মাঝে মাঝে আকাশ ছুঁতে ইচ্ছা করে।
কোনো বহুতল বাড়ির ছাদ থেকে নয়,
মাটির উপর থেকে -
নরম ঘাসের উপর শুয়ে
হাত বাড়িয়ে সাদা মেঘ স্পর্শ করতে ইচ্ছা করে।
কিছুদিন ধরেই মনে হচ্ছে-
আকাশটা অনেক দূরে,নাগালের বাইরে হারিয়ে যাচ্ছে।
কেন জানি মনে হচ্ছে -
কখনো যেন সে হাতের কাছেই ছিল।
তার কাছে থাকার অনুভূতিটুকু স্পষ্ট নয় -
ঠিক কবে,কেমন করে সে কাছে ছিল - মনে নেই।
কিন্তু এখন তাকে হারিয়ে ফেলার অনুভূতিটা প্রচণ্ড।
মনে হচ্ছে - কাছে পেয়েও ধরে রাখতে পারি না।
যে মেঘের ভেলা চাইলেই ছুঁয়ে ফেলা যেত,
আজ সেই সাদা মেঘ অনেক দূরে হারিয়ে যাচ্ছে-
আমার স্বপ্নের আকাশটা আরও উপরে চলে যাচ্ছে।
কিন্তু তবুও,
মাঝে মাঝে আকাশ ছুঁতে ইচ্ছা করে।
আমার সেই পাখিটার কথা মনে পড়ে
যে আকাশ ছুঁতে চেয়েছিলো।
কোন এক বর্ষার দিনে -
অনেকদিন ধরেই সে ভাবছিলো,
চেষ্টা করছিলো মেঘ ছোঁয়ার।
কিন্তু তার ছোট্ট ডানায় -
সে শক্তি আসছিলো না - (দূরের) সাদা মেঘ ছোঁয়ার।
কোনো এক বৃষ্টির দিনে -
আকাশটা অনেকটাই নিচে নেমে এসেছিলো,
কালো মেঘ তো জলের ভারে পৃথিবীর দিকেই (নেমে) আসবে!
পাখিটার খুশি আর ধরে না -
আজ অনেকদিনের স্বপ্ন তার পূরণ হবে।
কিছুতেই সে হারতে পারে না!
মাত্র এটুকু উচ্চতায় আকাশ -
অবশ্যই সে আজ ছুঁয়ে ফেলবে তাকে।
আকাশ তাকে প্রবঞ্চণা করেছে -
পাখিটি বুঝতে পারে নি।
কালো মেঘে বিজলী চমকায় -
পাখিটি বিদ্যুতের শক্তির ভয়ে ভীত হয়নি।
তার স্বপ্ন ছিল আকাশটা ছোঁয়ার,
আর কেউ যখন স্বপ্ন দেখে -
সে কখনোই খারাপ (পরিণতির) দিকটা দেখে না।
এইতো আর একটুখানি -
আর মাত্র কয়েকটা ডানা ঝাপটানি,
তারপরেই মেঘের ওপারে আকাশ!
কালো মেঘে আগুন রঙ বজ্র
বিদ্যুতের ঝলকানি,আর
একটি ছোট্ট মুহূর্ত।
আমার (সেই) পাখিটি -
আকাশ জয়ের স্বপ্ন -
তবু একটা জিনিস ভালো হয়েছে।
পাখিটার পতন ঘটেনি,
ডানা ভেঙে ছিটকে পড়েনি এই মাটিতে।
আকাশ ছোঁয়ার গর্ব তার ভূমিসাৎ হয়নি।
আগুনরঙ বজ্র তাকে পুড়িয়ে দিয়েছে,
স্বপ্নালু পাখিটির শরীরের প্রতিটি কণিকা -
ছাই হয়ে মেঘের মাঝে হারিয়ে গেছে,
মিশে গেছে আকাশের বুকে।
পাখিটা এখন আকাশে থাকে -
অনন্তকালের জন্য।
আমারও মাঝে মাঝে আকাশ ছুঁতে ইচ্ছা করে
কোনো বহুতল ভবনের ছাদের উপরে নয়
মাটির উপর থেকে -
নরম ঘাসের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে,
দুই হাত ঊর্ধ্বে তুলে সাদা মেঘ স্পর্শ করতে ইচ্ছা করে।
(আমার) আর একবার ওই পাখিটিকে দেখতে ইচ্ছা করে।।
************************************
বিশাল এই কবিতাটি (অবশ্য আমি এটাকে গদ্য বলতেই বোধহয় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবো) বেশ কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে বিকেলবেলা হাঁটতে হাঁটতে মনে এসেছিলো... ওই সময় খাতায় লিখে রেখেছিলাম,এবং বন্ধু মৃনাল কে পড়িয়েছিলাম।এবার বাসায় গিয়ে খাতাটা খুলতেই এটা দেখে মনে হলো,ব্লগে দেয়া যায়!এখন ড্রাফট্ করতে বসে ভাবছিলাম সেদিনকার মনের ভাব কিরকম ছিল..একে তো মাটির খুব কাছ থেকেই আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছা,তারপর কোন জনমের অজানা সাথী(যার কাছে থাকার স্মৃতিটুকুও পরিষ্কার নয়)-র দূরে সরে যাবার পরের আক্ষেপ,আর সর্বোপরি করুণ রসের হাতছানি নিয়ে সেই আকাশজয়ী পাখিটার কথা - শেষপর্যন্ত দেখা যাচ্ছে,শুধু করুণরসটাই প্রাধান্য পাচ্ছে...
নিজেই নিজের কাব্যসমালোচনা করা গেল আর কী!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


