somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অগ্রবীজ নামের যে সাহিত্য পত্রিকাটি বাংলাদেশের গ্রগতিশীল চিন্তাবিদদের বুড়ো আঙ্গুল দেখালো!

২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাখি বলে
Share
Saturday, April 4, 2009 at 1:27pm
অগ্রবীজ নামে একটি পত্রিকা ষান্মাসিকভাবে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে গত ২ বছর ধরে। প্রকাশ স্থল আমেরিকা। এই পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক একজন এবং সম্পাদকমণ্ডলী পাচজন। এই ছয় জনের চারজনের হলেন বাংলাদেশী এবং দুজন পশ্চিম বাংলার। এছাড়া তিনজন বিখ্যাত ব্যাক্তি উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। এরা হলেন হায়াত মামুদ, কেতকী কুশারী ডাইসন এবং শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়। পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যায় সম্পাদক পাল্টে যায়। আমেরিকা, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ায় সম্পাদকমণ্ডলীর বাস এবং এরা পেশাদারীভাবে সবাই মোটামুটিভাবে উচ্চতর অবস্থানে আছেন এবং আর্থিকভাবে স্বাস্থবান। এর মধ্যে প্রধান সম্পাদক চৌধুরী সালাহ উদ্দিন মাহমুদ প্রবন্ধ লেখেন, তাপস গায়েন কবি, সাদ কামালী গল্পকার এবং প্রবন্ধকার, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ কবি, উপন্যাসিক, প্রবন্ধকার; সুবিমল চক্রবর্তী প্রবন্ধকার, সৌম্য দাশগুপ্ত কবিতা লেখার কোশেষ করেন। তিনি দুটি পিএইচডি করেছেন এবং তার পিতৃদেবও এক সময় পিএইচডি করেছিলেন এই তথ্যটি তিনি সগৌরবে তার সম্পাদনাকালে সম্পাদকীয়তে বলেছেন। সুতরাং এইসব গুণীজনদের প্রোডাকশন যে আলাদারকম হবে তা বলাই বাহুল্য।
প্রথম সংখ্যা ছিল ৩০৩ পৃষ্ঠার, দ্বিতীয় সংখ্যা ৪০৪ এবং তৃতীয় সংখ্যাটি ২৮২ পৃষ্ঠার। এত বড়ো কলেবরের সাহিত্য পত্রিকা বিদেশ বিভূই থেকে নিয়মিত প্রকাশ করা একটি উন্নত রুচি ও সাহসের বিষয়।
প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন কবি তাপস গায়েন। তিনি জানাচ্ছেন অগ্রবীজ পত্রিকা বিশ্বায়নের একাকার হবার ভাবনাকে যেমন প্রশ্রয় দেয়, আবার একই সংগে মান্য করে রবীন্দ্রনাথের বিশেষ চিন্তা্। ..আত্মবিচ্ছেদ নয়, বরং জ্ঞানপ্রবাহে অবগাহন এবং সেই প্রবাহকে আরও বেগবান করা জরুরী... বিবেচনা করেই অগ্রবীজের প্রকাশনা। সম্পাদকীয়র ভাষা অনেকটা কলিম খানের ভাষ্য। কলিম খান একজন অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, প্রগতিশীল ঘরানার পণ্ডিত ব্যক্তি। তার সুর অগ্রবীজে শোনা মানে হল একটি সুস্থ অন্বেষণের হাওয়ার সংবাদ পাওয়া।
তাপস গায়েনের সম্পাদনায় লেখক তালিকা- কলিম খান, রবি চক্রবর্তী, শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়, মাসুদ খান, চৌধুরী সালাহউদ্দিন মাহমুদ, কৃত্তিবাস চক্রবর্তী, সন্তোষ রায়, অলক দাশগুপ্ত, দেলোয়ার হোসেন মন্জু, কাকলী গঙ্গোপাধ্যায়, সরকার আমিন, তাপস গায়েন। এরা প্রবন্ধকার। কবি আছেন বেশ কয়েকজন। এবং প্রগতিশীল গল্পকার জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে নিয়ে একটি ক্রোড়পত্রও এ সংখ্যার মান বৃদ্ধি করেছে। প্রকাশনার পরপরই সংখ্যাটি শুভ সূচনা করে।
দ্বিতীয় সংখ্যার সম্পাদক সাদ কামালী। এটির বিষয় ছিল সাব-অল্টার্ন। লেখক তালিকা- শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়, সাদ কামালী, রাজর্ষী দাশগ্রপ্ত, শাওন আকন্দ, সুমনা দাশ সুর, চৌধুরী সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, সলিম উল্লাহ খান, কাবেরী গায়েন, আনিস আহমেদ, নিখিলেশ রায়, হাফিজ রশিদ খান, মাসুদ খান, তাপস গায়েন, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ প্রমুখ। এ সংখ্যায় দেখা যায় সাদ কামলী সলিউল্লাহ খানকে হাজির করেছেন। খান সাহেব তার অতি উন্নাসিক ভাষায় এনলাইটেনমেন্ট কী বস্তু সে বিষয়ে একটি বক্তৃতা করেছিলেন তা ছাপানো হয়েছে। খান সাহেব পাঠকদের গাধা মনে করেন। সেজন্যে গাধা পিটিয়ে মানুষ করার এক ধরনের পণ্ডিতি প্রবণতা তার লেখায় পাওয়া যায়। পৃথিবীতে কতো বিচিত্র মানুষ আছে। এটাও একটা বিশেষ ধরন। তবে এটা পাঠকপ্রিয়তার বিপক্ষে যায়।
তৃতীয় সংখ্যার সম্পাদক সৌম্য দাশগুপ্ত। বিষয় মৌলিক চিন্তা। মৌলিক চিন্তা বিষয়ে সম্পাদক জানাচ্ছেন- বহমান সময়, সমাজ, রাজনীতি ও জীবনযাপন, সাহিত্য-দর্শন-শিল্পকলা ও বিচিত্রবিদ্যা বিষয়ে মননশীল মানুষের ভাবনা ও মত থাকবেই- এগুলি মৌলিক চিন্তার আবশ্যকীয় উপাদান। কিন্তু মৌলিক হতে গেলে একটি নিজস্ব নতুন দৃষ্টিভঙ্গী ও মত-এর গুরুত্ব আরো বেশি। আর যে মত যত সুচিন্তিত ও নতুন ভাবনার দিশারী, সেই মতের প্রাধান্য যেন আরো বেশি। কি দেখছি তার ধারাবিবরণী যথেষ্ট নয়, কি দেখতে পারতাম বা দেখতে চাই, এই মতসহ বিশ্লেষণ যেন অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদকমণ্ডলী দুই বাংলার দুধরনের লেখকদের কাছ থেকে লেখা সংগ্রহের তাগিদ অনুভব করেছিলেন। এক- যারা পণ্ডিত, বিশ্লেষক, গবেষক, চিন্তক , আর দুই- যারা শিল্প-সাহিত্যের-বিজ্ঞানের নানা শাখায় মৌলিক ধারার প্রবর্তক।
এই ধারার লেখক তালিকা দেখুন- পশ্চিম বঙ্গের শিবনারায়ণ রায়, অভ্র ঘোষ, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, তরুণ সান্যাল, সুবিমল চক্রবর্তী, নিত্যপ্রিয় ঘোষ, অভিজিৎ রায়, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়, যশোধারা রায়চৌধুরী। এরা মৌলিক বিষয় নিয়ে চিন্তিত প্রবন্ধ লিখেছেন। আর বাংলাদেশ থেকে মৌলিক চিন্তাবিদ হিসেবে লিখেছেন- মাসুদ খান, আদিত্য কবীর, ব্রাত্য রাইসু। সম্পাদক অবশ্য সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের নাম করেছেন এ সংখ্যায় প্রবন্ধকার হিসেবে, তবে তার প্রবন্ধ দেখা গেল না। তবে সম্পাদক সৌম্য দাশগুপ্ত অবশ্য একটি শোকবাণী দিয়েছেন- আমাদের ঘনিষ্টবন্ধু সাজ্জাদ শরীফ একটি রীতিমতো প্রবন্ধ শুরু করেছিলেন, কিন্তু তার বিখ্যাত ব্যস্ততার সংগে যোগসাজসে শয়তানী করলো তার কম্প্যুটার। মধ্যপথে সেটি ক্রাশ করায় বাংলাদেশে জায়মান (?) মৌলিক ভাবনার উপর বিশ্লেষণধর্মী সম্পূর্ণ লেখাটি চিরতরে হারিয়ে গেল। সম্পাদক এরপর সাজ্জাদ শরীফের ব্যক্তিগত চিঠিটি বিশিষভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা করেছেন। চিঠিটির নাম- মহা সর্বনাশ হয়েছে। এইরকম চিঠিও যে মহা মৌলিক চিন্তাবাহী তা সৌম্য দাশগুপ্ত মারফত জানা গেল। অগ্রবীজের এই সংখ্যাটি পড়লে বোঝা যায় পশ্চিম বংগে অনেক শক্তিশালী প্রবন্ধকার রয়েছেন। সেখানে সম্পাদক কথিক মৌলিক চিন্তার ক্ষেত্রেগুলিতে অনেক কাজ হচ্ছে। বিষয়সূচি দেখুন- মূঢ়তার জযযাত্রা, বাংলা ভাষায় মৌলিক প্রবন্ধ চর্চা কি কমছে ক্রমশ?, মৌলিকতা বিষয়ে একটি অমৌলিক মৌলবাদি খসড়া, রেনেসাঁস আমাদের ও তাহাদের, অন্তর্জালে কথকতা, জালে বন্দি বিবেক ও মুক্ত চিন্তা, চির সখা হে, রবীন্দ্রে বিজ্ঞান, ল্যালা ম্যানিফেস্টো, মেয়েদের কিছু একটা হয়েছে। তিনজন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন- কেন নাটক লিখি- ব্রাত্য বসু, গানের বদল/ বদলের গান- কবীর সুমন এবং অভিজ্ঞতার কুঠার- জয় গোস্বামী। আর বাংলাদেশের মৌলিক প্রবন্ধকাররা লিখেছেন- ভিন্নতর রেনেসাঁর খোজে- মাসুদ খান, জাত বেজাত বিষয়ে একটি উগ্র পত্র- আসেন সাম্প্রদায়িক হই- আদিত্য কবীর এবং ভবে সাব অলটার্নতর কে দেইখা রাখবে তবে?- ব্রাত্য রাইসু। সম্পাদক বাংলাদেশ থেকে আর মৌলিক প্রবন্ধকার খুঁজে পাননি বলে তারা মৌলিক প্রবন্ধের অভাব মিটিয়েছেন সাজ্জাদ শরীফের চিঠিটি দিয়ে।
পশ্চিমবংগের প্রবন্ধকারের সংখ্যাও বেশি এবং বিষয়ও বিচিত্র। সব মতাদর্শের প্রবন্ধকারের সমবাবেশ ঘটেছে। পশ্চিমবংগের চিন্তা বিচিত্র চর্চার ক্ষেত্রটিকে সহজে সনাক্ত করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রবন্থকার মাত্র তিনজন। তাদের লেখার মান বিষয়ে কোন প্রশ্ন করব না। এরা কিভাবে কোন চরিত্র বৈশিষ্টের জন্য মৌলিক প্রবন্ধকার হয়েছেন তাও আলোচনা করব না। কিন্তু একটা বিষয় পরিস্কার- দুবংগের সাহিত্যিকদের উদ্যোগে ও অর্থায়নে প্রকাশিত অগ্রবীজ পত্রিকায় বাংলাদেশের চিন্তা ক্ষেত্রটি সন্দেহজনকভাবে অনুপস্থিত। বোঝা যায় বাংলাদেশে কোন মৌলিক চিন্তাবিদ নেই। মৌলিক চিন্তাবিষয়ক কোনো কাজও হচ্ছে না। বিশেষ ঘরাণার তিন/চারজনের একটি সমাবেশ ঘটানো হয়েছে যারা মূলত হাস্যকর রকম লেখা লিখেছেন। তার মানে সৌম্য দাশগুপ্ত তার সম্পাদনার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের চিন্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক শূন্যতা বিরাজ করছে এবং যে অতি ছোট আকারে যে কাজ হচ্ছে তা মৌলিক চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার এবং সলিম উল্লাহ খানের শিষ্যরাই করছেন। তথ্য হিসেবে চমৎকার, অভিনব এবং অনেকের কাছে অপমানকর হবে বলেই আশংকা হয়।
অথচ বাংলাদেশে বিচিত্র বিষয়ে কাজ হচ্ছে এবং সাহিত্য- সংস্কৃতির নান ক্ষেত্রে বিষ্ময়কর রকম ভাবে কাজ হয়েছে এবং হচ্ছে। এবং ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করে, ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ৭১ এর স্বাধীনতাযুদ্ধ, সামরিকশাসন বিরোধী আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশের চিন্তাবিদদের লেখালেখি এসব ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমি রচনা করছে এবং পরিণতির দিকে বাংলাদেশের জনগণকে টেনে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া অন্যান্য শাখায় বাংলাদেশের নিজস্বতা নিয়েই কাজ হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো আমেরিকা প্রবাসী দুটি পিএইচডিধারী পশ্চিম বংগীয় সৌম্য দাশগুপ্ত এই বিষয়গুলিকে অবহেলা কেন করলেন? কেন তিনি বাংলাদেশের সেক্যলার চিন্তাভাবনার মৌলিক প্রবন্ধকারদের বাদ দিলেন যারাই মূলত লেখালেখির জগতে সিংহভাগজুড়ে বিরাজমান? কেন তিনি প্রতিক্রিয়াশীল সম্প্রদায়িক শক্তি ফরহাদ মজহারীয় গৌষ্ঠীকে সামনে টেনে আনলেন?
আসলে কাজটি করেছেন সাদ কামলী, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ। সৌম্য দাশগুপ্ত যিনি বুদ্ধিবিবেচনায় একটু স্থুল যা তার বন্ধুরা বলে থাকেন, চরিত্রে একটু ঢিলা। শোনা যায় মাঝে মাঝে তিনি ঢাকায় যান। হোটেল শেরাটনে থাকেন। সাজ্জাদ, রাইসুদের সংগে মিলিত হন। খানাপিনা এবং টানাও(?) করেন এদের সহযোগে। নিজে কবিতার নামে যা লেখেন তা অতি আবর্জনা। এগুলোকে হয়তো অতি উচ্চাঙ্গের প্রশঙসা করেন মজহার গ্রুপ। এতই তিনি তাদের পারপার্সসার্ভ করতে একপায়ে খাড়া। আর সাজ্জাদরা এ সুযোগে তাকে ব্যবহার করছেন পশ্চিমবংগে ফরহাদীয় ঘরানার বলয় সৃষ্টি করতে।
সম্পাদক সম্পাদকীয়তে যে পাচসাতজন মৌলিক প্রবন্ধকার হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করছিলেন তাদের মধ্যে প্রধান হলেন- আহমদ ছফা, ফরহাদ মজহার এবং সলিম উল্লাহ খান। এবং তাদের ঘরানার অন্যদের নাম দেননি। কিন্তু তাদের লেখা ছাপিয়ে দিয়েছেন।
যাই হোক যে পত্রিকাটির যাত্রা শুরু হয়েছিল কলিম খান নামে একটি ধীমান তাপস মৌলিক চিন্তাবিদের ভাষ্য নিয়ে সে পত্রিকাটিতেই প্ফরহাদ মজহার গ্রুপের একটি আছর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এরকম একটি ষঢ়যন্ত্রের মুখোমুখো হয়েছিল সিলেটের সুনৃত পত্রিকা। আহমদ সায়েম তা সামলেছেন অতি কুশলতার সংগে। আশা করি যে এই পত্রিকাটির সংগে যেসব প্রগতিশীল এবং অসাম্প্রদায়িক সম্পাদকেরা আছেন তারা এ ষঢ়যন্ত্র মোকাবেলায় সমর্থ হবেন।
কি আর করা? এই কথাতো আমরা জানি, বাঁশ যখন একজন শিল্পীর হাতে পড়ে তা বাঁশি হয়ে বাজে, আর বানরের হাতে পড়লে তা লাঠি হয়ে মানুষের মাথায় আঘাত করে বসে। সর্বনাশটি এখানেই।
ধন্যবাদ।
Written about 2 weeks ago · Comment · LikeUnlike · Report Note
You, Pradip Dasgupta, কাননভালা শর্কার, Dobar Bang and 5 others like this.
Pradip Dasgupta, কাননভালা শর্কার, Dobar Bang and 5 others like this.
Show 20 more comments...
Kuladananda Roy
Kuladananda Roy at 6:31pm April 5
এর মধ্যে চৈনিক বিপ্লবী হিসাবে পরিচিত যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল তারা এই অশুভ শক্তির অর্থায়নে আশি সালের দিকে প্রগতিশীল সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নামে নেমে পড়ে এবং কিছু প্রতিভাবান তরুণদের নানা প্রলোভনের মাধ্যমে তাদের গোষ্ঠীভুক্ত করে। শিল্প-সাহিত্য-প্রকাশনা সর্বত্র তাদের হাত সম্প্রসারিত করার চেষ্টা করে। তারা বলার চেষ্টা... Read More করে আশি দশকের পূর্বে শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোন অর্জন নেই। যা কিন্তু হয়েছে তা এই ১৯৭৫ সালের পর থেকে শুরু হয়েছে। তারা এর স্বপক্ষে নানা নান্দনিক তত্ব হাজির করার চেষ্টা করে এবং অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে যার মধ্য দিয়ে তাদের এই আশি পরবর্তী তত্বটি প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে।
Kuladananda Roy
Kuladananda Roy at 7:50pm April 5
অগ্রবীজ পত্রিকায় 'বাংলাদেশে জায়মান (?) মৌলিক ভাবনা' আর আশি দশক পূর্ববর্তী কবিতা অকবিতার কাল আর সাজ্জাদ শরীফ তার বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা সংকলনে বলা আশি পরবর্তী কবিতার অকবিতার কাল একই কথার প্রতিধ্বনি মাত্র। এটা এই গোষ্ঠীর তাদের তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল মাত্র।
আর অগ্রবীজ পত্রিকায় এই রকম একটা কাজ হয়েছে। বাংলাদেশে মৌলিক চিন্তার ক্ষেত্রে যা কিছু অ... Read Moreর্জন তার সিংহভাগই সেক্রুলার প্রগতিশীল ঘরানার কর্মকাণ্ড। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ অভ্যত্থান, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রামে এসব লেখালেখি জনগনের চিন্তায় পরিণত হয়েছে এবং তা আন্দোলন, সংগ্রামে জনগণকে
Kuladananda Roy
Kuladananda Roy at 7:53pm April 5
এগিয়ে নিয়ে গেছে। এমন কি বাংলাদেশে সামরিক শাসন বিরোধী, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে এই সেক্যুলার চিন্তার ভূমিকাই প্রধান। চিন্তা যে বাস্তবতায় পরিণত হয় তার অভিজ্ঞতা পশ্চিমবঙ্গের নেই। এখানেই বাংলাদেশের অনন্যতা এবং মৌলিকতা। এই বিষয়টি ঐ গোষ্ঠীটির পছন্দের নয়। এবং সেজন্য তারা সুকৌশলে এই বিষয়গুলি পাঠকদের নজর থেকে এড়িয়ে দিতে সবসময়ই অপচেষ্টা করে। অগ... Read More্রবীজে ঐ গোষ্ঠীর লোকজন এ আছরটিই করেছে। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের সত্যিকারের অর্জনটি উপেক্ষিত হয়েছে। পাখি বলে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন একটু রাগী ভাষায়। মার্জান আনসার, তুষার গায়েন, ডোবার ব্যাঙ, কালো কালি দাশ প্রমুখ তাদের নিজস্ব স্টাইলে এর সহমত প্রকাশ করেছেন।
Kuladananda Roy
Kuladananda Roy at 7:54pm April 5
এই অশুভশক্তি শুন্য দশকে এসে সরাসরি জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠে। তরুণরা কিন্তু ধীরে ধীরে এই অশুভ শক্তিকে সনাক্ত করে ফেলছে এবং তাদের প্রত্যাখ্যান করছে।
আশা করা যায় অগ্রবীজ এই অশুভ আছর থেকে মুক্ত হবে। সে ধরনের চিন্তা ভাবনার লোক সেখানে আছেন বলেই মনে করি।
Malay Roychoudhury
Malay Roychoudhury at 9:53pm April 5
Bangla to Bangladesher rashtra bhasha. Apnar sarkarkey balun Facebookey Bangla haraf size baro karar problem niye katha boltey. Bangla chhara sab bhashar haraf size baro.
Pradip Dasgupta
Pradip Dasgupta at 2:20am April 6
puro ta khub dhoiryo sohokare porlam , somalochona, pokkhe ba bipokkhe ,dutokei somman janano swasthokor bangla sahityer khetre . tobe somalochona gulo obossyoi swasthokor hote hobe, nitanto akromonatmok hole foldai ba gothonmulok hobe na onek khetre .

ekhane sobai to bangla sahityo premi.

ogrobij ami dekhini tai er theke besi ar kichu bola ta somochin hobe bole mone hoi na.... Read More

amake suchona debar jonnyo dhonnyobad janie choto korbona.
khub bhalo laglo ei jene, bhalo ba kharap jai hok sahityo chorcha cholche, eta khub mulyoban.
aro bhalo laglo, dui banglar manushjon eksathe kaj korchen jene.

choto khato bibad gulor urdhe uthe egie cholun , etai kamona.
sokoler joonyo antorik subhechcha o obhinondon.
গৌতম রায়
গৌতম রায় at 4:12am April 6
অগ্রবীজ পড়ার আগ্রহ বোধ করছি।
Ahmedur Rashid Tutul
Ahmedur Rashid Tutul at 6:54am April 6
লেখাটা শেষ হয়নি বলে মনে হচ্ছে।
Shimul Salahuddin
Shimul Salahuddin at 5:16pm April 10
চমতকার কাজ। ভালো লেখা। শুভকামনা। আরো চাই।
Salim Reza Newton
Salim Reza Newton at 5:06pm April 11
প্রিয় সম্পাদনা-সহচরবৃন্দ (অগ্রবীজ-এর), পত্রিকাটা অনলাইনে দিন না। সবাই নিজের মুখে খেয়ে মজাটা বুঝুক।পাি
Share
Saturday, April 4, 2009 at 1:27pm
অগ্রবীজ নামে একটি পত্রিকা ষান্মাসিকভাবে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে গত ২ বছর ধরে। প্রকাশ স্থল আমেরিকা। এই পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক একজন এবং সম্পাদকমণ্ডলী পাচজন। এই ছয় জনের চারজনের হলেন বাংলাদেশী এবং দুজন পশ্চিম বাংলার। এছাড়া তিনজন বিখ্যাত ব্যাক্তি উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। এরা হলেন হায়াত মামুদ, কেতকী কুশারী ডাইসন এবং শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়। পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যায় সম্পাদক পাল্টে যায়। আমেরিকা, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ায় সম্পাদকমণ্ডলীর বাস এবং এরা পেশাদারীভাবে সবাই মোটামুটিভাবে উচ্চতর অবস্থানে আছেন এবং আর্থিকভাবে স্বাস্থবান। এর মধ্যে প্রধান সম্পাদক চৌধুরী সালাহ উদ্দিন মাহমুদ প্রবন্ধ লেখেন, তাপস গায়েন কবি, সাদ কামালী গল্পকার এবং প্রবন্ধকার, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ কবি, উপন্যাসিক, প্রবন্ধকার; সুবিমল চক্রবর্তী প্রবন্ধকার, সৌম্য দাশগুপ্ত কবিতা লেখার কোশেষ করেন। তিনি দুটি পিএইচডি করেছেন এবং তার পিতৃদেবও এক সময় পিএইচডি করেছিলেন এই তথ্যটি তিনি সগৌরবে তার সম্পাদনাকালে সম্পাদকীয়তে বলেছেন। সুতরাং এইসব গুণীজনদের প্রোডাকশন যে আলাদারকম হবে তা বলাই বাহুল্য।
প্রথম সংখ্যা ছিল ৩০৩ পৃষ্ঠার, দ্বিতীয় সংখ্যা ৪০৪ এবং তৃতীয় সংখ্যাটি ২৮২ পৃষ্ঠার। এত বড়ো কলেবরের সাহিত্য পত্রিকা বিদেশ বিভূই থেকে নিয়মিত প্রকাশ করা একটি উন্নত রুচি ও সাহসের বিষয়।
প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন কবি তাপস গায়েন। তিনি জানাচ্ছেন অগ্রবীজ পত্রিকা বিশ্বায়নের একাকার হবার ভাবনাকে যেমন প্রশ্রয় দেয়, আবার একই সংগে মান্য করে রবীন্দ্রনাথের বিশেষ চিন্তা্। ..আত্মবিচ্ছেদ নয়, বরং জ্ঞানপ্রবাহে অবগাহন এবং সেই প্রবাহকে আরও বেগবান করা জরুরী... বিবেচনা করেই অগ্রবীজের প্রকাশনা। সম্পাদকীয়র ভাষা অনেকটা কলিম খানের ভাষ্য। কলিম খান একজন অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, প্রগতিশীল ঘরানার পণ্ডিত ব্যক্তি। তার সুর অগ্রবীজে শোনা মানে হল একটি সুস্থ অন্বেষণের হাওয়ার সংবাদ পাওয়া।
তাপস গায়েনের সম্পাদনায় লেখক তালিকা- কলিম খান, রবি চক্রবর্তী, শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়, মাসুদ খান, চৌধুরী সালাহউদ্দিন মাহমুদ, কৃত্তিবাস চক্রবর্তী, সন্তোষ রায়, অলক দাশগুপ্ত, দেলোয়ার হোসেন মন্জু, কাকলী গঙ্গোপাধ্যায়, সরকার আমিন, তাপস গায়েন। এরা প্রবন্ধকার। কবি আছেন বেশ কয়েকজন। এবং প্রগতিশীল গল্পকার জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে নিয়ে একটি ক্রোড়পত্রও এ সংখ্যার মান বৃদ্ধি করেছে। প্রকাশনার পরপরই সংখ্যাটি শুভ সূচনা করে।
দ্বিতীয় সংখ্যার সম্পাদক সাদ কামালী। এটির বিষয় ছিল সাব-অল্টার্ন। লেখক তালিকা- শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়, সাদ কামালী, রাজর্ষী দাশগ্রপ্ত, শাওন আকন্দ, সুমনা দাশ সুর, চৌধুরী সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, সলিম উল্লাহ খান, কাবেরী গায়েন, আনিস আহমেদ, নিখিলেশ রায়, হাফিজ রশিদ খান, মাসুদ খান, তাপস গায়েন, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ প্রমুখ। এ সংখ্যায় দেখা যায় সাদ কামলী সলিউল্লাহ খানকে হাজির করেছেন। খান সাহেব তার অতি উন্নাসিক ভাষায় এনলাইটেনমেন্ট কী বস্তু সে বিষয়ে একটি বক্তৃতা করেছিলেন তা ছাপানো হয়েছে। খান সাহেব পাঠকদের গাধা মনে করেন। সেজন্যে গাধা পিটিয়ে মানুষ করার এক ধরনের পণ্ডিতি প্রবণতা তার লেখায় পাওয়া যায়। পৃথিবীতে কতো বিচিত্র মানুষ আছে। এটাও একটা বিশেষ ধরন। তবে এটা পাঠকপ্রিয়তার বিপক্ষে যায়।
তৃতীয় সংখ্যার সম্পাদক সৌম্য দাশগুপ্ত। বিষয় মৌলিক চিন্তা। মৌলিক চিন্তা বিষয়ে সম্পাদক জানাচ্ছেন- বহমান সময়, সমাজ, রাজনীতি ও জীবনযাপন, সাহিত্য-দর্শন-শিল্পকলা ও বিচিত্রবিদ্যা বিষয়ে মননশীল মানুষের ভাবনা ও মত থাকবেই- এগুলি মৌলিক চিন্তার আবশ্যকীয় উপাদান। কিন্তু মৌলিক হতে গেলে একটি নিজস্ব নতুন দৃষ্টিভঙ্গী ও মত-এর গুরুত্ব আরো বেশি। আর যে মত যত সুচিন্তিত ও নতুন ভাবনার দিশারী, সেই মতের প্রাধান্য যেন আরো বেশি। কি দেখছি তার ধারাবিবরণী যথেষ্ট নয়, কি দেখতে পারতাম বা দেখতে চাই, এই মতসহ বিশ্লেষণ যেন অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদকমণ্ডলী দুই বাংলার দুধরনের লেখকদের কাছ থেকে লেখা সংগ্রহের তাগিদ অনুভব করেছিলেন। এক- যারা পণ্ডিত, বিশ্লেষক, গবেষক, চিন্তক , আর দুই- যারা শিল্প-সাহিত্যের-বিজ্ঞানের নানা শাখায় মৌলিক ধারার প্রবর্তক।
এই ধারার লেখক তালিকা দেখুন- পশ্চিম বঙ্গের শিবনারায়ণ রায়, অভ্র ঘোষ, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, তরুণ সান্যাল, সুবিমল চক্রবর্তী, নিত্যপ্রিয় ঘোষ, অভিজিৎ রায়, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়, যশোধারা রায়চৌধুরী। এরা মৌলিক বিষয় নিয়ে চিন্তিত প্রবন্ধ লিখেছেন। আর বাংলাদেশ থেকে মৌলিক চিন্তাবিদ হিসেবে লিখেছেন- মাসুদ খান, আদিত্য কবীর, ব্রাত্য রাইসু। সম্পাদক অবশ্য সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের নাম করেছেন এ সংখ্যায় প্রবন্ধকার হিসেবে, তবে তার প্রবন্ধ দেখা গেল না। তবে সম্পাদক সৌম্য দাশগুপ্ত অবশ্য একটি শোকবাণী দিয়েছেন- আমাদের ঘনিষ্টবন্ধু সাজ্জাদ শরীফ একটি রীতিমতো প্রবন্ধ শুরু করেছিলেন, কিন্তু তার বিখ্যাত ব্যস্ততার সংগে যোগসাজসে শয়তানী করলো তার কম্প্যুটার। মধ্যপথে সেটি ক্রাশ করায় বাংলাদেশে জায়মান (?) মৌলিক ভাবনার উপর বিশ্লেষণধর্মী সম্পূর্ণ লেখাটি চিরতরে হারিয়ে গেল। সম্পাদক এরপর সাজ্জাদ শরীফের ব্যক্তিগত চিঠিটি বিশিষভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা করেছেন। চিঠিটির নাম- মহা সর্বনাশ হয়েছে। এইরকম চিঠিও যে মহা মৌলিক চিন্তাবাহী তা সৌম্য দাশগুপ্ত মারফত জানা গেল। অগ্রবীজের এই সংখ্যাটি পড়লে বোঝা যায় পশ্চিম বংগে অনেক শক্তিশালী প্রবন্ধকার রয়েছেন। সেখানে সম্পাদক কথিক মৌলিক চিন্তার ক্ষেত্রেগুলিতে অনেক কাজ হচ্ছে। বিষয়সূচি দেখুন- মূঢ়তার জযযাত্রা, বাংলা ভাষায় মৌলিক প্রবন্ধ চর্চা কি কমছে ক্রমশ?, মৌলিকতা বিষয়ে একটি অমৌলিক মৌলবাদি খসড়া, রেনেসাঁস আমাদের ও তাহাদের, অন্তর্জালে কথকতা, জালে বন্দি বিবেক ও মুক্ত চিন্তা, চির সখা হে, রবীন্দ্রে বিজ্ঞান, ল্যালা ম্যানিফেস্টো, মেয়েদের কিছু একটা হয়েছে। তিনজন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন- কেন নাটক লিখি- ব্রাত্য বসু, গানের বদল/ বদলের গান- কবীর সুমন এবং অভিজ্ঞতার কুঠার- জয় গোস্বামী। আর বাংলাদেশের মৌলিক প্রবন্ধকাররা লিখেছেন- ভিন্নতর রেনেসাঁর খোজে- মাসুদ খান, জাত বেজাত বিষয়ে একটি উগ্র পত্র- আসেন সাম্প্রদায়িক হই- আদিত্য কবীর এবং ভবে সাব অলটার্নতর কে দেইখা রাখবে তবে?- ব্রাত্য রাইসু। সম্পাদক বাংলাদেশ থেকে আর মৌলিক প্রবন্ধকার খুঁজে পাননি বলে তারা মৌলিক প্রবন্ধের অভাব মিটিয়েছেন সাজ্জাদ শরীফের চিঠিটি দিয়ে।
পশ্চিমবংগের প্রবন্ধকারের সংখ্যাও বেশি এবং বিষয়ও বিচিত্র। সব মতাদর্শের প্রবন্ধকারের সমবাবেশ ঘটেছে। পশ্চিমবংগের চিন্তা বিচিত্র চর্চার ক্ষেত্রটিকে সহজে সনাক্ত করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রবন্থকার মাত্র তিনজন। তাদের লেখার মান বিষয়ে কোন প্রশ্ন করব না। এরা কিভাবে কোন চরিত্র বৈশিষ্টের জন্য মৌলিক প্রবন্ধকার হয়েছেন তাও আলোচনা করব না। কিন্তু একটা বিষয় পরিস্কার- দুবংগের সাহিত্যিকদের উদ্যোগে ও অর্থায়নে প্রকাশিত অগ্রবীজ পত্রিকায় বাংলাদেশের চিন্তা ক্ষেত্রটি সন্দেহজনকভাবে অনুপস্থিত। বোঝা যায় বাংলাদেশে কোন মৌলিক চিন্তাবিদ নেই। মৌলিক চিন্তাবিষয়ক কোনো কাজও হচ্ছে না। বিশেষ ঘরাণার তিন/চারজনের একটি সমাবেশ ঘটানো হয়েছে যারা মূলত হাস্যকর রকম লেখা লিখেছেন। তার মানে সৌম্য দাশগুপ্ত তার সম্পাদনার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের চিন্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক শূন্যতা বিরাজ করছে এবং যে অতি ছোট আকারে যে কাজ হচ্ছে তা মৌলিক চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার এবং সলিম উল্লাহ খানের শিষ্যরাই করছেন। তথ্য হিসেবে চমৎকার, অভিনব এবং অনেকের কাছে অপমানকর হবে বলেই আশংকা হয়।
অথচ বাংলাদেশে বিচিত্র বিষয়ে কাজ হচ্ছে এবং সাহিত্য- সংস্কৃতির নান ক্ষেত্রে বিষ্ময়কর রকম ভাবে কাজ হয়েছে এবং হচ্ছে। এবং ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করে, ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ৭১ এর স্বাধীনতাযুদ্ধ, সামরিকশাসন বিরোধী আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশের চিন্তাবিদদের লেখালেখি এসব ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমি রচনা করছে এবং পরিণতির দিকে বাংলাদেশের জনগণকে টেনে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া অন্যান্য শাখায় বাংলাদেশের নিজস্বতা নিয়েই কাজ হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো আমেরিকা প্রবাসী দুটি পিএইচডিধারী পশ্চিম বংগীয় সৌম্য দাশগুপ্ত এই বিষয়গুলিকে অবহেলা কেন করলেন? কেন তিনি বাংলাদেশের সেক্যলার চিন্তাভাবনার মৌলিক প্রবন্ধকারদের বাদ দিলেন যারাই মূলত লেখালেখির জগতে সিংহভাগজুড়ে বিরাজমান? কেন তিনি প্রতিক্রিয়াশীল সম্প্রদায়িক শক্তি ফরহাদ মজহারীয় গৌষ্ঠীকে সামনে টেনে আনলেন?
আসলে কাজটি করেছেন সাদ কামলী, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ। সৌম্য দাশগুপ্ত যিনি বুদ্ধিবিবেচনায় একটু স্থুল যা তার বন্ধুরা বলে থাকেন, চরিত্রে একটু ঢিলা। শোনা যায় মাঝে মাঝে তিনি ঢাকায় যান। হোটেল শেরাটনে থাকেন। সাজ্জাদ, রাইসুদের সংগে মিলিত হন। খানাপিনা এবং টানাও(?) করেন এদের সহযোগে। নিজে কবিতার নামে যা লেখেন তা অতি আবর্জনা। এগুলোকে হয়তো অতি উচ্চাঙ্গের প্রশঙসা করেন মজহার গ্রুপ। এতই তিনি তাদের পারপার্সসার্ভ করতে একপায়ে খাড়া। আর সাজ্জাদরা এ সুযোগে তাকে ব্যবহার করছেন পশ্চিমবংগে ফরহাদীয় ঘরানার বলয় সৃষ্টি করতে।
সম্পাদক সম্পাদকীয়তে যে পাচসাতজন মৌলিক প্রবন্ধকার হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করছিলেন তাদের মধ্যে প্রধান হলেন- আহমদ ছফা, ফরহাদ মজহার এবং সলিম উল্লাহ খান। এবং তাদের ঘরানার অন্যদের নাম দেননি। কিন্তু তাদের লেখা ছাপিয়ে দিয়েছেন।
যাই হোক যে পত্রিকাটির যাত্রা শুরু হয়েছিল কলিম খান নামে একটি ধীমান তাপস মৌলিক চিন্তাবিদের ভাষ্য নিয়ে সে পত্রিকাটিতেই প্ফরহাদ মজহার গ্রুপের একটি আছর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এরকম একটি ষঢ়যন্ত্রের মুখোমুখো হয়েছিল সিলেটের সুনৃত পত্রিকা। আহমদ সায়েম তা সামলেছেন অতি কুশলতার সংগে। আশা করি যে এই পত্রিকাটির সংগে যেসব প্রগতিশীল এবং অসাম্প্রদায়িক সম্পাদকেরা আছেন তারা এ ষঢ়যন্ত্র মোকাবেলায় সমর্থ হবেন।
কি আর করা? এই কথাতো আমরা জানি, বাঁশ যখন একজন শিল্পীর হাতে পড়ে তা বাঁশি হয়ে বাজে, আর বানরের হাতে পড়লে তা লাঠি হয়ে মানুষের মাথায় আঘাত করে বসে। সর্বনাশটি এখানেই।
ধন্যবাদ।
Written about 2 weeks ago · Comment · LikeUnlike · Report Note
You, Pradip Dasgupta, কাননভালা শর্কার, Dobar Bang and 5 others like this.
Pradip Dasgupta, কাননভালা শর্কার, Dobar Bang and 5 others like this.
Show 20 more comments...
Kuladananda Roy
Kuladananda Roy at 6:31pm April 5
এর মধ্যে চৈনিক বিপ্লবী হিসাবে পরিচিত যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল তারা এই অশুভ শক্তির অর্থায়নে আশি সালের দিকে প্রগতিশীল সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নামে নেমে পড়ে এবং কিছু প্রতিভাবান তরুণদের নানা প্রলোভনের মাধ্যমে তাদের গোষ্ঠীভুক্ত করে। শিল্প-সাহিত্য-প্রকাশনা সর্বত্র তাদের হাত সম্প্রসারিত করার চেষ্টা করে। তারা বলার চেষ্টা... Read More করে আশি দশকের পূর্বে শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোন অর্জন নেই। যা কিন্তু হয়েছে তা এই ১৯৭৫ সালের পর থেকে শুরু হয়েছে। তারা এর স্বপক্ষে নানা নান্দনিক তত্ব হাজির করার চেষ্টা করে এবং অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে যার মধ্য দিয়ে তাদের এই আশি পরবর্তী তত্বটি প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে।
Kuladananda Roy
Kuladananda Roy at 7:50pm April 5
অগ্রবীজ পত্রিকায় 'বাংলাদেশে জায়মান (?) মৌলিক ভাবনা' আর আশি দশক পূর্ববর্তী কবিতা অকবিতার কাল আর সাজ্জাদ শরীফ তার বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা সংকলনে বলা আশি পরবর্তী কবিতার অকবিতার কাল একই কথার প্রতিধ্বনি মাত্র। এটা এই গোষ্ঠীর তাদের তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল মাত্র।
আর অগ্রবীজ পত্রিকায় এই রকম একটা কাজ হয়েছে। বাংলাদেশে মৌলিক চিন্তার ক্ষেত্রে যা কিছু অ... Read Moreর্জন তার সিংহভাগই সেক্রুলার প্রগতিশীল ঘরানার কর্মকাণ্ড। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ অভ্যত্থান, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রামে এসব লেখালেখি জনগনের চিন্তায় পরিণত হয়েছে এবং তা আন্দোলন, সংগ্রামে জনগণকে
Kuladananda Roy
Kuladananda Roy at 7:53pm April 5
এগিয়ে নিয়ে গেছে। এমন কি বাংলাদেশে সামরিক শাসন বিরোধী, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে এই সেক্যুলার চিন্তার ভূমিকাই প্রধান। চিন্তা যে বাস্তবতায় পরিণত হয় তার অভিজ্ঞতা পশ্চিমবঙ্গের নেই। এখানেই বাংলাদেশের অনন্যতা এবং মৌলিকতা। এই বিষয়টি ঐ গোষ্ঠীটির পছন্দের নয়। এবং সেজন্য তারা সুকৌশলে এই বিষয়গুলি পাঠকদের নজর থেকে এড়িয়ে দিতে সবসময়ই অপচেষ্টা করে। অগ... Read More্রবীজে ঐ গোষ্ঠীর লোকজন এ আছরটিই করেছে। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের সত্যিকারের অর্জনটি উপেক্ষিত হয়েছে। পাখি বলে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন একটু রাগী ভাষায়। মার্জান আনসার, তুষার গায়েন, ডোবার ব্যাঙ, কালো কালি দাশ প্রমুখ তাদের নিজস্ব স্টাইলে এর সহমত প্রকাশ করেছেন।
Kuladananda Roy
Kuladananda Roy at 7:54pm April 5
এই অশুভশক্তি শুন্য দশকে এসে সরাসরি জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠে। তরুণরা কিন্তু ধীরে ধীরে এই অশুভ শক্তিকে সনাক্ত করে ফেলছে এবং তাদের প্রত্যাখ্যান করছে।
আশা করা যায় অগ্রবীজ এই অশুভ আছর থেকে মুক্ত হবে। সে ধরনের চিন্তা ভাবনার লোক সেখানে আছেন বলেই মনে করি।
Malay Roychoudhury
Malay Roychoudhury at 9:53pm April 5
Bangla to Bangladesher rashtra bhasha. Apnar sarkarkey balun Facebookey Bangla haraf size baro karar problem niye katha boltey. Bangla chhara sab bhashar haraf size baro.
Pradip Dasgupta
Pradip Dasgupta at 2:20am April 6
puro ta khub dhoiryo sohokare porlam , somalochona, pokkhe ba bipokkhe ,dutokei somman janano swasthokor bangla sahityer khetre . tobe somalochona gulo obossyoi swasthokor hote hobe, nitanto akromonatmok hole foldai ba gothonmulok hobe na onek khetre .

ekhane sobai to bangla sahityo premi.

ogrobij ami dekhini tai er theke besi ar kichu bola ta somochin hobe bole mone hoi na.... Read More

amake suchona debar jonnyo dhonnyobad janie choto korbona.
khub bhalo laglo ei jene, bhalo ba kharap jai hok sahityo chorcha cholche, eta khub mulyoban.
aro bhalo laglo, dui banglar manushjon eksathe kaj korchen jene.

choto khato bibad gulor urdhe uthe egie cholun , etai kamona.
sokoler joonyo antorik subhechcha o obhinondon.
গৌতম রায়
গৌতম রায় at 4:12am April 6
অগ্রবীজ পড়ার আগ্রহ বোধ করছি।
Ahmedur Rashid Tutul
Ahmedur Rashid Tutul at 6:54am April 6
লেখাটা শেষ হয়নি বলে মনে হচ্ছে।
Shimul Salahuddin
Shimul Salahuddin at 5:16pm April 10
চমতকার কাজ। ভালো লেখা। শুভকামনা। আরো চাই।
Salim Reza Newton
Salim Reza Newton at 5:06pm April 11
প্রিয় সম্পাদনা-সহচরবৃন্দ (অগ্রবীজ-এর), পত্রিকাটা অনলাইনে দিন না। সবাই নিজের মুখে খেয়ে মজাটা বুঝুক।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×