somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জীবন সাগর
আমার একটা ঘর ছিল, ভেঙে গেছে কালবৈশাখী ঝড়ে, চোখে কিছু স্বপ্ন ছিল, সাগরে ভেসে গেছে প্লাবণে, জীবনডার প্রতি খুউব ভালোবাসা ছিল, ভালোবাসার মানুষ ছিল বলে। হারিয়ে গেছে মানুষ মানুষের মধ্য থেকে, তাই বসে আছি চাতক চোখে, মানুষ যদি কভু আসে মানুষের ভিড়ে....

সত্যিই কি- মানুষ সীমাবদ্ধ জীব-? লেখকের লেখা প্রকৃতির দান-?

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সত্যিই কি- মানুষ সীমাবদ্ধ জীব...? লেখকের লেখা প্রকৃতির দান...?

বর্তমান যুগে মানুষের জানার মধ্যে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে তা অনেকেই মানতে নারাজ হবেন, আমিও। শতভাগ সঠিক উত্তর দিতে না পারার মাঝে- মানুষের জানার সীমাবদ্ধতা কিভাবে বুঝানো হয়!! মানুষ কিভাবে সীমাবদ্ধ জীব!! লেখকের লেখা কিভাবে শুধুই প্রকৃতির দান হতে পারে!! এই ভাবনাগুলো আমার স্বল্প-শিক্ষিত অজ্ঞ মাথায় বুঝে আসিতেছে না।

আমার শিক্ষা-জ্ঞানশূন্য মাথায় কয়েকদিন যাবত এই প্রশ্ন গুলি খুব ঘুরিতেছে, কোন সঠিক উত্তরে আমি পৌঁছতে পারিতেছি না! উত্তর না পাওয়াটাও খুবই স্বাভাবিক। কারণ, আমি ব্লগবাসীদের মতো এতো বিদ্যাবান নই। ব্লগে সবচেয়ে নিম্নতম শিক্ষাগত যোগ্যতা আমার দখলেই। তাই হয়তো 'মানুষ সীমাবদ্ধ জীব' বা 'লেখকের লেখা প্রকৃতির দান' এই কথাগুলোর সাথে একমত হতে পারছিনা। আবার প্রচণ্ড জানার আগ্রহে সময় পার করছি, কেমন যেন একটা অস্থিরতা অনুভব করছি নিজের মনের মধ্যে। তাই সাহস করে নিজের জিজ্ঞাসু মনকে হাজির করলাম শ্রদ্ধেয় ব্লগবাসী সুপ্রিয় ভাইদের সামনে। আশা করি কেউ না কেউ অবশ্যই আমার মনের ভুলটুকু ভেঙে দিবেন।

সেদিন ব্লগে শ্রদ্ধেয় এক বিজ্ঞ ভাইয়ের পোষ্টে মন্তব্য করে প্রতিউত্তর পাই 'মানুষ সীমাবদ্ধ জীব' আবার আরেক জনের মন্তব্যের প্রতিউত্তরে দেখি 'মানুষের জানার সীমাবদ্ধতা আছে' সেই পোষ্টের ভাষ্যমতে 'লেখকের প্রতিটি লেখা প্রকৃতির দান' ও 'মানুষের জানার সীমাবদ্ধতা আছে' আমার কাছে কেমন যেন মনে হচ্ছে কথাগুলো...!!

আদিকাল থেকে কালের বিবর্তনে মানুষ দিনদিন কতইনা অসাধ্যকে সাধন করে চলেছে! যে ভাবনাটি একশ বছর আগের মানুষ কেবল ভাবনাতে বা কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ রেখেছে সেইসব ভাবনা এখন অনেকটাই মানুষ করতে সক্ষম। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে মানুষের জানার সীমাবদ্ধতা বলতে কি বুঝাতে চেয়েছেন তিনি আমি বুঝিনি ঠিকমত। এটা হয়তো আমার অজ্ঞানতা হতেই পারে, কিন্তু বর্তমান যুগে মানুষের জানার সীমাবদ্ধতা আছে বা মানুষ সীমাবদ্ধ জীব তা মানতে খুব আপত্তি আমার। কারণ, মানুষ দেয়াল ভেদকরে দেয়ালের ওপাশটায় কি আছে তা সহজেই বলে দিতে পারছে বা মাটির নিচে কি আছে তা সহজেই বলে দিতে পারার জামানায় মানুষের জানার সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে তা কেউ মেনে নিবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না।

আচ্ছা, লেখক'রা যে লেখেন তা কি কেবল প্রকৃতির থেকে নেয়া জ্ঞান..? বাস্তবতার কি কোন প্রেরণা থাকেনা লেখায়..? বা কল্পনা-জগৎ থেকেও তো মানুষ অনেকভাবে নিজেকে প্রকাশ করেন, সেগুলোও কি প্রকৃতির দানের আওতাভুক্ত হবে..?

সে পোষ্টের মন্তব্যে পোষ্টকারী বিজ্ঞ ভাইয়ের দেয়া প্রতিউত্তর মানতে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। কারণ, সবাই জেনে আসছি প্রকৃতি স্রষ্টার অসাধারণ দান পৃথিবীর মানুষের জন্য। আমি মনে করি লেখকের লেখা প্রকৃতির দান নয়, প্রকৃতির দেয়া শিক্ষা হতে পারে। সব লেখাই যে প্রকৃতি থেকে আসে সেটা মানতে আমার অবশ্য ঘোর আপত্তি। কারণ, লেখালেখি ব্যাপারটা একজন লেখকের বাস্তবিক বা কাল্পনিক চিন্তাজগত থেকেই বের হয় বলে মনে হয়। তাই, লেখকরা কেবল প্রকৃতি থেকে জ্ঞান নিয়েই লিখে থাকেন এটা মানতে পারছিনা আমি। কারণ, আমি মনে করি লেখকদের প্রতিটি লেখা বস্তবিক ও কাল্পনিক মনোজগৎ-এর থেকে সৃষ্টি হয়।বাস্তবিক দিকটা যদি প্রকৃতিই ধরি তাহলে কল্পনার দিকটি কি করে প্রকৃতির জ্ঞান হতে পারে! আমার অজ্ঞ মাথায় তা ঢুকছে না।

আসলেই কি প্রকৃতি সম্পর্কে জানবার বা বুঝবার সীমাবদ্ধতা আছে মানুষের..? এই প্রশ্নের উত্তরেও আমি অজ্ঞতা প্রকাশ করছি। প্রকৃতি সবসময় পরিবর্তনশীল বলেই আমি জানতাম। তাছাড়া যুগে যুগে অনেক বরেণ্য লেখক কথাসাহিত্যিক কবি'রা তাঁদের লেখায় বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে প্রকৃতির রূপ বর্ণনা করে গেছেন, যা আমরা বিভিন্ন সময় মনে করি হ্যা-কবিরা ঠিকই বলে গেছেন প্রকৃতি সম্পর্কে। প্রকৃতি মানুষকে মুগ্ধ করে, মাঝেমধ্যে অনেক কষ্টকর সময় ভুলিয়ে সুখময় করে তুলে। কোন কোন প্রকৃতি প্রেমী কখনোবা হয়ে উঠেন আনন্দে আত্মহারা, বাস্তবতা ভুলে প্রকৃতির প্রেমে ডুবে থাকেন, লিখেনও হয়তো কবিতা গল্প ভালো লাগার মতো অনেক কথা। তাহলে প্রকৃতি সম্পর্কে মানুষের মনের বা বুঝার সীমাবদ্ধতা এল কোথা থেকে!

হ্যা, প্রকৃতির রূপ বর্ণনা করে শেষ করার মতো নয়, তবে মানুষের প্রকৃতি সম্পর্কে জানার সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে তা কেমনে বিশ্বাস করবো, যেখানে দিনদিন বিভিন্ন লেখক'রা তাঁদের লেখায় বিভিন্ন ভাবে প্রকৃতির রূপতত্ত্ব প্রকাশ করে চলেছেন। যা পড়ে একটার চেয়ে আরেকটা বেশি মুগ্ধ করে চলেছে। তাহলে মানুষের জানার সীমাবদ্ধতা থাকলো কোথায় প্রকৃতি সম্পর্কে!! হতে পারে প্রকৃতি সম্পর্কে বলে শেষ করার মতো নয়।

লেখালেখির বিষয়টি আসলে লেখকের 'আরেকটি মনোজগৎ-এর সৃষ্টি' এটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় আমার কাছে। প্রতিটি লেখকের মনের আলাদা একেকটা রাজ্যাংশ আছে হয়তো, কারণ, চাইলেই সবসময় লেখালেখিটা কেমন যেন হয়ে উঠে না। আবার কোন কোন সময় কোন ভাবনা ছাড়াই শব্দরা জড়ো হতে থাকে, মুহূর্তে পাতার পর পাতা ভরে দেয়া যায় লিখে।

মানুষ যেহেতু স্রষ্টা না, সেহেতু হয়তো মানুষ সবজ্ঞান রাখতে পারেনা, কিন্তু বর্তমান যুগে মানুষের জানার সীমাবদ্ধতা আছে তা বিশ্বাস যোগ্য ভাবতে পারছিনা আমি। মানুষ সীমাবদ্ধ জীব কি করে মানবো!! কেনইবা বিশ্বাস করবো লেখকের লেখা কেবল প্রকৃতির দান!!

লেখাপড়ে সময় নষ্ট করার জন্য দুঃখিত, পড়ার জন্য ধন্যবাদ, আর যদি উত্তরগুলো দেন তো কৃতজ্ঞ থাকিব।
শুভ হোক ব্লগের প্রতিটি মুহূর্ত।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৫
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজগত বিষয়ে আমার গবেষণায় এআই সহায়তা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১





কোন কিছু না থাকা শূন্য অসীম ছিল। কারণ তাতে তাকে সীমা দেওয়ার মত কিছুই ছিল না। সেই শূন্যে কোন কিছু হতে কোন বাধা ছিল না। কে বাধা দিবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিসের রিকন্সিলিয়েশন‼️কার সাথে কে চায় এই রিকন্সিলিয়েশন⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০



বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "রিকন্সিলিয়েশন" বা সমঝোতা-ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্কটা অনেক পুরনো, এবং প্রশ্নটা সেই বিতর্কের মূল জায়গায়।

এটা কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রামের জ্ঞানতাপস আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫২

সাধনপুরের সন্তান আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ যিনি নিজের আলোয় আলোকিত করেছিলেন চট্টগ্রামের শিক্ষা-জগৎ।

কোনো কোনো মানুষের জন্মদিন ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে একটি সাধারণ তারিখ হয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো মানুষের জন্ম একটি জনপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



দুইজন বয়স্ক মানুষ আমাদের বাসায় আসেন।
তারা গ্রামে থাকেন। ঢাকা এলে আমাদের বাসায় উঠেন। ঢাকা তারা আসেন চিকিৎসা করাতে। ৫/৭ দিন থাকেন। চিকিৎসা শেষে চলে যান। আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই বিবেচনায় সামুর সেরা ব্লগারগণ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১




সামহোয়্যার ইন ব্লগের উল্লেখযোগ্য ২০ ব্লগার
ক্রম ব্লগার যে কারণে উল্লেখযোগ্য
১ রাজীব নূর দীর্ঘ ১৬+ বছর সক্রিয়তা, বিপুল পোস্ট ও মন্তব্য, জীবনঘনিষ্ঠ লেখা
২ চাঁদগাজী/সোনাগাজী রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×