টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে বাংলাদেশকে কিছু না জানিয়েই ভারত সরকার যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তা ভারতের 'অভ্যন্তরীণ ব্যাপার' বলে মন্তব্য করেছেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুবুর রহমান তালুকদার। তিনি বলেছেন, 'এ ধরনের চুক্তি করার ব্যাপারে বাংলাদেশকে আগে থেকে অবগত করার কোন কথাও ছিল না। এ ব্যাপারে এ পর্যায়েই আমাদের আপত্তি বা প্রতিবাদ জানানোর কিছু নেই। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা চুক্তি করতেই পারে।'
বাহ ! কি দেশপ্রেমের নমুনা !
ব্যাপারটা অনেকটা এইরকম যে, আপনার মাকে কেউ ধর্ষণ করবে আর আপনি বলবেন যে এইটা ধর্ষকের 'অভ্যন্তরীণ ব্যাপার'!
আমার দেশ আমার মা। 'আমার মায়ের কোনো ক্ষতি হতে দিব না'-এইটা হওয়া উচিত প্রতিগ্গা।
আর আমাদের মন্ত্রী মহোদয়রা বলছেন এটা 'অভ্যন্তরীণ ব্যাপার'। এই বুদ্ধির লোকেরা কিভাবে মন্ত্রীসভায় স্থান পায় ? এই প্রতিমন্ত্রী কি বুঝে না, ঐ বাঁধের ফলে সিলেট অঞ্চলে কি ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে ?
দেশ মাতাকে যারা রক্ষা করতে পারে না, যারা দেশের স্বার্থ বুঝে না, তার মন্ত্রী থাকার কোনো অধিকার আছে কি ?
এদিকে টিপাইমুখ বাঁধের প্রতিবাদে বিএনপি সিলেটে ১ ডিসেম্বর হরতাল ডেকেছে। ঘর বাচানোর জন্য মায়াকান্না না করে, অন্তত দেশ বাচানো জন্য একটা হরতাল বিএনপি ডাকলো।
তাছাড়া তারা আওয়ামীলীগকে এই আহ্বান জানিয়েছে যে, 'দেশের স্বার্থ রক্ষায় আপনার কাজ করুন। ভয় পাবেন না। দেশের স্বার্থে আপনাদের আমরা সাথে থাকব।'
এই আহবানে আন্তরিকতা কতটুকু ত়া প্রশ্নের সম্মূখী, কিন্তু অন্তত তারা দেশের স্বার্থে একসাথে কাজ করার আহবান জানিয়ে নিজেদের ভূমিকা পরিস্কার করলো।
আরেক ধাপ এগিয়ে, খালেদা জিয়া টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের আগে যৌথ জরিপের দাবি জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে চিঠিও দিয়েছেন। তবে এই চিঠি কতটুকু কাজে আসবে কে জানে? তারপরও প্রতিবাদ আরেক ধাপ এগুলো।
এদিকে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বিশ্ব বিপণন সম্মেলন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে, টিপাইমুখ নিয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়েই, সাংবাদিক সম্মেলনস্থল ছেড়ে চলে গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেন টিপাই মুখ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যাবেন ? কিসের ভয় উনার ? এইটা এই অধমের বুঝার ক্ষমতা হয় নাই। দেশ এত বড় হুমকির সম্মুখীন আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিনা প্রশ্নর উত্তর না দিয়ে পলায়ন করেন!
সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুখ খুলেছেন এবং বলেছেন, “টিপাইমুখে কিছু করতে হলে বাংলাদেশকে জানিয়েই করতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে বাংলাদেশের স্বার্থ নষ্ট হয় এমন কিছু হতে পারে না। বিএনপি ভারতের গোলামি করেছে, তাই চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি। আমরা যখন ধরেছি, আজ হোক কাল হোক চুক্তি বাস্তবায়ন করবই।”
প্রধানমন্ত্রীর কথার দৃঢ়তা শেষ পর্যন্ত থাকলে খুব ভালো। যেহেতু আওয়ামীলীগের সাথে ইন্ডিয়ার দহরম মহরম সম্পর্ক তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি চাপ প্রয়োগ করে টিপায়মুখের বাধ নির্মান বন্ধ করতে পারেন, তবে এই জাতি তার কাছে সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবে। কিন্তু তিনি এখনো বিরোধী দলের দোষ ধরা থামাতে পারলেন না, যেই রাম সেই রাম, 'সব দোষ বিরোধী দলের'।
প্রধানমন্ত্রীকে আরেকটা কথা মনে রাখতে হবে যে, ফারাক্কা বাধ তৈরী করার আগে, তার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকেও, ইন্দিরা গান্ধী মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, 'তাতে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না'। কিন্তু বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
তাই প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ ইন্ডিয়ার মিথ্যা আশ্বাসে আর পা মাড়াবেন না। ইন্ডিয়ার সাথে বন্ধুত্বের চেয়ে দেশ বাচানো বেশি জরুরি।
সরকার, বিরোধীদল ও জনগণ - একসাথে টিপাইমুখ বাধ বন্ধে সবাইকে কাজ করতে হবে।
আমরা আরেকটি ফারাক্কা চাইনা, আমরা টিপাইমুখে বাধ চাই না !
'টিপাইমুখে বাঁধ, আমরা প্রতিরোধ করবই।'

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


