somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চটির অদ্যোপান্ত - কিংবা যৌনতা বিষয়ক আলাপন

২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফ্রেন্ডসের একটা ডায়লোগ ছিলো " আই ফেক মাই অর্গাজম"- মানুষের যৌনহতাশা বা সঙ্গীনিকে তৃপ্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার ধারনাটার বেশ ব্যাবসায়িক শক্তি আছে। কিংবা যৌনতার পণ্যায়ন ঘটার পর থেকেই মানুষের ভেতরে একটা বিকল্প সংবাদ পৌঁছে যাচ্ছে কি না এটাও বিবেচনা করা যায় এখানে। কোনো এক দিন দুপুরে এপার্টমেন্টে বসে ছিলাম, হঠাৎ শুনলাম বিকট শীৎকার, গা শিউরে উঠার মতো প্রাণপন শীৎকারের উৎস সন্ধান করার নাগরিক অসভ্যতা করতে ইচ্ছা হলো না। তবে মানুষের ভেতরে সঙ্গমে কাঁদার বাসনাও কাজ করে তাই শাহবাগের মাঝে একটা লিপি ডিশ যৌনশক্তিবর্ধক ওষুধালয়ের দরজায় লেখা বিজ্ঞপনে চোখ আটকে যায়। রমনে রমনী নয় নরগন সেরা -প্রমান করিবো আমি শাকমধু দ্্বারা। বাংলাদেশের মানুষের প্রধান সমস্যা আসলে পুরুষত্বহীনতা এমনটাই আমার বিশ্বাস। ফার্মগেটের সামনের মজমা থেকে শুরু করে গুলিস্তানের বাসের ধোঁয়ার ভীড়েও একই বিষয়ে নিয়ে বানিজ্য চলছে। বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানী উত্থানসহায়ক ভায়াগ্রা তৈরি করেছেন। এমন কি শিশ্নের আকার বর্ধণের নানাবিধ রঙ্গিন বিজ্ঞাপনের জগতে এসে মনে হয় এখন সবচেয়ে বড় বানিজ্য যৌনতার বানিজ্য।
মানুষ যৌনতা উপভোগ করে, সন্তান উৎপাদন নিমিত্তে উপগত হওয়ার বিবর্তনবাদী ধারনা এখন বিবর্তিত হয়ে উপভোগ্য তাই উপগত হই এখানে উপস্থিত হয়েছে।
অনাকাংক্ষিত গর্ভধারন থেকে নিরত থাকতে বিভিন্ন নিরোধ ব্যাবস্থার বিপনন চলছে। যদি মানুষের একমাত্র লক্ষ্য হতো অনাকাংক্ষিত গর্ভধারন রোধ করা তবে সাইকেলের টিউব লাগিয়েই মানুষ সঙ্গম করতো, তবে সঙ্গম থেকে মানুষের ভিন্ন প্রত্যাশাও আছে। তাই তারা সঙ্গমজনিত সুখের দাবীতে বিভিন্ন উন্নত মানের নিরোধ ব্যাবহার করে। কোনোটা উত্থান দীর্ঘস্থায়ী করে, কোনোটা সঙ্গমসুখ বাড়ায়, কোনোটা একেবারেই প্রাকৃতিক আস্বাদন দেয়। আমি হঠাৎ একবার একটা জরিপে অংশগ্রহনের অনুরোধ পেয়েছিলাম, কোনো একটা নিরোধ কোম্পানির জরিপ। তারা আদের প্রশ্নে মানুষের নিরোধজনিত প্রত্যাশার বিভিন্ন আঙ্গিক নির্ধারন করেছিলো বলেই এখন নিরোধকে সামান্য রাবারের দস্তনা মনে হয় না। তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা ছিলো শিশ্নের আকার সমন্ধিত। তাদের মতে বাজারে এখন যে মাপকে প্রামান্য ধরে নিরোধ বানানো হয় তা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়, কারো ছোট হয় কারো ঢলঢলে হয়ে যায়, এই সমস্যানিরসনকল্পে তারা সবার শিশ্নের আকার জানতে চাইছে- তাদের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তারা এমন একটা মাপের নিরোধ বানাবে যা" ওয়ান সাইজ ফিটস অল, মিটস এভরি ওয়ানস নিড" হিসেবে বাজারে আসবে এবং তারা বাজার দখল করতে পারবে। মর্ণিং আফটার পিল, নিয়মিত পিল এমন অনেক জন্মনিয়ন্ত্রনের পিল আছে বাজারে। যদিও অভিযোগ আছে এসব কোম্পানি তৃতীয় বিশ্বের নারীদের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করছে তাদের এসব নিরিক্ষায়। তাই বাংলাদেশে যে পিল পাওয়া যায় 20 টাকায় তার দাম আমেরিকার বাজারে 28 ডলার।
তবে নিরোধ জনিত যৌন্য পণ্যায়নের বাইরেও যৌনলীলা বিষয়ক বিভিন্ন স্থিরচিত্র এবং চলচিত্রের দর্শকচাহিদা আছে। বিভিন্ন রকম পরিভাষার আড়ালে আসলে তা মোটামুটি সবার বিকৃত এবং সুরুচি সম্পন্ন যৌনচাহিদা পুরন করে। "যারে দেখলে যোনা দাঁড়ায় না তার লগে প্রেম হয় না" এমন বৈপ্লবিক ধারণাসম্বলিত বন্ধুর বক্তব্য প্রামান্য না ধরেও বলা যায় যৌনকামনা উদ্্রেক করে এমন যৌনআবেদনময়ী ছবিই বাজারে বিক্রি হবে। তবে সকল মানুষের যৌনকামনা তার নিজস্ব নির্মান। প্রতিটা মানুষই তার নিজস্ব যৌনচাহিদা পূরন করে এমন মেয়েদের দেখলেই কামনাগ্রস্ত হয়। এর নির্দিষ্ট শ্রেণীগত চেতনাও আছে।
বিবর্তনবাদী ধারনায় পুরুষ যৌনউত্তেজক ভাবে উর্বরা মেয়েদের। এবং যেসব মেয়ের পুরুষ্টু ঠোঁট এবং সুডৌল চিবুক তা আসলে তাদের উর্বরতার পরিচায়ক- এমন মেয়েদের মোটামুটি সাধারন মানুষ যৌনদেবী ভাবে। আর মেয়েদের যৌনকামনা অনেকটা তার ডিম্বানুচক্রের সাথে সম্পর্কিত। এটা একটা 4 সপ্তাহের চক্র। যখন ডিম্বানু পরিপুষ্ঠ এবং তা আগামি 2 দিনের ভেতরে জরায়ু চলে আসার একটা সম্ভবনা তৈরি হয় তখন উগ্র পুরুষালী চেহারার মানুষকে দেখলে মেয়রা কামনাগ্রস্থ হয়। আবার এই চক্রের শেষ ভাগে যখন ডিম্বানু জরায়ুতে আসার সময় হতে আরও 2 থেকে 3 সপ্তাহ বাকী তখন কোমল সহৃদয় পুরুষদের প্রতি যৌনআকর্ষণ বোধ করে মেয়েরা। স্রাব শুরু হওয়ার পরবর্তি 2 সপ্তাহ তার পুরুষালী চেহারার পুরুষকে কাম্য বোধ হতে থাকে এবং শেষ 2 সপ্তাহে তাদের পক্ষপাতিত্ব কোমল চেহারার পুরুষদের প্রতি। তবে মানুষের সামগ্রিক সামাজিক অভিজ্ঞতাও কাংক্ষিত যৌনসঙ্গি বাছাইয়ে ভুমিকা রাখে। এমন সব মানসিক এবং শাররীক কারনে প্রতিটা মানুষের নিজস্ব যৌনতার দেবীর শরীর এবং মানসিকতার পার্থক্য চলে আসে। হুমায়ুন আজাদের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রিকশাওয়ালা শ্রেনীর নাগরিকেরা চর্বিদার মাংসল মেয়েদের যৌনদেবী ভাবে।তাই বাংলা সিনেমার নায়িকাদের দর্শকচাহিদা পুরনের জন্য এমন বিকট আকার ধারন করতে হয়। তবে সকল বাঙালীই যে স্থুল শরীর দেখলেই যৌনকামনাগ্রস্থ হয়ে যায় এমন না। তাই মাধুরী কিংবা বিপাশা কিংবা জিনাত আমান কিংবা এমন অনেক নাম ও চেহারার মানুষের যৌনাবেদন নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে। তাদের ছবির বানিজ্য এসব কারনেও বাড়ে কমে। এমন কারনেই চলচিত্রেও চরিত্রগুলোর শাররীক আকার, চেহারার ভঙ্গি বিভিন্ন রকম হয়। সবার সকল যৌনচাহিদা পুরনের দায় নিয়ে চলছে যৌনতার বানিজ্য। আমার নিজস্ব ধারনায় বিকৃত যৌনতা এবং শোভন যৌনতার ছবিও আছে। আমি স্বভাবতই আমার কাছে যা বিকৃত মনে হয় সেসব যৌনতার ক্রেতা নই তবে সবার চাহিদা পুরনের জন্য সেসবের বানিজ্যিক গুরুত্ব অস্বিকার করতে পারি না। মর্ষকামের ভয়ংকর চিত্রায়নের একটা ছবি আছে - এইট মিলিমিটার- যেখানে বিকৃত মর্ষকাম ছিলো একজনকে অত্যাচার করে মেরে ফেলার দৃশ্য দেখে যৌনপরিতৃপ্তি পাওয়া। কিছু মানুষ ধর্ষণাকাঙ্খি। তাই ধর্ষণদৃশ্যের চিত্রায়ন ঘটে।মানুষ বয়স্ক মহিলাদের দেখে যৌনকামনা বোধ করে, তাই তাদের সাথে সঙ্গমের সবাকচিত্রায়ন আছে। যেহেতু সবাই সব রকমের যৌনতার চাহিদা পুরন করতে পারবে না তাই সবার পরিতৃপ্তির বিকল্প হিসেবে সে চাহিদা পুরিত হচ্ছে এমন ছবি পাওয়া যাবে বাজারে। মোদ্দা কথা হলো মানুষ যত ভাবে যত প্রকারে নিজেকে সঙ্গমলিপ্ত দেখতে চায় সেসব দৃশ্যের স্থির এবং চলমান চিত্র সে পাবে বাজারে। যৌনতার পণ্যায়ন এমন মাত্রায় ঘটেছে।
এবং এই চলচিত্রই হয়তো আমাদের ভেতরে যৌনঅক্ষমতার ধারনাও ঢুকিয়ে দেয় অগোচরে। যেমন মাত্রার শীৎকার ছবিতে শুনে অভ্যস্ত সেই একই মাত্রার শীৎকার নিজের বিছানায় না শুনলে নিজেকে পরিতৃপ্তি দানে অক্ষম এমন বিষন্নতাগ্রস্থতায় আক্রান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যাও কম নয়।
হঠাৎ মনে হচ্ছে আসলে কোনো পুরুষই নিজস্ব যৌনসক্ষমতা বিষয়ে ঠিক নিশ্চিত নয়।সবাই কোনো না কোনো ভাবে নিজেকে দুর্বল ভাবে তাই ঢাকা শহরের রাস্তায় মজমা জমে, জোঁকের তেল, মৃগনাভী, বাঘের বীচি, মলম, হালুয়া, কামাখ্যার শেকড়, শ্র ীপুরের ট্যাবলেট, মঘা ইউনানীর মালিশ আর সেবনযোগ্য পানীয় সব কিছুই ভালো ব্যাবসা করছে। এখন ভায়াগ্রা তৈরি হয়েছে, বিভিন্ন যোগাসন যৌনশক্তিবর্ধক এমন মত প্রচলিত হওয়ার পর সেই সব যোগাসন চর্চা করা পুরুষের সংখ্যাও বেড়েছে।
এবং কেউ নিজের শিশ্নের আকার নিয়েও তৃপ্ত নয়, তাই আকার বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন শল্য চিকিৎসা এবং যন্ত্র ব্যাবহারের হুজুগও তৈরি হয়েছে। তবে সঙ্গিনি তৃপ্তি দিতে না পারার এই মানসিক ও শাররীক আক্ষেপের 95% না কি মানসিক। তবুও যৌনতার পণ্যায়নে আবারও সেই উক্তিতে ফিরে আসি- আই ফেক মাই অর্গাজম।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:০২
৪৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×