somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধন্যবাদ

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল ছিল আমার মেডিসিন প্লেসমেন্টের শেষ দিন । ডিউটি শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে একটা কমপ্লেইন এল। কেবিনের দিকে এগুতেই কান্নার আওয়াজ কানে এল ! ঢুকে দেখলাম, একজন বৃদ্ধা শুয়ে, চোখ বন্ধ।
একটু দূরে তার ছেলে একের পর এক ফোন করেই যাচ্ছে আর বলছে- হ্যালো অমুক, তাড়াতাড়ি হাস্পাতালে চলে এসো , মা'র অবস্থা ভাল না ।
আর সামনে ভীষণ রকম কান্নাকাটি করছে তার চল্লিশার্ধ কন্যা ।
আমি ঢুকতেই মহিলা আমার হাত ধরে বলল, ম্যাডাম , প্লীজ আমার মা'কে দেখুন । মা বোধহয় আর নেই । খুব দ্রুত এক্সামিনেশন করে বললাম, আপনি শান্ত হউন , আপনার মা এখনও বেঁচে আছে , ভালো আছে।

ফাইল দেখতে দেখতে কথা বলে জানতে পারলাম যে , যে Ryles-tube insert করা হয়েছে সেটা দিয়ে খাবার যাচ্ছে না (নন মেডিক্যাল বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলছি - এই টিউবটা প্রায় সবাই দেখে থাকবেন, যে সব রোগীর পক্ষে স্বাভাবিকভাবে খাদ্য গ্রহন করা সম্ভব না ,যেমন স্ট্রোক - তাদের নাসাঃরন্ধ্র দিয়ে পাকস্থলী পর্যন্ত এটা ঢোকানো হয়) । ডিউটিরত নার্স কিছুক্ষন চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা ধরেই নিয়েছে বৃদ্ধা আর নেই ।

আর দেরি না করে ঝটপট নতুন একটা টিউব আনালাম। তাদের কাউন্সিলিং করতে করতে আমি ধীরে ধীরে পুরনো টিউবটা খুলে নতুনটা insert করলাম । আল্লাহর রহমতে খুব সুন্দর ভাবেই হয়ে গেল । খাবারও চলে গেল সুন্দর। যাই হোক, attendentরা যথেষ্ট অবাক !এবার আমার অবাক হওয়ার পালা ।

সব কিছু বুঝিয়ে নিজের রুমে ফেরার জন্য পা বাড়াচ্ছি ঠিক তখন বৃদ্ধার মধ্যবয়সী ছেলে আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল, " থ্যাঙ্ক ইউ ডক্টর ! থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ । expert hand আপনার (!) . এত দক্ষতার সাথে ,এত সুন্দর ভাবে একবারেই আপনি টিউবটা ঢুকিয়ে দিলেন ! জানিনা কি বলে ধন্যবাদ জানাব । " পাশে দাঁড়ানো নার্সও দেখলাম তার কথায় বেশ সায় দিচ্ছে !

প্রায় তোতলাতে তোতলাতে বললাম, "..এটা কোন ব্যাপারই না । পরবর্তীতে কোন সমস্যা হলে অবশ্যই জানাবেন ।"

ভাবছেন, অবাক হওয়ার কি হল...এটা আসলেই তেমন কোন সিরিয়াস ব্যাপার ছিল না, তবে আমার নন-মেডিক্যাল বন্ধুরা বিশ্বাস করবেন কি না জানিনা , ৪ মাস ইন্টার্ন জীবনে তো বটেই, এমনকি আমার ৫ বছর মেডিক্যাল জীবনে এই প্রথম কোন রোগী/ attendant আমাকে ধন্যবাদ জানাল :)


ধন্যবাদ- খুব ছোট্ট কিন্তু শক্তিশালী এই শব্দটা কত সুন্দর ভাবেই না মন খারাপ করা একটা দিনকেও হঠাত খুব আপন করে দিতে পারে ! সেদিন প্রথম জানলাম ।
আমিও ধন্যবাদ জানাতে ভুল করলাম না আমার প্রভুকে :)
১৪টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহ তাআলার অনুপম উপমা: কুরআনে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

লিখেছেন নতুন নকিব, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০

আল্লাহ তাআলার অনুপম উপমা: কুরআনে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

যখন আরব জাতির সাহিত্যিক প্রতিভা তার চরম শিখরে পৌঁছেছিল, যখন কবিতা ছিল তাদের হৃদয়ের স্পন্দন, আবেগের প্রকাশ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদের দিন লেখা একটি বিষন্ন কবিতা

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪




বিষন্ন বিকেলে একা বসে থাকি রোজ,
ঈদের হুলস্থুল পাশ দিয়ে চলে যায়।
সুখের কাছে যেতে চাওয়া মন
কোনো রাস্তা খোলা নেই।

মুখে বলিনি প্রতিদিন কত কথা,
কিন্তু চোখে তাকালেতো কেউ বুঝতে,
এই ছোট্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রসঙ্গ - বহুল আলোচিত-সমালোচিত পর্নো-তারকা ইউএনও আলাউদ্দিন

লিখেছেন এমএলজি, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৪১

প্রসঙ্গ - বহুল আলোচিত-সমালোচিত পর্নো-তারকা ইউএনও আলাউদ্দিন ।

ভেবেছিলাম বিষয়টা নিয়ে আর কিছু লিখবো না; কিন্তু, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু বিতর্কিত কন্টেন্ট দেখে কিছু কথা না বলে স্বস্তি পাচ্ছিনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরকালে আল্লাহর বন্ধু, দাস নাকি কয়েদী হবেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:১৪




সূরাঃ ৫১ যারিয়াত, ৫৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৬। আমি জিন ও মানুষকে এ জন্য সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমারই ইবাদত করবে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৫। আল্লাহ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদের আগের রাতে দুই মোল্লার কথোপকথন ( (কাল্পনিক)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:২১


এশার নামাজ শেষ হয়েছে বেশিক্ষণ হয়নি। মসজিদের ভেতর রফিকুল্লাহ সাহেব একা বসে আছেন। বয়স বাষট্টি। হাতের তসবিটা নাড়ছেন, কিন্তু গোনা হচ্ছে না আসলে। চোখ গেছে দূরে—বাজারে আলো জ্বলছে, রিকশার ভিড়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×