সেদিন বিকেলে ল্যাবে কাজ করতে করতে বোর হয়ে গেলাম একেবারে। আমাদের ভার্সিটির ঠিক পিছনেই বাল্টিক সাগর। সাগরের নীল জলের দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে খুব স্থিরতা আসে বলে আমার বিশ্বাস। তার উপর মৃদুমন্দ হাওয়া তো উপরি পাওনা। তো বন্ধু লিওকে (লিয়াকতের শর্ট রূপ) বললাম, চল একটু ঘুরে আসি। ও রাজি হলে বেরিয়ে পড়লাম। বাল্টিকের তীরে সবসময়ের মতো অনেক নর-নারী উদোম শুয়ে আছে। শোমোচৌ-র প্রকৃতিবাদ নাকি বছরের সাত মাস বরফে ঢাকাকালীন সময়ের জন্য ব্যাটারির মতো শরীরে উত্তাপ জমানোর প্রচেষ্টায় তারা এরকম সূর্যস্নান করেন তার উত্তর আমার জানা নেই। আর যদি বলেন সাগর দর্শন নয় প্রকৃতিবাদীদের দর্শনেই আমি বের হয়েছিলাম তবেও আপত্তি করবো না। আমাকে নিপাট ভদ্রলোক ভাবার কোন কারণ নেই।
একটু নির্জন জায়গা বেছে নিয়ে বসলাম। বেশ কিছুদিন ধরে কয়েকটা বিষয় মাথার মধ্যে গিজগিজ করছিলো। আমি মনটাকে চাঙ্গা করার জন্য হেড়ে গলায় গান ধরলাম -
বসে আছি ইস্টিশানেতে
.................................
অঙ্কেতে আশি পেয়েছিলাম একবার,
মা ভেবেছিলো হবো ইঞ্জিনিয়ার,
বাবা কিছু ভাবতে পারেনি,
বাবা ছিলো না যে আমার।
এই পযর্ায়ে লিও আমাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলো। তুই তো ইঞ্জিনিয়ার হয়েই আছিস। আবার ইঞ্জিনিয়ার হবার গান ধরেছিস কেনো ? অন্য গান গা। আমি বলি- হুম ইন জানোয়ার হয়েছি। ভুল করেছি রে। ভীষণ ভুল। এখন আফসোস হয়। আগে জানলে সত্যিই ঠিকাদার হতাম রে। লিও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ওঠে, ঠিকাদার? খুলে বলতো ব্যাপারটা কি?
ব্যাপার কিছু না। ধর পাশ করে দেশে গেলাম। কি করবো? কোন সরকারী চাকরীতে জয়েন করলাম। কিন্তু সারাজীবন খাটাখাটুনি খেটে লাভ কি হবে জানিস? দেখা যাবে শেষে মাথা গোঁজার কোন ঠাঁই নাই। কালপুরুষের মতো দুটো লিচু কিনে বাচ্চাকে খাওয়াতে হচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে মারা যেতে হচ্ছে। এই হাইকোর্টের বিচারপতি বজলুর রহমান সাহেবের কথাই ধর না (প্রথম আলো : 19-7-06)। চিকিৎসার জন্য এখন তাঁকে মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। কিংবা কোন পাবলিক ভার্সিটির টিচার হতে পারি। লাভ হবে কি? সেই একই পরিণতি। জাফর ইকবাল একবার অকপটে বলেছিলেন- যদি বইয়ের রয়ালিটি ফি না পেতেন তবে তাঁকেও হয়তো প্রাইভেট ভার্সিটিতে ক্লাস নিতে দেখা যেত।
তো আমি ভাবছি যে পেশাতে থাকিই না কেন নিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য আমাকে অন্য উপায় খুঁজতে হবে, বলা চলে সততার সাথে আপোষ করতে হবে। তাহলে কি দরকার এতদূর দেশে পড়ে থেকে। একটা পার্টির লেভেল গায়ে লাগিয়ে ঠিকাদার হওয়াটা এর চেয়ে সহজ নয় কি? এই ঠিকাদার এম. এ. জলিলের কথাই ধর না। সংসদ ভবনের খোলা চত্বরের ঘাস কাটার ঠিকাদারী পেয়েছেন (প্রথম আলো : 20-7-06)- এক (1) কোটি টাকার। সূত্রমতে এই কাজে ব্যয় হবে বড়জোড় 10-15 লাখ। তাহলে দাঁড়ালো কি? খুব সহজ হিসেব- 15 লাখ ঘাস কাটা খরচ, 35 লাখ দালালি খরচ, আর নেট লাভ 50 লাখ। হিসেব করে দেখ তো, 20 বছরে এরকম ঠিকাদারী করে কত টাকা বানানো যায়?
বিশ বছর কেন? লিও-র প্রশ্ন।
সহজ হিসেবটা বুঝলি না? সরকার পরিবর্তন হতে পারে না? বওদুদীর মতো তিনবার পার্টি বদল করবো, বিশ বছর ঠিকাদারী করবো। তারপর . . . . . . .
তারপর?
তারপর এম.পি-র ইলেকশনে দাঁড়াবো।হয়তো একদিন ছাগলমন্ত্রীও হয়ে যেতে পারি। ভেবে দেখ আইডিয়াটা মন্দ কিনা !!!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৭:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


