somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিয়ানমারে মানবিক বিপর্যয়ের শিকার রোহিঙ্গারা

১৩ ই জুন, ২০১২ রাত ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিয়ানমারে মানবিক বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে রোহিঙ্গরা। গুলিবিদ্ধরা চিকিৎসাহীন অবস্থায় মৃত্যুপথের যাত্রী। কোথাও চিকিৎসা নিতে পারছে না। অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছে। এদিকে গুলিবিদ্ধ কয়েকজন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। গুলিবিদ্ধ কয়েকজন হল- মংড়– জামতলী পাড়ার আহমদ হোছনের পুত্র কালা হোছেন (৬০), নাপিতের ডেইল এলাকার মকুতল হোছনের পুত্র হাফিজুর রহমান(২০), বাসুরপাড়া দুদুমিয়া পুত্র ছৈয়দি (৩৫), কাহারীপাড়া হাফেজ আহমদের পুত্র রিদুয়ান (১৭), মংডু নয়াপাড়া এলাকার আবু জমিলের পুত্র মোঃ তৈয়ুব (১৮)। গুলিবিদ্ধরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা গুলিবিদ্ধ কালা হোছন(৬০) জানান- মিয়ানমারে চিকিৎসা নিতে না পারায় মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে এসেছি। এছাড়া সরকারী বাহিনীর ইন্ধনে রাখাইনদের অমানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে ১১ জুন ৮টি ট্রলার যোগে প্রায় ৫০৪ রোহিঙ্গা নারী পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অপোয় নাফনদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ভাসছে। কিন্তু বিজিবি ও কোস্টগার্ডের বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারছে না। সেন্টমার্টিন দ্বীপের সাবেক মেম্বার নুর মোহাম্মদ জানান- এসব ট্রলারে গুরুতর অসুস্থ, আহত, গুলিবিদ্ধ, সন্তানসম্ভাবা মহিলারা আছে। তাছাড়া অনাহারে জনিত কারনে তাদের অবস্থা ছিল অত্যান্ত কাহিল। দ্বীপের লোকজন রান্না করা ভাত ও পিপাসা মিটানোর জন্য পানি দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বাধার মুখে তা দেয়া সম্ভব হয়নি। ব্যাপক অনুপ্রবেশের জন্য মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম নাফনদীতে নৌকা নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে। নিরুপায় হয়ে সাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে । খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে ভাসমান ট্রলারে ৮জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১১ জুন ভোর রাতে নাসাকাবাহিনীর ধাওয়া হয়ে ৪টি রোহিঙ্গা বোঝাই বোট ডুবির ঘটনাও ঘটেছে। প্রত্যদর্শী জেলেরা সাগরে ৫/৬টি লাশ ভাসতে দেখেছে বলে জানায়। মিয়ানমারের রাখাইন সম্প্রদায় আরাকান রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের উপর দমন-নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে। আর প্রত্য ও পরোভাবে পে রয়েছে সেদেশের সামরিক জান্তা ও সীমান্ত রী নাসাকা বাহিনী। গত ৮ জুন শুরু হওয়া দাঙ্গায় কমপে ৩০ জন নিহত ও কয়েকশত মুসলিম রোহিঙ্গা আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা চিরস্থায়ী করে রাখা এবং এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর চলছে নতুন করে এ চরম নির্যাতন।
গত ৩ জুন রোববার মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনের তোয়ানগোকিতে কট্টরপন্থি বৌদ্ধদের হামলায় ১০ জন মুসলিম নিহত হওয়ার খবরে আরকান রাজ্যের মংডুসহ বিভিন্ন শহরে ৮ জুন বিােভরত মুসলিম নাগরিকদের উপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে ও অসংখ্য মুসলিম আহত হয়ে চিকিৎসাবিহীন মৃত্যু পথের যাত্রী। রাখাইন সম্প্রদায় ইতিমধ্যে জ্বালিয়ে দিয়েছে মসজিদ, মুসলিম পল্লি, লুটপাট করছে মুসলিমদের দোকানে। অনাহারে, অর্ধহারে দিনাতিপাত করছে মুসলমানরা। নিহতদের জানাযা তো দূরের কথা তাদের লাশ নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ বাহিনী। চিকিৎসা নিতে পারছে না গুলিবিদ্ধরা। মানবতার লেশ মাত্র নেই সেখানে। মিডিয়াকর্মীদের অবাধ তথ্য সরবরাহের স্বীধানীতা না থাকায় প্রচার হচ্ছেনা নির্যাতনের বাস্তব চিত্র ও সঠিক খবর। অসংখ্য সেনা বাহিনী শহরে ও গ্রামে টহল দিচ্ছে। সেনাবাহিনী টহল দিলেও রাখাইন সম্প্রদায় লুটপাট ও পল্লীতে অগ্নি সংযোগ অব্যাহত রয়েছে। অবাধে রাখাইন সম্প্রদায় বিচরন করলেও মুসলিম সম্প্রদায় বাড়ী-ঘর হতে বের হতে দিচ্ছেনা ফলে অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এদিকে মিয়ানমারের অনুপ্রবেশকারী গুলিবিদ্ধ একজন রোহিঙ্গাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গতকাল সকালে পুলিশ আটক করেছে। আটক ব্যক্তির নাম তৈয়ব (২৫)। তিনি মংডুর বাসিন্দা। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কালা হোসেন (৫০) নামের আরো একজন গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গাকে পুলিশ আটক করেছে । সূত্র জানায়-১১জুন সকাল ৯টারদিকে দাঙ্গারোধে নিয়োজিত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রসদ বোঝাই ২টি হেলিকপ্টার মংন্ডুটাউনশীপে অবতরনের পর চলে যাওয়ার সাথে সাথে একদল উচ্ছৃখল রাখাইন পাশ্ববর্তী রাসিদং, বুমেপাড়া,খাইরীপাড়ায় মুসলিমদের ১৪/১৫টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুসলিম যুবকেরা নেভাতে গেলে নাসাকাবাহিনী কারফিউ ভঙ্গ করায় এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এসব অঞ্চলে খাদ্য,চিকিৎসা সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিমদের বিভিন্ন গ্রামে থেমে থেমে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও চোরাগুপ্তা হামলা অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারের মুসলিম ও রাজনৈতিক নেতবৃন্দ রাখাইনদের চোরাগুপ্তা হামলা-লাশ গুম করা বন্ধ, জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ বিতরণ, মানবিক বিপর্যযরোধে আর্ন্তজাতিক হস্তপে ও সহায়তা কামনা করেছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা (আরআরসি) ও সরকারের যুগ্ম সচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিন এই প্রতিবেদককে জানান, মিয়ানমার থেকে নতুন করে কোনো অনুপ্রবেশকারী যাতে টেকনাফ ও উখিয়ার দুটি রোহিঙ্গা শিবিরে ঢুকতে না পারে, সেজন্য শিবিরের পুলিশ ও আনসারদের সতর্কাবস্থায় রাখা
সূত্র:http://www.dailynayadiganta.com/details/51960
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×