আমি আমার মায়ের এক অযোগ্য সন্তান...আজ "মা দিবস"..এবং আজ ৯মে..আমার মা সকাল ৯টা থেকে দাঁড়িয়ে আছে রাজশাহী মেডিকেলের আউটডোরে..একজন চোখের ডাক্তার এবং একজন হাঁপানীর ডাক্তারের সাথে দেখা করার জন্য,যারা ১১টার আগে আসবে না।মায়ের অসুখগুলোর ব্যাপারে সরাসরি সত্যিকারের কিছু করার ক্ষমতা তো আমার নেই-ই,এমনকি মাকে দীর্ঘ প্রতীক্ষাতে সঙ্গ দেয়ার ক্ষমতাও আমার নেই।এমনকি আমার খেয়ালও ছিল না যে আজ মার ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা..আমি দূর ঢাকায় বসে ব্লগ লিখছি,আর মা একাকী কোথায় বসে নাকি দাঁড়িয়েই আছে...."মা দিবস" নিয়ে কিছু লেখা আমার সত্যিই সাজে না।ফেসবুকে বন্ধুদের নিজের মাকে জানানো শুভেচ্ছাবার্তা পড়ে আমারও মাকে নিয়ে অল্প কিছু লিখতে ইচ্ছে হল।
আমার মায়ের খুব ইচ্ছা ছিল,তার দুই মেধাবী ছেলেমেয়ের একজন ডাক্তার হবে,আমাদের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে যা হয়,বড় ছেলের তো আর পড়ালেখাটা বেশিদূর হবে না-বাকী দু'জনের একজন।দিদিটার জেদ বেশ - প্রথমবার মেডিকেলে হল না বলে দিলই না দ্বিতীয়বার।আর আমি?জীববিজ্ঞানের ভয়ে মেডিকেলে পড়ার রাস্তা-ই বন্ধ করে দিলাম,সেই মাধ্যমিকের পর।মা কেবল হাসলো,আর অভয় দিয়ে অনুমতি দিলো যা ভাল মনে হয় তা করার...
বাসার অবস্থা অনেক পরিবর্তন হয়েছে,অনেক ঝড়-ঝাপটা বয়ে গেছে,এখনও যাচ্ছে...আর সব মাদের মতই আমার মা-ও এসবের আঁচ থেকে সবসময় দূরে সরিয়ে রাখতে চেয়েছে।আমি মার কাছে কৃতজ্ঞ...সবকিছু যা মা আমার জন্য করে যাচ্ছে,আর সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ এইজন্য যে মা আমার সাথে তার মনের কথাগুলো শেয়ার করে।এই অযোগ্য ছোট ছেলেটিকে মা অন্তত এটুকুর যোগ্য ভাবতে পারে,তার মনের অনুভূতি,কষ্ট,আনন্দ,চিন্তা,দুশ্চিন্তা..সব মা আমাকে বলে।অন্তত আমার মায়ের কাছে আমি শ্রোতাটুকু হতে পেরেছি।শুধু শ্রোতাই বটে;কারণ আর কিছু হওয়া,আর কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।আমার মাও সেটা জানে,কিন্তু তা নিয়ে মার কোনো অভিযোগ নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


