দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত কবি কাজল শাহনেওয়াজের সাক্ষাৎকার
ইত্তেফাক এর প্রশ্নাবলী
০১. ‘কাঠকয়লায় আঁকা তোমাকে আমার’ বইটির ‘তুমি’টি আসলে কে? ০২. বইটির কবিতাগুলি লেখা হইছে ২০০৮ সালের জুন মাসের মধ্যে। তখন আমাদের জীবন তীব্র সংকটে। আর্থিক টানাপড়েনে মূলত বেঁচে থাকাই কষ্টের তখন। এমন সময়ে নিরেট বাসত্মবতা থেকে উৎসরিত কবিতার বিভা আপনাকে টেনে নিলো তার কাছে। তো, কবিতা কল্পনার জিনিস বলেও মানেন আপনি (অনত্মত আপনার বইয়ের ফ্ল্যাপ সেই সাক্ষ্য দেয়); কবিতার সঙ্গে কল্পনার সম্পর্কটির প্রকাশ কেমন হতে পারে বলে আপনার ধারণা? অথবা কবিতায় কল্পনা ও বাসত্মবতার পারস্পরিক সহাবস'ানের মাত্রাটা ঠিক কতটুকু বলে মনে করেন? ০৩. যে বাসত্মবতার অভিঘাত থেকে এই বইয়ের কবিতাগুলির জন্ম সেই বাসত্মবতা কি কল্পনার কাছে খোয়া গেলো? যে বাসত্মবতার তাড়ায় এই বইয়ের কবিতাগুলি আপনি লিখতে শুরম্ন করেন সেই বাসত্মবতাকে ধরতে পেরেছেন বলে মনে হয়? ০৪. ‘ঢাকায় কোন’ কবিতাটিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নাম ব্যবহার করেছেন। এই নাম ব্যবহার কি কবিতাটিকে আবদ্ধ করে ফেলেছে বলে মনে হয় না? না যদি মনে হয় তাহলে কিভাবে তা উৎরালো? ০৫. অনত্মমিল তো গত বছর বিশেকের বাংলাদেশের কবিতা থেকে প্রায় নির্বাসিত। আপনার কবিতায় অনত্মমিলের উপসি'তি টের পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনার অনত্মমিলগুলো শুধু কানেই টের পাওয়া যায় তা নয়, চোখেও ধরা পড়ে। যেমন “চলো আজ পান করি। চলো, চলো।/চোখের নিচে ঘাম ছলো ছলো।’ এখানে “চোখের নিচে ঘাম ছলো ছলো”র মতো শক্তিমান একটি বাক্য প্রায় টেরই পাওয়া যায় না আগের বাক্যের “চলো, চলো”র কারণে। মনে হয় অনত্মমিলের সুবিধার জন্যেই এই “ছলো ছলো” ব্যবহৃত হলো। অনত্মমিলের এই চোখে-ধরা-পড়া তো কবিতার জন্য ক্ষতিকারক। একে উৎরানোর উপায় কী? ০৬. ‘ঢাকা শহরে’ কবিতাটি। এখানে আপনি বলছেন, “তুমি কথা বলতে বলতে ... ভালবাসি তোমাকে”। এখানে মোবাইল ফোন শব্দযুগল কবিতাটিকে পাতলা করে দিলো কি? আপনার কাছে ঠিক কোন্ রূপক নিয়ে কবিতায় প্রবেশের দাবি জানিয়েছিলো এই শব্দযুগল? ০৭. আপনি কবিতাকে ‘নারী‘ হিসেবে দেখেন কেনো?
কাজল শাহনেওয়াজ এর উত্তর
কবিতাগুলি আপনি বলতে পারেন ষাট-চল্লিশের ভাগাভাগির খেলা। বাস-বতা আর কল্পনার এই পরিমান মিশেলে একটা বিষয় কবিতা হয়েছে।
তবে এটা হল রান্নার রেসিপি। বাজার থেকে উপকরণগুলি আনলেই কিন' আপনি রাধতে পারবেন না, আপনার আরো কিছু বাড়তি জিনিস লাগবে। যেমন পূর্বঅভিজ্ঞতা, আগুন ও পানির ব্যবহার জানা, পোড়ানো ও সেদ্ধ করার কৌশল আয়ত্বে থাকা, নুন-মশলা-তেল এর রস রসায়ন উপলব্ধি।
আপনি কি আমার আগের কবিতাগুলি পড়েছেন? ‘ছাট কাগজের মলাট’, ‘জলমগ্ন পাঠশালা’, ‘রহস্য খোলার রেঞ্চ’ বা ‘আমার শ্বাসমূল’? পড়া থাকলে বুঝতে পারতেন আমার কবিতার ধারাক্রম। তাতে উপভোগের মাত্রা বাড়তো। তা না হলে আমার এই কবিতাগুলি আপনাকে একটা বিশেষ অনুধাবনই দেবে শুধু। আরো অনেক কিছুর সম্ভাবনা কে হয়ত রহিত করবে।
আমি এক বিশেষ রকমের বাস-বতাবোধ দিয়ে তাড়িত (নাকি স্পৃষ্ট!) হই। ‘জলমগ্নে’র কবিতাগুলি ছিল অনেকাংশে সাইবারনেটিক বোধ দ্বারা জাড়িত - আমার পাঠের জগৎ, যৌবনের রহস্যলীলা এই সব একটা জড় দুনিয়ার প্রকৌশল বোধ থেকে টুকে নেওয়া। ওখানে যন্ত্রদুনিয়ার সাথে জীবনদুনিয়ার মিলমিশ হবার কল্পনায় ত্র্যস- ছিলাম আমি।
কিন' ‘রহস্য খোলার রেঞ্চ’ এ আমার আত্মজগতের ভিতর পিলপিল করে অন্য মানুষেরা ঢুকে যেতে থাকে, রহস্য খুলে দেবার প্রবল পাপ আমার কবিতার ভিতর কাজ করে। অনেকগুলি চোখ, অনেকগুলি কান অর্জন করি আমি।
আমি কখনই ফুসফুস ছন্দে কবিতা লিখিনাই। বিষয়ের ছন্দে লিখি। শব্দের অন-মিলঝিলের বিষয়টা তো কবিতার একটা কায়দা, শব্দ ভেলকি। ভেলকি দেখাবার জন্য আমি আরো কতগুলি পুরানা এবং অনেকানেক নতুন কৌশল ব্যবহার করি। যেগুলার আর মূল জনজীবনে কোন ব্যবহার নাই (যেমন অন- মিল বা আরো স্পষ্ট করে বললে, মাত্রাবৃত্ত/অক্ষরবৃত্ত নামক ছন্দ কৌশল) সেইগুলি ব্যবহার করি চোখে দেখিয়ে দেখিয়ে। ভেলকি দেখাতে গেলে আপনাকে নতুন পুরানা সব কৌশলই নিতে হবে, কারন বিষয়টাই প্রধান, আর বিষয়টার বিষ বা অমৃত যে খাওয়াতেই হবে। আমার কাছে ছলো ছলো চোখের দৃষ্টি পানের এর চেয়ে মোক্ষম কায়দা তখন ছিল না বলেই এভাবে লিখেছি। যা লিখেছি একটানে লিখেছি, আশা করি এক দমে পড়ে ফেলে কবিতা ভোগ করার পথে তা কাজেই লেগেছে।
‘কাঠ কয়লা...’ বইটায় ‘তুমি’ হচ্ছে কবিতা রচনার সময়কাল, অর্থাৎ ২০০৮ সনের মে-জুন মাস। আর ‘আমি’ হচ্ছে কবিতার পাঠক (বা দর্শক বলতে পারেন)। একটা ব্যাপক পারসোনিফিকেসন ঘটেছে সব কবিতা মিলে, যেহেতু সবগুলি কবিতাই অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত পরস্পরের সাথে। মোবাইল ফোন, ঢাকা শহর, রিকসা, কচুক্ষেত/মিরপুর/লালমাটিয়া/বাড্ডা - এগুলি হচ্ছে বাস-বতার দেহ। দেহ আর অদেহ’র একটা তীব্র আলিঙ্গনের ইচ্ছার মাঝখানে বাধা হচ্ছে দ্বিতীয় প্রকৃতি, মানে বিদ্যুৎ অব্যবস'া। দেশের অগণতান্ত্রিক পরিসি'তি (তৎকালীন) ‘আমি’ আর ‘তুমি’র মনবাঞ্ছা পূরণের পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখে।
কিন' কবিতা তো আমার ইচ্ছাপূরণের জন্য লেখা না। কবিতা নিজেই একটা কিছু তৈরী করেছে। বাস-বতা ৬০ ভাগ ঠিকই, কিন' বাকি ৪০ ভাগ এজন্যই আমার কবিতাকে অন্য কোথায় যেন নিয়ে গেছে। আর তাই এটা শুধু একটা ২০০৮ সালের ব্যাপার নয়, আমাদের আরো নানান সময়ের অন্য বাস-বতার খেলা ধরে রেখেছে। যুদ্ধের বিজয় যেমন জীবনকে প্রভাবিত করে, যুদ্ধের অপরাধও তো তেমনি ব্যাক্তিকে আক্রান- করে, সময়কে নগ্ন করে দেয়।
কবিতা আক্রান-কে যেমন খুঁজে নেয়, অপরাধীর আত্মার ভিতরেও বাড়িয়ে দেয় তার হাত, তার ছন্দ। ১৪১৬ সনটায় আমি আমার আত্মাকে খুলে রাখলাম, আক্রান- আর অপরাধীর মুখ দেখব বলে।
......................................................................................................................................
*কবি কাজল শাহনেওয়াজের এই সাক্ষাৎকারটি দৈনিক ইত্তেফাকের পক্ষে নিয়েছিলেন কবি পলাশ দত্ত। উপরের অংশটুকু সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীর প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে কবির মূল উত্তর। নিচের অংশটুকু দৈনিক ইত্তেফকে যেভাবে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে। কাজল শাহনেওয়াজকে বুঝতে আমি তার মূল অংশটুকুই আগে তুলে দিলাম।
......................................................................................................................................
আমি বিশেষ ধরনের বাস্তবতাবোধ দ্বারা তাড়িত হই : কাজল শাহনেওয়াজ
কবিতা তো আমার ইচ্ছাপূরণের জন্য লেখা না। কবিতা নিজেই একটা কিছু তৈরি করেছে। বাসত্মবতা ৬০ ভাগ ঠিকই, কিন্তু বাকি ৪০ ভাগ এজন্যই আমার কবিতাকে অন্য কোথায় যেন নিয়ে গেছে। আর তাই এটা শুধু একটা ২০০৮ সালের ব্যাপার নয়, আমাদের আরো নানান সময়ের অন্য বাসত্মবতার খেলা ধরে রেখেছে। যুদ্ধের বিজয় যেমন জীবনকে প্রভাবিত করে, যুদ্ধের অপরাধও তো তেমনি ব্যাক্তিকে আক্রানত্ম করে, সময়কে নগ্ন করে দেয়
প্রশ্ন: ‘কাঠকয়লায় আঁকা তোমাকে আমার’ বইটির ‘তুমি’টি আসলে কে?
কাজল শাহনেওয়াজ: ‘কাঠ কয়লাঃ’ বইটায় ‘তুমি’ হচ্ছে কবিতা রচনার সময়কাল, অর্থাৎ ২০০৮ সনের মে-জুন মাস। আর ‘আমি’ হচ্ছে কবিতার পাঠক (বা দর্শক বলতে পারেন)। একটা ব্যাপক পারসোনিফিকেসন ঘটেছে সব কবিতা মিলে, যেহেতু সবগুলি কবিতাই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত পরস্পরের সাথে। মোবাইল ফোন, ঢাকা শহর, রিকসা, কচুড়্গেত/ মিরপুর/ লালমাটিয়া/ বাড্ডা- এগুলি হচ্ছে বাসত্মবতার দেহ। দেহ আর অদেহ’র একটা তীব্র আলিঙ্গনের ইচ্ছার মাঝখানে বাধা হচ্ছে দ্বিতীয় প্রকৃতি, মানে বিদ্যুৎ অব্যবস্থা। দেশের অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি (তৎকালীন) ‘আমি’ আর ‘তুমি’র মনবাঞ্ছা পূরণের পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখে। কিন্তু কবিতা তো আমার ইচ্ছাপূরণের জন্য লেখা না। কবিতা নিজেই একটা কিছু তৈরি করেছে। বাসত্মবতা ৬০ ভাগ ঠিকই, কিন্তু বাকি ৪০ ভাগ এজন্যই আমার কবিতাকে অন্য কোথায় যেন নিয়ে গেছে। আর তাই এটা শুধু একটা ২০০৮ সালের ব্যাপার নয়, আমাদের আরো নানান সময়ের অন্য বাসত্মবতার খেলা ধরে রেখেছে। যুদ্ধের বিজয় যেমন জীবনকে প্রভাবিত করে, যুদ্ধের অপরাধও তো তেমনি ব্যাক্তিকে আক্রানত্ম করে, সময়কে নগ্ন করে দেয়।
প্রশ্ন: বইয়ের কবিতাগুলি লেখা ২০০৮ সালের জুন মাসের মধ্যে। তখন আমাদের জীবন তীব্র সংকটে। আর্থিক টানাপড়েনে মূলত বেঁচে থাকাই কষ্টের তখন। এমন সময়ে নিরেট বাসত্মবতা থেকে উৎসারিত কবিতার বিভা আপনাকে টেনে নিলো তার কাছে। তো, কবিতা কল্পনার জিনিস বলেও মানেন আপনি (অনত্মত আপনার বইয়ের ফ্ল্যাপ সেই সাড়্গ্য দেয়); কবিতার সঙ্গে কল্পনার সম্পর্কটির প্রকাশ কেমন হতে পারে বলে আপনার ধারণা? অথবা কবিতায় কল্পনা ও বাসত্মবতার পারস্পরিক সহাবস্থানের মাত্রাটা ঠিক কতটুকু বলে মনে করেন?
কাজল শাহনেওয়াজ: কবিতাগুলি আপনি বলতে পারেন ষাট-চলিস্নশের ভাগাভাগির খেলা। বাসত্মবতা আর কল্পনার এই পরিমাণ মিশেলে একটা বিষয় কবিতা হয়েছে। তবে এটা হল রান্নার রেসিপি। বাজার থেকে উপকরণগুলি আনলেই কিন্তু আপনি রাঁধতে পারবেন না, আপনার আরো কিছু বাড়তি জিনিস লাগবে। যেমন পূর্বঅভিজ্ঞতা, আগুন ও পানির ব্যবহার জানা, পোড়ানো ও সেদ্ধ করার কৌশল আয়ত্বে থাকা, নুন-মশলা-তেল এর রস রসায়ন উপলব্ধি।
প্রশ্ন: যে বাসত্মবতার অভিঘাত থেকে এই বইয়ের কবিতাগুলির জন্ম সেই বাসত্মবতা কি কল্পনার কাছে খোয়া গেলো? যে বাসত্মবতার তাড়ায় এই বইয়ের কবিতাগুলি আপনি লিখতে শুরম্ন করেন সেই বাসত্মবতাকে ধরতে পেরেছেন বলে মনে হয়?
কাজল শাহনেওয়াজ: আপনি কি আমার আগের কবিতাগুলি পড়েছেন? ‘ছাট কাগজের মলাট’, ‘জলমগ্ন পাঠশালা’, ‘রহস্য খোলার রেঞ্চ’ বা ‘আমার শ্বাসমূল’? পড়া থাকলে বুঝতে পারতেন আমার কবিতার ধারাক্রম। তাতে উপভোগের মাত্রা বাড়তো। তা না হলে আমার এই কবিতাগুলি আপনাকে একটা বিশেষ অনুধাবনই দেবে শুধু। আরো অনেক কিছুর সম্ভাবনাকে হয়ত রহিত করবে।
প্রশ্ন: ‘ঢাকায় কোন’ কবিতাটিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নাম ব্যবহার করেছেন। এই নাম ব্যবহার কি কবিতাটিকে আবদ্ধ করে ফেলেছে বলে মনে হয় না? না যদি মনে হয় তাহলে কিভাবে তা উৎরালো? ‘ঢাকা শহরে’ কবিতাটি। এখানে আপনি বলছেন, ‘তুমি কথা বলতে বলতেঃ ভালবাসি তোমাকে’। এখানে মোবাইল ফোন শব্দযুগল কবিতাটিকে হালকা করে দিলো কি? আপনার কাছে ঠিক কোন রূপক নিয়ে কবিতায় প্রবেশের দাবি জানিয়েছিলো এই শব্দযুগল?
কাজল শাহনেওয়াজ: আমি এক বিশেষ রকমের বাসত্মবতাবোধ দিয়ে তাড়িত (নাকি স্পৃষ্ট!) হই। ‘জলমগ্নে’র কবিতাগুলি ছিল অনেকাংশে সাইবারনেটিক বোধ দ্বারা জাড়িত- আমার পাঠের জগৎ, যৌবনের রহস্যলীলা এই সব একটা জড় দুনিয়ার প্রকৌশল বোধ থেকে টুকে নেওয়া। ওখানে যন্ত্রদুনিয়ার সাথে জীবনদুনিয়ার মিলমিশ হবার কল্পনায় ত্র্যসত্ম ছিলাম আমি। কিন্তু ‘রহস্য খোলার রেঞ্চ’ এ আমার আত্মজগতের ভিতর পিলপিল করে অন্য মানুষেরা ঢুকে যেতে থাকে, রহস্য খুলে দেবার প্রবল পাপ আমার কবিতার ভিতর কাজ করে। অনেকগুলি চোখ, অনেকগুলি কান অর্জন করি আমি। কবিতা আক্রানত্মকে যেমন খুঁজে নেয়, অপরাধীর আত্মার ভিতরেও বাড়িয়ে দেয় তার হাত, তার ছন্দ। ১৪১৬ সনটায় আমি আমার আত্মাকে খুলে রাখলাম, আক্রানত্ম আর অপরাধীর মুখ দেখব বলে।
প্রশ্ন: অনত্মমিল তো গত বছর বিশেকের বাংলাদেশের কবিতা থেকে প্রায় নির্বাসিত। আপনার কবিতায় অনত্মমিলের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ ড়্গেত্রে আপনার অনত্মমিলগুলো শুধু কানেই টের পাওয়া যায় তা নয়, চোখেও ধরা পড়ে। যেমন ‘চলো আজ পান করি। চলো, চলো।/চোখের নিচে ঘাম ছলো ছলো।’ এখানে ‘চোখের নিচে ঘাম ছলো ছলো’র মতো শক্তিমান একটি বাক্য প্রায় টেরই পাওয়া যায় না আগের বাক্যের ‘চলো, চলো’র কারণে। মনে হয় অনত্মমিলের সুবিধার জন্যেই এই ‘ছলো ছলো’ ব্যবহৃত হলো। অনত্মমিলের এই চোখে-ধরা-পড়া তো কবিতার জন্য ড়্গতিকারক। একে উৎরানোর উপায় কী?
কাজল শাহনেওয়াজ: আমি কখনই ফুসফুস ছন্দে কবিতা লিখি নাই। বিষয়ের ছন্দে লিখি। শব্দের অনত্মমিলঝিলের বিষয়টা তো কবিতার একটা কায়দা, শব্দ ভেলকি। ভেলকি দেখাবার জন্য আমি আরো কতগুলি পুরানা এবং অনেকানেক নতুন কৌশল ব্যবহার করি। যেগুলার আর মূল জনজীবনে কোন ব্যবহার নাই (যেমন অনত্ম মিল বা আরো স্পষ্ট করে বললে, মাত্রাবৃত্ত/অড়্গরবৃত্ত নামক ছন্দ কৌশল) সেইগুলি ব্যবহার করি চোখে দেখিয়ে দেখিয়ে। ভেলকি দেখাতে গেলে আপনাকে নতুন পুরানা সব কৌশলই নিতে হবে, কারণ বিষয়টাই প্রধান, আর বিষয়টার বিষ বা অমৃত যে খাওয়াতেই হবে। আমার কাছে ছলো ছলো চোখের দৃষ্টি পানের এর চেয়ে মোড়্গম কায়দা তখন ছিল না বলেই এভাবে লিখেছি। যা লিখেছি একটানে লিখেছি, আশা করি এক দমে পড়ে ফেলে কবিতা ভোগ করার পথে তা কাজেই লেগেছে।
কাঠকয়লায় আঁকা তোমাকে আমার, কাজল শাহনেওয়াজ, প্রচ্ছদ: নাইমুজ্জামান প্রিন্স, প্রকাশক: পাঠসূত্র, মূল্য: ৭০ টাকা
সাক্ষাৎকারগ্রহণ : পলাশ দত্ত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



