর মাঝে মাঝে জলোচ্ছ্বাসের মত ধাক্কার প্রবাহ...
[সঠিক সময় লেখা নেই]
অতঃপর আমি ক্লান্ত...দৃশ্যগুলো ক্লান্তির নয় বটে – তবে সারারাত জেগে থাকা আর নাস্তা না করেই মাঝবেলায় চোখ জুড়ে থাকা ঘুম তাড়িয়ে বেরিয়ে পড়া,উপরন্তু এতটা পথ হেঁটে বেড়ানো..শারীরিক ক্লান্তির কারণ হয় বই কি!
[সঠিক সময় লেখা নেই]
ক্যাম্পাসের পথে – খেলনা হরিণ,পরী,মাছ আর ময়ুরের পাখা..এসবের পসরা সাজিয়ে রাস্তায় বসেছে এক লোক..
[সঠিক সময় লেখা নেই]
অবশেষে আমার ক্যাম্পাস...। আর্কির পেছনে একটি সুন্দর দৃশ্য..একটি মেয়ে হাতের ব্যাগটা ছুড়ে মারছে একটি ছেলের দিকে...বখাটে নয়,হয়ত বয়ফ্রেন্ড-ই হবে।
দুপুর গড়িয়ে একটি সুন্দর বিকেলের প্রতিশ্রুতি...অথচ আমি কী করব বিকেলটায়?হয়ত ব্লগে বসে এই দিনলিপিটা লেখা,অথবা হাঁটার ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়া..আমি আসলেই,একেবারে অসময়ের মানুষ – সকালের বৃষ্টিটা পর্যন্ত মিস করেছি...
[বেলা ০৩:৪৫]

** ফলো-আপ: আসলেই তাই..বিকেলটা ঘরেই তো কেটে গেল...

বিঃদ্রঃ – নববর্ষ কাটানোর আমার এ স্টাইলটা অবশ্যই তাদের জন্য নয় যারা একাকিত্ব সহ্য করতে পারে না...আমি একা থাকতেই বেশি ভালবাসি,আর হাজার মানুষের ভীড়েই বোধহয় আমি সবচে’ বেশি একা থাকতে পারি...আবার একাও তো থাকি না – নিজকে নিয়ে থাকি,আর কত মানুষ দেখি!
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×