বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি) এর ওয়েবসাইটের ব্যাপারে কমিশনটির সচিব ফরিদ আহমেদ মনে করেন যে সাইটটি যে কেউ হ্যাক করতে পারে, কারণ ‘এটা সরকারি ওয়েবসাইট’। কমিশনের অধীনে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস এক্সামিনেশন ২০১০ -এ ‘অ্যাসিস্টেন্ট জাজ’ পদে উত্তীর্ণ তালিকা ওয়েবসাইটে আপ করা নিয়ে কেলেংকারি’র অভিযোগ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তিনি একথা বলেন। কমিশনটির বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন আপিল বিভাগের বিচারক জনাব সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।
তালিকাটি প্রথমবার আপ করার পর কয়েকজন উত্তীর্ণ প্রার্থীর রোল নম্বর বাদ দিয়ে, অন্য প্রার্থীদের রোল নম্বর বসিয়ে ফের আপ করা হয়। দৈনিক প্রথম আলো’র আইন ও বিচার পাতার প্রতিবেদক এ বিষয়ে জনাব ফরিদকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এটা সরকারি ওয়েবসাইট। যে কেউ হ্যাক করতে পারে।’
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সবচে তৃনমূল- পয়লা প্রবেশিকা বিচারকের পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে এমন কেলেংকারির খবর সামাল দিতে এর চেয়ে আর ভালো কি উপায় থাকতে পারে এই দেশে? বাংলদেশের সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকিং-এর সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজর ফেরালে স্বীকার করতেই হবে যে জেএসসি সচিব বেশ ওয়াকিবহাল আছেন এবিষয়ে। যোগাযোগ খাতে অন্যতম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিসিএল- আরো অন্যান্য কাজের সাথে যাদের প্রধানতম কাজ হল দেশে ইন্টারনেট ব্যবস্থার তদারকি ও নিয়ন্ত্রন- সেই বিটিসিএল থেকে শুরু করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রিয় আনুষ্ঠানিক সাইটটি পর্যন্ত হ্যাকিং এর কবলে পড়েছে গত তিন বছরে।
গত তিন বছরে হ্যাক হওয়া কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইট
হ্যাক হওয়ার পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট।
৫ সেপ্টেম্বর ২০০৮: রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এর ওয়েবসাইট।
১২ এপ্রিল ২০০৯: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইট।
২০ মার্চ ২০১০: দেশের ১৯ টি জেলার আনুষ্ঠানিক ‘তথ্য বাতায়ন’ এর ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রন দখল করে হ্যাকাররা।
৭ জুন ২০১০: বিটিসিএল এর ওয়েবসাইট।
১৬ জুন ২০১০: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
৭ জুলাই ২০১০: বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সাইট। এবং রাষ্ট্রিয় ছাপাখানা- বিজিপ্রেসের ওয়েবসাইট।
১৬ জুলাই ২০১০: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ওয়েবসাইট।
৪ আগস্ট ২০১০: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র ওয়েবসাইট।
১৬ অক্টোবর ২০১০: পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইট।
২০ নভেম্বর ২০১০: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।
এবং বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইট কি গত ১১ সেপ্টেম্বর জেএসসি পরীক্ষা ২০১০ এর ফলপ্রকাশের দিনে হ্যাক হয়েছিল? কমিশন সচিব ফরিদ আহমেদ জানিয়েছেন ‘আমরা তদন্ত করছি।’ জনাব ফরিদ এটা জানিয়েছিলেন গত বুধবার। সাইটটির ওয়েবমাস্টার ছুটিতে ঢাকার বাইরে থাকায় সেদিন জানা যায় নি। আজ রবিবার সরকারি খোলা দিন, আজকালপরশু হয়তো জানা যাবে। কে হ্যাক করতে পারে সাইটটি? ‘যে কেউ’। (কৃতজ্ঞতা: ফরিদ আহমেদ!)।
অবশ্য বাংলাদেশের সরকারি সাইটগুলো ‘কে বা কারা’ হ্যাক করছে- সে বিষয়ে সরকারপন্থি এই দৈনিকটি জনাব ফরিদের চেয়ে আরো সুনির্দিষ্ট ‘খবর’ দিচ্ছে। পত্রিকাটির ধারনা; বাংলাদেশের সরকারি ওয়েবসাইট শুধু বাংলাদেশে বসেই হ্যাক করা সম্ভব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


