অণ্ণা হজারের অনশনের রেশ ধরে এ বার শুরু পর পর সরকারি অফিসে হানা। দিল্লির রামলীলা ময়দানে অণ্ণার আন্দোলন ছিল লোকপাল আইনকে কেন্দ্র করে। আর ঝাড়খণ্ডে রাইট টু সার্ভিস অ্যাক্ট বা পরিষেবার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার প্রাক্কালে ‘সরকারি-বাবু’দের দায়বদ্ধ করার কাজে পথে নেমেছে নাগরিক-সমাজের একাংশ। বিডিও, জেলার পরিবহণ দফতর, রেজিস্ট্রি অফিস, সেল্স ট্যাক্সের সহ-কমিশনার থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ পর্ষদের দফতরসর্বত্র এই ‘অণ্ণা-অনুগামী’দের গতিবিধি। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের মাথায় ‘অণ্ণা টুপি’ (সাবেক গাঁধী টুপি) পরিয়ে হাতে গোলাপফুল তুলে দিয়ে চলছে বিনম্র অনুরোধের পালা।
আপাতত অনুরোধ বলতে কয়েকটি সহজ প্রশ্ন নিবেদন। বিভিন্ন দফতরের কর্তাদের গিয়ে অনুরোধ, বিভাগীয় কর্মচারীদের কার কী কী কাজ লিখে ‘ডিসপ্লে বোর্ড’ টাঙিয়ে দিন। যাতে ‘পাবলিক’ জানতে পারে রেশন কার্ড করাতে কার কাছে যেতে হবে। নতুন বিদ্যুৎসংযোগ কার মাধ্যমে হবে বা গাড়ির লাইসেন্স-এর জন্য কোন চেয়ারের ‘বাবু’র দ্বারস্থ হওয়া জরুরি। বিভিন্ন সরকারি কর্তার কতর্ব্যের তালিকা পেশ করার পাশাপাশি, আমজনতার জ্ঞাতার্থে তাঁদের কাছ থেকে এই সব পরিষেবা ক’দিনের মধ্যে মিলবে সেটাও লিখে রাখতে বলা হচ্ছে। আমজনতা যাতে ঠিকঠাক সরকারি পরিষেবা পান, তা সুনিশ্চিত করতেই এ হেন দাওয়াই। আন্দোলনকারীরা সরকারি কর্তাদের মাথায় অণ্ণা টুপি পরিয়ে সবিনয়ে বলছেন, “আপনিই আমাদের অণ্ণা। দয়া করে প্রশ্নের জবাব দিন।”
অভিনব এই আন্দোলনের শুরুটা হয়েছে ধানবাদে। ক’দিন আগে বোকারো শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন নিগমের প্রাক্তন সভাপতি বিজয় ঝায়ের নেতৃত্বে ধানবাদের ছ’টি অফিসে গিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বিনীত ভাবে জানিয়ে এসেছেন ১০ দিনের মধ্যে প্রশ্নগুলির জবাব না-মিললে দফতরের বাইরেই অনশন শুরু হবে।
পরিষেবা অধিকার আইন অনুযায়ী, সরকারি আধিকারিকরা অনন্ত কাল কাজ ফেলে রাখতে পারবেন না। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জনতার দরকারে বিভিন্ন পরিষেবার কাজ সারতে হবে। সময়মতো কাজ না-হলে ‘সরকারি-বাবু’দের ২৫০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও হতে পারে। গত ১৫ অগস্ট বিহার সরকার এই আইন চালু করেছে। দেশের চতুর্থ রাজ্য হিসেবে এই আইন কার্যকর করতে চলেছে ঝাড়খণ্ড সরকারও। বিধানসভা এই বিলটি পাশ করেছে। রাজ্য মন্ত্রিসভার সচিব আদিত্য স্বরূপ জানান, বিভিন্ন আধিকারিকদের কী কী কাজ এবং তা ক’দিনে সারতে হবে জানিয়ে শীঘ্রই নতুন আইন চালু হয়ে যাবে।
তবু এটুকু আশ্বাসেই নাগরিক-সমাজ বসে থাকতে রাজি নয়। ধানবাদের পরে আন্দোলনের কেন্দ্র, বোকারো, গিরিডি ও রাঁচি। অণ্ণার অনুগামী ‘ইন্ডিয়া এগেনস্ট করাপশন’-মঞ্চের কয়েকজন সদস্যের নেতৃত্বে এই আন্দোলনটা এখন গোটা ঝাড়খণ্ডে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ধানবাদের পরে গন্তব্য বোকারো, গিরিডি ও রাঁচি। অণ্ণার অনুগামী ‘ইন্ডিয়া এগেনস্ট করাপশন’-মঞ্চের কয়েকজন সদস্য গোটা ঝাড়খণ্ডেই আন্দোলনটা ছড়িয়ে দিতে চাইছেন। আন্দোলনকারীদের তরফে সুশীল ভারতী, অশোক বর্মারা বলছেন, “কাগজে-কলমে আইন হলে কিচ্ছু লাভ হবে না। তথ্য জানার অধিকার আইনের কী দশা দেখছেন না? তাই অফিসে-অফিসে বাবুদের উপরে চাপ দিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি চলছে।” ধানবাদে পুলিশে অভিযোগ লেখাতে গিয়ে উৎকোচের দাবির বিষয়ে কয়েকটা অভিযোগ জেলার এসপি-র কানে তুলতে পুলিশ তড়িঘড়ি প্রতিকার করেছে বলেও দাবি এই আন্দোলনকারীদের।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


