somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার রক্তের দোষ- আমি নববর্ষে অসুস্থবোধ করছি

১৪ ই এপ্রিল, ২০০৭ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি সংঘে সমুহে নেই বিচ্ছিন্ন একা, গণে গ্রন্থিত নই সঙ্ঘমিতা
--------------------------------------------------------

বাংলা ভাষা এখনও পর্যাপ্ত ভাবনা ধারণ করতে পারে না, মাঝে মাঝেই শব্দসংকটে পড়ে যাই। একটা কারণ হতে পারে যথেষ্ট বাংলা শব্দ আমার জানা নেই, অন্য যেটা হতে পারে বাংলা এখনও ঠিক পোক্ত ভাষা হয়ে উঠে নি- আমি কোনো ভাবেই এসব দিনের ভীড়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি না, এখনও গেয়ো ভুত থেকে গেলাম, সঠিক উপায়ে বাঙ্গারি হয়ে উঠতে পারলাম না।

আমি সে অর্থে সংস্কৃতিবানও না, আমি ২১শে ফেব্র“য়ারি শহীদ মিনারের আশে পাশে যাই না, বসন্ত বরণ উৎসবে গায়ে রং মাখি না, ঠিক তেমন ভাবে পহেলা বৈশাখও পালন করতে পারি না, সেই একই কারণে, আমি অযথা ভীড়ে থাকতে সহজবোধ করি না। বরং আমার নিজের হাশফাঁস লাগে, এখন সংস্কৃতিবান হয়ে উঠার তাড়নায় নিজের স্বাচ্ছন্দ বিসর্জন দিতে পারলাম না।
অথচ ঘরে বসে থাকতেও অস্থির লাগে- এখন আদতে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই- বর্তমানে এমনই বেচাল অবস্থা আমার। তাই নিয়ম মেনেই বের হলাম- একটু দেরি করে, মাছি থকথকে ভীড়ের সামনে এসে একটা শব্দই মাথায় আসে-
“ আই এবহোর দিস ক্রাউড, আই লোথ দেম, সিম্পলি আই লোথ দেম।”
এ সময়টায় বাংলা খুঁজি, ঘৃণা- তবে, এমন প্রচন্ড ঘৃণা যা বিবমিষাকর, এমন একটা বাংলা শব্দ কি আছে?
ভীড় কেটে সামনে হাঁটি, মানুষের চেহারা দেখি , এত এত মানুষ সম্মোহিতের মতো হাঁটছে? শহরের রাস্তা দেখে অন্য একটা শব্দকে যথাযোগ্য মনে হয়, কার্নিভ্যাল- বাংলা দেশের পোশাক সংস্কৃতিতেও বিশেষ দিবস ক্রিয়াশীল। সকল দিবসের নিজস্ব রং, নিজস্ব রূপ, কেউ নির্দিষ্ট করে দেয় নি, তবে প্রথা হয়ে গিয়েছে। বৈশাখের প্রথম দিবসের রং সাদা আর লাল- খোঁপায় বেলী ফুলের মালা জড়ানো। লাল পাড়ের শাড়ী, লাল ব্লাউজ, কানে লাল দুল, খোঁপার সাদা বেলী ফুল-- কোনো ভাবেই কোনো আকর্ষণ জাগে না। ভীড় কেটে সামনে যাই-
রাস্তার উপরে শুয়ে থাকা শীর্ণ মহিলার পাশে হাত পেতে বসে আছে বৃদ্ধা, অবশ্য কেউ ভ্র“পে করছে না, পাশ কাঁটিয়ে হাঁটছে- সবার চোখে সামনে যাওয়ার তাড়া- চোখে উৎসব নেই, উদযাপনের ভাষা নেই- বরং উপাসনার দৃষ্টি চোখে- এটা প্রার্থণার মতো- উদ্দীপ্ত করে না কাউকেই তবে সবাই একটা তাগিদ বোধ করে- আমাকেও থাকতে হবে- নইলে পিছনে পরে যাবো এমন ভীতিও কাজ করতে পারে।
উচ্ছ্বাস উল্লাস নেই চোখে, উৎসাহ নেই বরং কর্তব্য পালনের মতো, রীতিপরায়নতা আছে।

সবাই অংশগ্রহন করছে, সকালে বের হয়েছে- আমি পারছি না কোনো ভাবেই সামিল হতে উৎসবে- নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়- অস্বস্তিবোধ করি ভীষণ রকম- এই অঙ্গীভূত হতে না পারার যাতনা আসলে আমার একার নয় বোধ হয়- এ সেন্স অফ লুজিং ডিরেকশনালিটি- এটা আধুনিক ব্যাধি- পণ্যবাদিতার কুফল- তাই সবাই সবার জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করছে না- বরং সবাই নির্দেশিত পন্থায় অংশগ্রহণের চেষ্টা করছে।

আধুনিক বিজ্ঞানের কথা মনে আসে, সবার সব কিছুই আসলে শরীরের পাপ- কিংবা শাররিকতা, আমার কোষের অতি ুদ্র কোনো অংশে কোনো জৈব রাসায়নিক যৌগগুচ্ছ- যাদের সম্মিলিত ভাবে জীন বলি তাদের মিথঃস্ক্রিয়া বোধ হয়- এই যে আমার কাতরতা বোধ তার রক্তে লিখিত- রক্তের অন্তর্গত প্রহেলিকা- নিত্য নতুন ভাবে জানছি আমি সবই- মানুষ অপরাধপ্রবন কারণ তার রক্তে লিখিত আছে সে অপরাধি হবে।
মানুষের আসলে কোনো রকম দায় নেই, যা ঘটছে তার কোনোটাই ঠিক তার নিজস্ব স্বাধীন সিদ্ধান্ত নয়, বরং তার নিজস্ব শরীরের দাবি এটা-
কোনো ধর্মগ্রন্থে লিখিত নেই এই অভিশাপ- আমরা ক্রমশ অভিশপ্ত হচ্ছি- একেকটা জীনের খোঁজ চলছে- মানুষ খুন করছে- সকল চিহ্নিত খুনির রক্তে একই রকম জৈব রাসায়নিকপুঞ্জ- অতএব সিদ্ধান্ত হলো রক্ত শোধন প্রয়োজন-
মানুষ ধর্ষণ করে- তাদেরও নিজস্ব জীনের প্রভাব সেটা-

মানুষ সমকামি কিংবা বিষমকামি- কিংবা মোটা কিংবা খর্ব- সবই রক্তে লালিত অভিশাপ-
এটা প্রতিষ্ঠিত হলে কোনো আদালতেই কোনো অপরাধের বিচার হবে না- শাররীক ত্র“টি থাকবার জন্য যদি কাউকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় তবে অপরাধ ঈশ্বরের- তিনি বহুপদের মানুষ সৃষ্টি করেছেন- তবে তাদের বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা নেই- চাইলেই সে তার জীনের গঠন বদলাতে পারে না-
আমার নিজের কাছেই অসম্ভব মনে হয় ভবিষ্যত- এভাবে যদি রাষ্ট্র নিজে নিজে সব সাম্ভাব্য অপরাধিকে মৃত ঘোষনা করে কিংবা তাদের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে তাহলেও আসলে দোষের কিছু নেই।
পুরোনো বর্ণাশ্রম প্রথা নিন্দনীয় কিছু ছিলো না আদতে-
আমি ক্রমশ বিভ্রান্ত হই -

আসলে সম্পূর্ণ রাস্তায় সম্মোহিত মানুষের মিছিল দেখে এটাই বুঝলাম সবাই আসলে উৎসবের খোঁজে নেমেছে- তারা সবাই খুঁজে পাচ্ছে এমন না- যেসব ভাগ্যবান নিজের রক্তের ভেতরে ভীড়ে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার নির্দিষ্ট রাসায়নিক নিয়ে জন্মেছে তারাই প্রকৃৃত সুখী আজ-
বাকি সবাই আমার মতো প্রান্তিক না হলেও সামান্য পরিমাণে দিশাহীন।

আজ পহেলা বৈশাখ পালিত হচ্ছে- আমি কোনোটার অংশ হতে পারছি না, নিজস্ব ব্যর্থতায়- কাউকে দেখে উত্তেজিত কিংবা আনন্দিতও হতে পারছি না- হঠাৎ করেই শরীর বিদ্রোহ করেছে বোধ হয়- কাউকেই কমনীয়- কামনীয়- রমণীয় লাগছে না-


যেমত শুরুতে ছিলো এখনও তাই

আমি সংঘে সমুহে নেই বিচ্ছিন্ন একা, গণে গ্রন্থিত নই সঙ্ঘমিতা




৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোকুলে বাড়িছে সে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

গোকুলে বাড়িছে সে

পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- ক্ষমতার অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক বক্তব্য, ভিডিওবার্তা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এত অস্থিরতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: ফেলে আসা এক সড়কের কথা

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×