somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘মৌমাছির গুঞ্জনে’ অতিষ্ঠ বিশ্বের টিভি দর্শক

১৬ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টেলিভিশনে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার সম্প্রচার গোটা বিশ্বের অগণিত মানুষের কাছে এবার ভীষণ অপরিচিত ঠেকছে। প্রতিবছর খেলার মাঠে অন্যতম আকর্ষণ থাকে গ্যালারি থেকে ভেসে আসা দর্শকদের সমস্বরে গাওয়া গান। টিভির ভলিউম সবটুকু বাড়িয়ে না দিয়ে খেলা দেখে অনেকে মজা পান না। কিন্তু এবার টিভির সাউন্ড অফ করে কিংবা অনেক কমিয়ে দিয়েই খেলা দেখতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। কারণ বিশ্বকাপের বিদ্যুৎচমক উত্তেজনার মধ্যে অসীম বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে একটানা বোঁ বোঁ শব্দ। মনে হতে পারে কোটি কোটি মৌমাছির ঝাঁক কারো ওপর হামলে পড়েছে! খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হজম করতে হচ্ছে এই শব্দ। যারা আসল কাহিনী জানেন না তারা মনে করছেন তাদের ডিশ লাইনে সমস্যার কারণে এই বোঁ বোঁ শব্দ করছে। শুধু টিভি দর্শকদের কাছে নয়, মাঠে খেলা দেখতে যাওয়া সাধারণ দর্শক, সাংবাদিক, কিংবা ধারাভাষ্যকাররা সুস্থ কান নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন কি না সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে!


বিশ্বকাপের খেলায় এই বিরক্তিকর শব্দ কেন? প্রতিটি দেশের টিভি চ্যানেল নিজ নিজ জনগণের নিকট থেকে প্রশ্নবানে জর্জরিত। যারা খেলা সম্প্রচার করছেন তারাও দ্বিধান্বিত। এই উৎপাত থেকে টিভি দর্শকদের মুক্তি দেয়ার প্রথম ঘোষণা দিয়েছে বিবিসি। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই টিভি চ্যানেলটি বলেছে, দর্শকদের ‘মৌমাছি মুক্ত’ বিশ্বকাপ খেলা উপহার দেয়া হবে। বিবিসির ঘোষণার পর আরো অনেক টিভি চ্যানেল একই ঘোষণা দিয়েছে। অনেক ফুটবলারও বলেছেন এই যন্ত্রণা থেকে তারা মুক্তি পেতে চান। তবে বিষয়টি যথেষ্ট ‘স্পর্শকাতর’ বলে কেউ প্রকাশ্য বিরোধিতা করতে সাহসও পাচ্ছেন না।

জিনিসটি হচ্ছে ‘ভুভুজেলা’। এটি একটি প্লাস্টিক সিঙ্গা। কয়েক ইঞ্চি থেকে কয়েক হাত লম্বা এই সিঙ্গাটি দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্কৃতির একটি অংশ। দক্ষিণ আফ্রিকানরা ছাড়াও আরো অনেক ভিনদেশী দর্শক প্রায় ৪ ডলার মূল্যের এই সিঙ্গা কিনে স্টেডিয়ামে ঢুকছে। পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে তারা স্টেডিয়ামে উপস্থিত লোকজন এবং গোটা বিশ্বের টিভি দর্শকদের কানের পর্দা কতটা শক্ত তার পরীক্ষা নিচ্ছে! অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে স্টেডিয়াম এলাকায় কান বন্ধ করার ইয়ার প্লাগ ও তুলোর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে! এসব বিক্রি করে লাখপতি বনে যাচ্ছেন অনেকে।

ভুভুজেলা নামক এই সিঙ্গা ১৪৪ ডেসিবল পর্যন্ত শব্দ উৎপন্ন করতে পারে। বিমান আকাশে উড়ার সময় যে শব্দ হয় তার চেয়েও এই মাত্রা অনেক বেশি। প্রথম দুই একদিন পর ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করার দাবি উঠলে বিশ্বকাপের আয়োজকরা তাতে রাজি হয়; কিন্তু বিষয়টি স্পর্শকাতর মনে করে পরে তারা পিছু হটে। ইতিমধ্যে ২০ লাখের বেশি ভুভুজেলা বিক্রি হয়ে গেছে!

গতকাল বিবিসি এক বিবৃতি দিয়ে জানায়, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যদি ভুভুজেলা সিঙ্গা বিশ্বকাপের মাঠ থেকে না হটানো হয়, তবে আমরাই টিভি দর্শকদের স্বার্থে গ্যালারির সাউন্ড বন্ধ করে সম্প্রচার করব। কেবল ভাষ্যকারের এবং রেফারির বাঁশি ছাড়া আর কোনো শব্দ শোনা যাবে না’। ইতিমধ্যে বিশ্বের বহু গণমাধ্যম জরিপ চালিয়েছে, তারা ভুভুজেলা নিষিদ্ধ চান কি না। জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় শতভাগ ফুটবল অনুরাগী জানিয়েছেন, তারা এই শব্দ থেকে মুক্তি চান।

মার্কিন টিভি চ্যানেলগুলো অভিযোগে অভিযোগে জর্জরিত। দর্শকদের দাবি, খেলা দেখার সময় তারা এই বিরক্তিকর শব্দ থেকে মুক্তি চান। ইউ ফাইভ টিভি চ্যানেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যতই এটি দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্কৃতির অংশ হোক না কেন, এটি ‘দোজখের শব্দ’ ছাড়া আর কিছুই নয়, অসহ্য! তাই এটি ছেঁটে ফেলে খেলা সম্প্রচার করা হবে। ইতিমধ্যে ইউরোপ আমেরিকার বিখ্যাত ফুটবল ক্লাবগুলো ফিফার কাছে অভিযোগ জানিয়েছে এই শব্দের বিরুদ্ধে। রিয়েল মাদ্রিদ এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, এই শব্দের মধ্যে খেলোয়াড়দের মাঠে মন সংযোগে ব্যাঘাত ঘটছে, তাই ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করা হোক। ইতিমধ্যে ফ্রান্সের অধিনায়ক প্যাট্রিস এভরা বলেছেন, এই শব্দের কারণে তার দলের খেলোয়াড়রা স্টেডিয়ামে যেতে ভয় পাচ্ছেন! তারা হোটেলে বসে থাকতে চাচ্ছেন তবুও মাঠে যেতে চাইছেন না। ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখকরা বলছেন, তারাও স্টেডিয়ামে বসে লিখতে পারছেন না। খেলা শেষ হতে না হতেই দুই কান বন্ধ করে ভোঁ দৌড় দিচ্ছেন হোটেলের দিকে!

তথ্য সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×