somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘পরিবর্তনে’ও সংশয় কাটছে না সৌদি মেয়েদের

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দীর্ঘ লড়াইয়ে ভোটাধিকার মিলল। দাঁড়ানো যাবে পুরভোটেও। কিন্তু যেখানে পুরুষের সম্মতি ছাড়া বাড়ির বাইরে এক পা বেরোতে পারেন না মহিলারা, সেখানে এই অধিকার সত্যিই কতটা পরিবর্তন আনবে দৈনন্দিন জীবনে? ভোটাধিকার পাওয়ার পরও এই প্রশ্ন থেকে বেরোতে পারছেন না সৌদি আরবের মেয়েরা। কারণ, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লক্ষ্মণরেখা তো পদে পদে।
মাস খানেক আগেরই ঘটনা। আল-খোবার শহরে গাড়ি চালিয়ে সেই ছবি টুইটারে দিয়েছিলেন বছর তিরিশের মানাল আল শরিফ। সেই ‘অপরাধে’ বেশ কিছুটা সময় সংশোধানাগারে কাটাতে হয় ওই সৌদি মহিলাকে। কারণ, সে দেশে মহিলাদের গাড়ি চালানোর কোনও অধিকার নেই।
এ হেন ‘রক্ষণশীল’ সৌদি আরবেই গত কাল মেয়েদের ভোটদানের অধিকার ঘোষণা করেছেন রাজা আবদুল্লা। সৌদি আরবে অবশ্য শুধুমাত্র পুর-নির্বাচনই হয়। এবং রাজার ঘোষণা অনুযায়ী, পুর-নির্বাচনে ভোট দিতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন সৌদি মহিলারা। শুধু তাই নয়, ‘মাজিস-আল-শুরা’ বা উপদেষ্টা পরিষদেও (সদস্যরা মনোনীত) যোগ দিতে পারবেন তাঁরা। আবদুল্লার প্রতিশ্রুতি, “সমাজে মহিলাদের আর একঘরে করে রাখা হবে না।” তবে বৃহস্পতিবারই পরবর্তী পুর-নির্বাচন। তাই ঘোষণা হলেও মেয়েরা ভোট কিন্তু দিতে পারবেন চার বছর পরের ভোটে।

সৌদি আরবের মহিলাদের মৌলিক অধিকারের দাবিতে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে এসেছেন, তাঁরা এই ঘোষণাকে প্রাথমিক ভাবে ‘তাৎপর্যপূণ জয়’ হিসেবেই দেখছেন। ইতিহাসের শিক্ষক হাতুন-আল-ফাসি যেমন বললেন, “সৌদি মহিলারা আর নীরব নেই। এই ঘোষণা তার প্রমাণ।” দেশের ভিতরে মহিলাদের অধিকার নিয়ে ক্রমাগত চাপ বাড়ছিল। তার উপরে গত কয়েক মাস ধরে আরব দুনিয়ায় শাসক বদলের লক্ষ্যে যে গণআন্দোলন চলছে, তার জেরেই রাজা এই অধিকার দিতে বাধ্য হয়েছেন বলেই আন্দোলনকারীরদের ধারণা। তবে তাঁদের সংশয়ও আছে। কারণ, সৌদিতে মহিলারা পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কোথাও যেতে পারেন না। কোনও কাজ করতে পারেন না। আইনজীবী হতে পারেন না। পারেন না গাড়ি চালাতে। এমনকী, পছন্দের জামাকাপড়ও পরতে পারেন না। তাই ওয়াজিবা-আল-ভুয়েদের নামে এক মহিলা আন্দোলনকারীর মতে, “পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া তো এক জন মহিলা স্বাভাবিক জীবনযাপনই করতে পারেন না এ দেশে। তাই এখনও অনেক লড়াই-ই বাকি।” তাই সেখানে মহিলারা কতটা নিজের ইচ্ছেমতো ভোট দিতে পারবেন বা ভোটে দাঁড়াতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। আবার যে উপদেষ্টা পরিষদে মহিলারা যোগ দেওয়ার অধিকার পেয়েছেন, সেই পরিষদেরই তেমন কোনও বিশেষ তাৎপর্য নেই। উপদেষ্টা পরিষদ সরকারী নীতির বিষয়ে রাজাকে উপদেশ দিতে পারলেও রাজার বিশেষ অধিকারের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
আবদুল্লার এই ঘোষণায় আবার তাঁর রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। বেশ কিছু দিন ধরেই শুরার ১৫০ জন সদস্যকেই নির্বাচিত করার দাবি উঠেছে। অনেকেরই ধারণা, মহিলাদের শুরায় যোগদানের অধিকার দেওয়ার ‘অজুহাতে’ আবদুল্লা আসলে এই দাবি এড়াতে চাইছেন। আবার একাংশের আশঙ্কা, অতীতে বহু বার রক্ষণশীল ওয়াহাবি নেতাদের চাপে পড়ে মেয়েদের জন্য বেশ কিছু সিদ্ধান্তই কার্যকর করা যায়নি। ২০০১ সালেই মহিলারা জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার অধিকার পেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
১৯৯১ সাল থেকেই অবশ্য মেয়েদের গাড়ি চালানোর লাইসেন্স দেওয়ার দাবিতে দেশের মহিলারা আন্দোলন করছেন। এই বছরের গোড়ায় এক সৌদি মহিলা সর্ব প্রথম মহিলাদের ভোটাধিকার না দেওয়ার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেন। এমনকী, ভোটাধিকার পাওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় বুথে গিয়ে ভোট দেওয়ারও চেষ্টা করেন বেশ কিছু মহিলা। সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের একটা স্বীকৃতি গত কাল তাঁরা পেলেন। রিয়াদের মহিলা অধ্যাপক ফাওয়াজিয়াহ বাকরের কথায়, “এতে হয়তো মহিলাদের জীবনে আমূল পরিবর্তন হবে না। কিন্তু আরব দুনিয়ায় বিপ্লব এসেছে। সাধারণ মানুষের কথা শুনছে রাজনৈতিক শাসকরা। তাই এ বার বোধহয় নতুন সূচনার আশা করা যায়।”
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×