somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক,ল,র,ব (লোডসেডিং)

২৯ শে নভেম্বর, ২০১২ ভোর ৪:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ কিছুদিন ধরে ফেসবুকে একটা পোস্ট আসছে। এক ব্যাক্তি নাকি ছোটবেলায় অন্ধকার ভয় পাইত, এখন ইলেক্ট্রিক বিল দেখার পর থেকে আলো দেখলে ভয় পায়।
আসলে ছোটবেলার সবকিছুই যে নিছক খেলো কল্পনা এইটা বুঝানোর জন্যই সরকারের এই ব্যাবস্থা।
আমার পরিচিত একটা বিদ্যুৎ বিহিন গ্রাম ছিল। মাথা না থাকলে যেমন বেথা থাকেনা, তেমনই,, বিদ্যুৎ ছিলনা বলে লোডসেডিং-ও ছিলনা। । হঠাৎ একদিন বিদ্যুৎ আসলো। সবার ঘরে ঘরে টিভি। এইবার শুরু হইল ফাপরের খেলা। দিনে বিদ্যুৎ থাকে কিন্তু রাতে কেরোসিন শিখাই ভরসা। ফলাফল দিগুন খরচ।

এইজন্যই কবি জগাই বলেছেন, "বাতি দেখে কেউ হাসিসনে ভাই, মাস শেষে তার বিল আসে"।

ছোটবেলায় মনে তো কত কিছু চাইতো। এখন তো মনটাই ছোটহয়ে গেছে। ছোটবেলায় ভাবতাম পরি না পাই পরির মত রাজকন্যারে পাইতে হবে। ছ্যাকা খেতে খেতে এমন অবস্থা হয়েছে, এখন মেয়ে দেখলেই ভয়পাই।
তেমনই, ছোটবেলায় পড়তে বসলে খালি দোয়া করতাম কখন কারেন্ট যাবে। আর এখন দোয়া করি, কখন কারেন্ট আসবে।
অবস্য কবি জগাই এর মত আধাখেচড়া শহুরে কবিদের জন্য লোডশেডিং কিন্তু খারাপ না। নিভৃত আঁধারে মনে যে ভাব আসে তা কবিতার খাতায় কিংবা প্রেমিকার কানে উদ্ গিরন করার জন্য এরচেয়ে ভালো সময় আর কখন হবে? তবে জগাইএর মনে একটাই দুখঃ। খাতা বাসার নিচের মুদির দোকানে পাওয়া গেলেও,, কোন রমনির কান এখনো পাওয়া যায়নি।
যাইহোক, এই সুত্রে বলা যেতে পারে,, ভবিস্যতে কোনদিন যদি লোডসেডিং মুক্ত বাংলা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে কবি এবং প্রেম কবিদের, কাব্য এবং প্রেম-কাব্য চর্চা বিঘ্নিত হবে। দেখাগেল সেই সময় একটা লোডসেডিং রক্ষাকমিটি তৈরি হয়ে গেল। লোডসেডিং রক্ষাকমিটির আজকে পল্টনে জনসভা। কবি জগাই ভাসন দিচ্ছে___

"" ভাইসব। আমাদের ঐতিহ্য বলতে আর কি আছে? কিছুনাই, সব শেষ। পদ্মায় এখন ইলিশ নাই , সব গঙ্গা আর সিন্ধুতে চলেগেছে। বিগত ২৫ টি সরকার বাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় কিছুই করতে পারে নাই। মাছ গেছে, গাছ গেছে, এক রয়েল বেঙ্গল ছিল,, শাহরুক খান নতুন ট্যারিফ দেখিয়ে সেইটাও নিয়ে গেল। ওই পাশের রয়েল ট্রিটমেন্ট ফেলে তারা কি আর এই পারে আসে?
থাকার মদ্ধে ছিল এক লোডশেডিং, তাও আজ বিশ্বব্যাংক আর আই এম এফ এর প্রেসক্রিপশনে, বিলুপ্তির পথে। আমরা জানি, এই লোডশেডিং বাংলার ঘরে ঘরে কি পরিমান কবি জন্ম দিয়েছে। আজ এই লোডশেডিং এর উপরে আঘাত আমাদের সবার উপরে আঘাত। অবশেষে বলতে চাই, এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সকলে সচ্চার হন। দিনে কমপক্ষে এক ঘন্টা করে লোডশেডিং দেয়ার দাবি আমরা অতি-সত্তর সরকার বরাবর পেশ করবো। অবশেষে আরো বলতে চাই___ বাংলার মাছ, বাংলার বাঘ
বাংলার লোডশেডিং;
এসব নিয়ে সরকার তোমার
চলবেনা কোন চিটিং।""


বিরোধি দল থেকে একটা বিবৃতি দিলে কেমন হয়?___

"" বাংলাদেশ আম টিম বাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় বিশ্বাসী। আমাদের সরকারের সময় জনগন যেন লোডসেডিং ভুলে না যায় সেই লক্ষে আমরা দিনে দুই ঘন্টা করে লোডসেডিং দিতাম, আর এই সরকার এসে তাদের বিদেশি বন্ধুদের তাবেদারি করে লোডসেডিং বন্ধকরে দিয়েছে। জনগন এই সরকার কে চিনে ফেলেছে। জনগন এখন আর এই সরকারের সংগে নাই।""



পলিটিক্যাল বিবৃতি আর পাল্টা বিবৃতি লিখে শেষ করা যাবেনা, তাই ওই দিকে আর না আগাই। তার বদলে দুটো লোডসেডিং জোকস বলা যায়।

১। "" এক আমেরিকান বাংলাদেশে এসেছে বাংলা শিখতে। ১৫ দিন থেকে সে দুটো বাক্য শিখল।
(!) আহ্, বিদ্যুৎ আসলো।
(!!) অর মায়রে বাপ। আবার চলে গেল। ""

২। "" শিক্ষকঃ বলত বিদ্যুৎ কথ্যেকে আসে।
ছাত্রঃ আমার মামার বাসা থেকে।
শিক্ষকঃ কিভাবে?
ছাত্রঃ লোডসেডিং হলেই বাবা বলে, শালারা আবার লোডশেডিং
দিল।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×