somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাক্তবুলি 001

০৭ ই অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শক্তির নিত্যতা সূত্রের দিকে চোখ রেখে যদি শুরু করি, দেখবো, এর জন্ম নেই, মৃতু্য নেই, আছে শুধু রূপান্তর। অস্ত্র একে কাটতে পারে না, জল একে ভেজাতে পারে না, রোদ একে শুকাতে পারে না ... এ এক দারুণ হ্যাপার জিনিস। গীতায় ছিঁচকাঁদুনে অজর্ুনকে যেন শক্তির কথা শুনিয়েই ভুলিয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ। আমাদের কাজকারবারের আত্মাই যেন শক্তি।

একেবারে বিসমিল্লাতেই শক্তির রূপান্তর নিয়ে ব্যস্ত মানুষ। পূর্ব আফ্রিকার হোমিনিডদের দিয়ে যদি শুরু করি, আমরা দেখবো, রূপান্তরের জন্য বেচারাদের একমাত্র ভরসা ছিলো কাঁচা খাবার [আগুন আবিষ্কার করে উঠতে পারেনি বেচারারা]। পাওয়ার হাউজ তখন ছিলো পাকস্থলী। দৈনিক মাথাপিছু শক্তি ভোগের পরিমাণ, বিশেষজ্ঞদের হিসাবমতে, প্রায় 2000 কিলোক্যালরি।

সময়ের সাথে হোমিনিডরা বিবর্তিত হয়, শারীরিক বিবর্তন আর সাংস্কৃতিক বিবর্তন হাত ধরাধরি করে চলে, বুনো হোমিনিড থেকে আমাদের চোখ পড়ে শিকারী-টোকারী হোমোস্যাপিয়েন্স এর ওপর। প্রায় একলাখ বছর আগে ইয়োরোপ আর লেভান্ট অঞ্চলের শিকারী-টোকারী মানুষের গোষ্ঠী [নিয়ান্ডাটর্াল] এই মাথাপিছু দৈনিক শক্তি খরচের গড় পরিমাণ প্রায় আড়াই গুণ বাড়িয়ে তোলে। এই বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ, আগুনের ব্যবহার। কাঁচা খাবারকে বেশ পাকিয়ে তোলা ছাড়াও এই দলবদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নিচুস্তরের বিনিময়ও শুরু হয়, শুধু আহারের পেছনেই যাবতীয় শক্তিক্ষয়ের বুনো হোমিনিডপনার একটা অবসান ঘটায় তারা।

প্রায় 5,000 বছর আগে যখন কৃষিজীবী মানুষের আদিস্তর শুরু হয়, তখন শক্ষিভোগের হার বাড়ে প্রায় আরো আড়াইগুণ। এবার মানুষ যে শুধু আগুনকেই বশ করেছে, তা-ই নয়, তার নিয়ন্ত্রণে এসেছে ভারবাহী পশু। ষাঁড়, ঘোড়া, গাধা, হাতি, এরা ঘাসলতাপাতা চিবিয়ে যা কিছু শক্তি আয় করতো, তা ব্যয় হয় মানুষের কাজে। ভারবাহী পশুর শক্তি কৃষি ও আদিম শিল্পের অন্যতম প্রাইমমুভার হয়ে দাঁড়ায়।

খ্রিষ্টপূর্ব 1400 সাল থেকে চৌকস কৃষিজীবী মানুষ মাথা তুলে দাঁড়ায় উত্তর-পশ্চিম ইয়োরোপে। সময়ের সাথে কৃষিপণ্য হয়ে দাঁড়ায় বিনিময়ের প্রধান বস্তু, আর কৃষিসফল অঞ্চলের মধ্যে এই বিনিময় বৃদ্ধি পায় ভারবাহী পশুটানা পরিবহনের মধ্য দিয়ে। মানুষ তখন জীবাশ্মজ্বালানি ব্যবহারের প্রথম ধাপ হিসেবে অল্পস্বল্প কয়লাও পোড়াতে শুরু করেছে শীতের হাত থেকে বাঁচার জন্যে, নদীতে চাকা আর বায়ুকল বসিয়ে শুরু করেছে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রথম ব্যবহার। কৃষি আর শিল্পে শক্তির ব্যবহার তখন বেড়ে গেছে অনেক।

1875 সাল নাগাদ এই শক্তির ব্যবহার ত্রিগুণিত হয় বাষ্পীয় এঞ্জিনের আবিষ্কারের পর। শক্তিভোগের ঢিমেতালা মৃদুমন্দ বৃদ্ধির পালে যেন জোর হাওয়া বইয়ে দেন জেমস ওয়াট। মানুষের হাতে তখন কয়লা, গ্যাস আর তেলও চলে এসেছে, পৃথিবীতে সঞ্চিত বিপুল জীবাশ্মজ্বালানির ট্যাঁকে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সে পানিকে বাষ্পে রূপ দিয়ে ঘুরিয়ে চলছে শিল্পবিপ্লবের চাকা। শিল্পচৌকস মানুষ আর প্রাকৃতিক শক্তিস্রোতের পরোয়া করে না তখন।

1970 এ এসে প্রথম বিশ্বের প্রযুক্তিচৌকস মানুষ গালিভারের মতো পেছনে তাকায় লিলিপুট হোমিনিডদের দিকে। তার মাথাপিছু দৈনিক গড় শক্তিভোগ তখন 230,000 কিলোক্যালরি [হোমিনিডদের তুলনায় প্রায় 115 গুণ]। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই শক্তির 26% আসে তড়িৎশক্তি হিসেবে [এর মাঝে কেবল 10% সে কাজে লাগাতে পারে, বাকি 16% নষ্ট হয় উৎপাদন, সঞ্চালন আর বিতরণে]।


তথ্যসূত্র: E. Cook, "The Flow of Energy in an Industrial Society" Scientific American, 1971 p. 135.
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×