somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রজন্মের ভবিষ্যত

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সোনামনিরা টেবিলে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে আর মা বাবার ঘুম নেই, কাল যে বাবুর পরীক্ষা একটা ব্যবস্থাতো করতেই হবে। সোনামনির এ+ নিশ্চিত হবে কলেজ পড়ুয়া ভাগিনা ভাতিজাদের ফোন করে ইন্টারনেট থেকে প্রশ্নটা নিতে পারলে। পাবে এটা নিশ্চিত তবে সেটা যত আগে হয় ততই শান্তি। আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার পূর্ব রাত্রির নিয়মিত চেহারা এটা। কোন প্রশ্ন ফাঁস হয় না এখন? পাবলিক পরীক্ষা, চাকুরির নিয়োগ পরীক্ষা, বিসিএস এমনকি প্রাইভেট কোম্পানীর চাকুরীর নিয়োগ পরীক্ষাও। ফাঁসের কবলে আজ আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা। আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি হাজার হাজার এ প্লাসের জোয়ার, দেখেছি ৯০ শতাংশের অধিক পাশের রেকর্ডের পর রেকর্ড এবং এটা খুবই স্বাভাবিক যে আগে পাওয়া প্রশ্নে কোনদিন স্কুল কলেজের বারান্দায় না যাওয়া ছাত্রছাত্রীরাও এপ্লাস পাবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা এই এপ্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীদের মান চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, নজীরবিহীনভাবে ১/২ শতাংশ ছাত্রছাত্রী সে সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেরেছে। পড়াশোনার মান কতটা নিম্নগামী হলে ফলাফলে এরকম ভূমিধস বিপর্যয় হতে পারে সেটা খুব সহজেই অনুমেয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো আজকে যারা ফাঁসকৃত প্রশ্নে পরীক্ষা দিচ্ছে তারা আগামীতে যে প্রশ্ন ফাঁসের কেীশল খুঁজবেনা বা চাকুরী জীবনে নিজের ছাত্রজীবনের দেনা শোধের চেষ্টা করবেনা তার গ্যারান্টি কে দেবে আমাদের। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করবে এই ফাঁসের কুফল, সবখানেই থাকবে এই ফাসেঁর চেষ্টা। আমরা কি পারবো আমাদের প্রজন্মকে কিংবা পরবর্তী প্রজন্মকে ফিরিয়ে রাখতে এই অন্যায় অপকর্ম আর অপকেীশল থেকে? ন্যায়ভ্রষ্টতা নীতিহীনতা আমাদের সমাজে বেড়ে উঠার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই নপুংশক শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে আমরা যে প্রজন্ম পাবো তারা কি পারবে আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে? অবশ্য যে শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার গন্ডি পার করতে পারে না সেটা আমাদের উপরে উঠাতে না পারুক কতটুক নিচে নামাতে পারে তার একটা নমুনা দেখিয়ে দিয়েছে। ১০ বছরের বাচ্চা ইন্টারনেট থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করতে পারছে অথচ আমাদের বিসিএস ক্যাডার সচিব মহোদয় এই জিনিসটা উপলব্ধি করতে পারছেন না। কতটা নির্লজ্জ হলে মিডিয়ার সামনে দাঁত কেলিয়ে হাসতে হাসতে বলতে পারেন প্রশ্নপত্র ফাসেঁর কোন তথ্য প্রমান পাওয়া যায় নাই। আমাদের প্রয়োজন নেই এই বেকডেটেড আমলাদের যারা সামান্য ফেসবুক চালাতে পারে না, এখনই ওএসডি করা উচিত। এই ধরনের অন্ধ ব্যক্তিরা যতদিন গদাসীন থাকবে ততদিন প্রজন্মের পর প্রজন্ম লেংড়া খোঁড়া হয়ে আসতে থাকবে। এরা জাতিকে শিক্ষাহীন করার যে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে তা যদি এখনই রুখে দেয়া না যায় তাহলে আমরাই হবো সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগি কারণ সে পরিবার জানে তার অনুভূতি যে পরিবারে আছে কোন প্রতিবন্ধী। আমাদের পুরো প্রজন্মকে প্রতিবন্ধী করে, সোনার বাংলাদেশকে মেধাহীন করার দেশী বিদেশী তাঁবেদারদের চালু করা প্রকল্প থেকে সমাজ রক্ষায় দেশকে রক্ষায় আসুন দলমত নির্বিশেষে সবাই এখনই প্রতিবাদ করি। আমার আপনার সকলের যেীথ সচেতনতাই পারে বন্ধ করতে এই হীন অপচেষ্টাকে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষাকে না বলুন। মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করুন।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২

শুধু ভারত বিদ্বেষই না।

মাদ্রাসাগুলোতে কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই মোল্লারা ইসলামের দোহাই দিয়ে,

/নিজের দেশ তথা নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষ করা শেখায়।

/মোল্লারা তাদের মাথায় এই ধারণা খুব অল্প বয়সেই ঢুকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×