somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরবাসী যাযাবর জীবন : 1 :: ব্রুনসপার্কে বনভোজন

৩১ শে জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সকাল সকাল আমরা রওনা দিলাম [গাঢ়] রনেবি ব্রুনসপার্কের [/গাঢ়]উদ্দেশ্যে। আমরা মানে আটজনের একটা গ্রুপ। সবাই বাংলাদেশী। আরেকজন আমাদের সাথে যোগ দিবেন রনেবি'তেই- তিনি নিপন ভাই- সেখানেই থাকেন। আমাদের যাত্রাস্থল থেকে গন্তব্যে পৌঁছুতে সময় লাগবে প্রায় এক ঘন্টা। প্ল্যান হলো প্রথমে পার্কটায় একটু চক্কর দেয়া। দুপুরে ভুড়িভোজন। আর বিকেলে আবার পুরো পার্কটা পরিদর্শন। আমাদের পরিকল্পনানুযায়ী যথাযথ সময়ে আমরা পৌঁছে গেলাম [গাঢ়]রনেবি ব্রুনসপার্কে[/গাঢ়] । শুরু হলো পথচলা। বেশ কিছুটা পথ হেঁটে পার্কে যেতে হয়। পার্কের প্রবেশ পথে একটা সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেট। সামারের সময় শুধু এই মার্কেটটা বসে তাও কয়েকদিনের জন্য। রকমারি জিনিসে ভরে ওঠে মার্কেট আর প্রচুর লোকের সমাগম হয় এ উপলক্ষ্যে। অনেকটা আমাদের দেশের বিজয় মেলার মতো তবে তফাৎ হলো স্টলগুলো সব ওপেন, কোন ছাউনি নেই। আমরা মার্কেটে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন জিনিস পত্তর দেখতে লাগলাম। নিপন ভাই এসে পৌঁছালে আমাদের অ্যাডভেঞ্চার শুরু হলো। সেই মজার দিনটির মজার কিছু ঘটনার কথাই বলবো।

1. ছোট একটা পাহাড় পেরিয়ে আমরা একটা সমতল জায়গায় এসে পড়লাম। দু'পাশে ঘন সবুজ বনের বুক চিরে চলে গেছে একটা মেঠো পথ। পাতার ফাঁকে ফাঁকে সূর্যের আলো ঠিকরে পড়ছে পথে। আমাদের সহযাত্রী সাইদুল ভাইয়া গলা খুলে (হাতে নেয় নাই কিন্তু) গাইতে শুরু করেন- "আমার গায়ে যত দু:খ সয়। বন্ধুয়ারে কর তোমার মনে যাহা লয়।" এ পর্যন্ত গাইলে সব ঠিক ছিল কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো পরের প্যারায় গিয়ে। সাঈদুল ভাই তখন হেভি মুডে। দরাজ গলায় গেয়ে চলেছেন, সাক্ষী রইলো চন্দ্র-সুরুজ, সাক্ষী লতাপাতা.....। নিপন ভাই সাথে সাথে ফাল (লাফ কিন্তু সেটাকে ফাল বলাই সঙ্গত মনে হয়) দিয়ে উঠলেন। 'ওই মিয়া গান গাইতাছেন ভালো কথা কিন্তু তাই বইলা আমার ফ্যামিলি লইয়া টানাটানি করেন ক্যান?' আমরাও একটু টাস্কি খাই। জিগাই- আপনার ফ্যামিলি লইয়া টান দিলো ক্যামনে? নিপন ভাই মুচকি হেসে বলেন, 'আরে আমার বউয়ের নাম লতা, আর শালীর নাম পাতা। ওই মিয়া গান ধরছে সাক্ষী লতাপাতা। এইটা ফ্যামিলি লইয়া টানাটানি না?' দাদা (হিন্দোলদা এখানে সবাই দাদা বলেই ডাকে উনাকে) পাশ থেকে বলে ওঠেন, শালার নাম কি গুল্ম? আর আমি আফসোস করি- নিপণ ভাই, আপনার শালী আছে আগে বলবেন না?

2. ব্রুনসপার্কের মধ্যবতর্ী একটা অংশের নাম জাপানিস পার্ক। কেন এ নামকরণ তা আমরা জানি না। জাপানিস পার্কে ঢুকে একটু এগুলেই বড় একটা পাথর চোখে পড়ে। ইমরান ভাই বললেন, আমি পাথরটা জড়িয়ে ধরে একটা ছবি তুলবো। আমি বললাম, ওকে। ছবি তোলা হলে নিপণ ভাই বলেন, আপনি যে পাথরটা জড়ায় ধরে ছবি তুললেন ঐটা আসলে কি জানেন? ইমরান ভাই জিজ্ঞেস করেন, কি? নিপণ ভাই হেসে বলেন ওটা একটা শিবলিঙ্গ। আপনি শেষে লিঙ্গ জড়ায় ধইরা ছবি তুললেন? আমাদের তো হাসিতে পেটে খিল ধরে যাওয়ার জোগাড়। হাসি একটু থিতিয়ে এলে ইমরান ভাই প্রশ্ন করেন, আচ্ছা বস- এই জায়গাটাতে কি আগে পানি ছিলো? নিপন ভাইয়ের উত্তর, 'পানি ছিলো মানে? মাছ পর্যন্ত ধরছি।' না না, হেঁয়ালি না বস, সত্যি বলেন। 'ভাই পানি ছিল না ওই লিঙ্গটার হিসু ছিল তা জানি না তবে উইন্টারে গাদা গাদা বরফ দেখছি।' আমি বলি, আর আপনি বরফের নীচ থেকে তখন বর্শি দিয়ে তিমি ধরেছিলেন। তাই না? নিপণ ভাই বিজ্ঞ হাসি দিয়ে বলেন- এই তো তুমি লাইনে এসে গেছ।

আরো অনেক মজার কাহিনি আছে। সেসব আরেকদিন। পাবলিক বড় পোস্ট পড়তে চায় না। অল্পতে বিলা করে!!!!!

** নীচে সেই পাথরটার ছবি
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:০০
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×