আজকে উপমার জন্য একটা বিশেষ দিন। আজ সারাজীবনের ইচ্ছাটা পূরণ করা যাবে যদি সে তার বাবাকে খুঁজে বের করতে পারে। কিন্তু এতোবড়ো শহরে বাবাকে খুঁজে পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। সবচেয়ে বড় কথা, হাতে সেই পরিমাণ টাকাও নেই যে গোটা শহরে খুঁজে পাবে তার বাবাকে। তবুও সে এই দুর্বিষহ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার দিনগুলিতে ঢাকা শহরে নিত্য খুঁজে বেড়াচ্ছে বাবাকে।
একটা বাসে উঠলো সে। মহিলা সীটে উঠে বসে পড়লো ভীত সন্তস্ত্র হয়ে। না জানি কখন বোমা এসে পড়ে। মহাখালী ফ্লাইওভার পেরিয়ে সমতল রাস্তায় চলার পথে জানালা ভেংগে কি যেনো বাসের ভেতরে এসে পড়লো। সঙ্গে সঙ্গে দাউ দাউ আগুন, সেই সাথে চিৎকার চেঁচামেচি। হঠাৎ করেই কি যেনো একটা ব্লাস্ট করলো বাসের ভেতর। ইতিমধ্যে প্রায় সবাই বেরিয়ে গেছে। দুটো কিশোরীর ওড়নায় আগুন লাগার পরই তাদের ধাক্কা দিলো উপমা, বাঁচানোরর জন্যে।
গাড়িতে আগুন যখন পুরোপুরি বিস্তার লাভ করলো তখন উপমার সারা শরীরের অর্ধেকটা আগুনে ঢেকে গেছে। জানালা দিয়ে সে স্পষ্ট দেখতে পেলো যারা পেট্রোল বোমা ছুড়ে মেরেছে। অদ্ভুতভাবে বাস থেকে নেমে পড়লো। ঝড়ের বেগে সামনের দিকে দ্রুত ভেসে ভেসে মোটর বাইকের সামনে দশ গজ দুরে দাঁড়ালো। দু হাত প্রশস্ত করে বললো, "এবার মর"।
সঙ্গে সঙ্গে গগনবিদারী চিৎকারে আকাশ চিরে গেলো। অদ্ভুত সে ইশারায় লোক দুটো জীবন্ত কাবাব হলো।
সমস্ত ট্রাফিক থেমে গেছে বহু আগেই। নিশো গাড়ি থেকে সে দৃশ্য দেখছিলেন। অদ্ভুত ব্যাপার উপমাও সেদিকে তাকালো। চিৎকার করে বললো, "বাবা, আমি তোমার মেয়ে বাবা"।
নিশো অদ্ভুত হয়ে চেয়ে রইলেন। উপমা গাড়ির কাছে এসেই বললো, "বাবা আমি তোমাকে খুজছিলাম এতোদিন।" ব্যাগ থেকে একটা ফটো বের করে দিলো যেখানে নিশোর তরুন বয়সের ফটো ছিলো। প্রায় সবটাই পুড়ে গেছে। শুধু নিশোর মুখটা দেখা যাচ্ছে। সেকাল আর একালের পার্থক্য শুধু এটুকুই। বলিরেখার বলিহারি।
নিশো আতংকগ্রস্থ অবস্থায় বসে রয়েছে। ড্রাইভিং সিটে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে বসে থাকা ফরমান জিজ্ঞেস করলো, "এই মেয়ে কে তুমি?"
উপমা জোর গলায় বলে উঠলো, "আমি আবরার ইসলাম নিশোর প্রথম ঘরের একমাত্র কন্যা সন্তান উপমা। আমি অগ্নিকন্যা"।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


