‘হোপ ডায়মন্ড’ পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত হীরা। মোনালিসা ছবির পর ‘হোপ" ই হচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিল্পকর্ম যা সব চেয়ে বেশি মানুষ পরিদর্শন করেছে। একে বলা হয় one of the most thrilling diamond in the world. >>প্রথমে হীরাটি ছিল ভারতের এক মন্দিরে। এর ওজন প্রায় ১১২ ক্যারেট। আকারে বেশ বড়, উজ্জ্বল। পুরোহিতরা এটাকে পাহারা দিতেন। কড়া পাহারা উপেক্ষা করে ১৬০৮ সালে এক ফরাসী পর্যটক "Jean-Baptiste Tavernier" এটাকে চুরি করে পালিয়ে যায়।
>>১৬৬৮ সালে ফ্রান্সের সম্রাট চতুর্দশ লুই এটা কেনেন। তখন ফ্রান্সের রাজ মুকুটে এটা ব্যাবহার করা হত। যে পর্যটক হীরাটা চুরি করেন তার জীবনে নেমে এল অভিশাপ। পার্বত্য পথে অকারনেই কিছু জংলী কুকুর তাকে ছিঁড়ে ফেলে। সম্রাট লুই তার বান্ধবী মার্কুউস কে এটি উপহার দেন। হীরাটা পাওয়ার পর থেকে-ই- শুরু হয় বিড়ম্বনা। সেই রাতেই কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটে।
>>এরপর রাজা ষোড়শ রাণী আতয়ানেতকে দিয়েছিলেন হীরাটা। ইতিহাস বলে রাণীকে শেষে গিলেতিনে নিয়ে হত্যা করা হয়।
>>এর ত্রিশ বছর পর হল্যান্ডে এক রত্ন ব্যবসায়ীর কাছে দেখা গেল হীরাটি। কয়েক বছরের মধ্যে ব্যবসায়ী সর্বসান্ত হয়ে যান নিজ ছেলের জন্য। সেই ছেলেটি হোপ ডায়মন্ড চুরি করে তুলে দেয় এক ফরাসী ব্যবসায়ী বেউলুর কাছে। ছেলেটি কয়েকদিন পরই আত্মহত্যা করে।
বেউলুর ও সুযোগ বুঝে বিক্রি করেন আরেক রত্ন ব্যবসায়ীর (ইতালীয়) কাছে। এর একদিন বাদেই বেইউলুরের মৃত্যু হয়।
>>ঘটনাক্রমে বিখ্যাত ব্যাংকার পরিবার ‘হোশের’ কাছে হীরাটি যায়। স্বভাবমতে হীরাটি বাড়ীর কর্তার জীবন নিয়ে যায়। পরিবারে কলহ সৃষ্টি হয়। ছেলেরা বিভিন্ন আজগুবি কিছুর কারনে বাড়ী থেকে পালাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বাড়ীর সদস্যরা এটা তুরস্কের সুলতান হামিদের কাছে বিক্রি করেন।
আব্দুল হামিদ গুপ্ত ঘাতকের কাছে নিহত হন। ১৮০,০০০ pound দিয়ে বিত্তশালী হাবিবুর কেনেন হীরাটি। তারও রহস্যজনক মৃত্যু হয়।
মহামূল্যবান হীরা হোপ ডায়মন্ড এর ভিতরে লুকিয়ে আছে রহস্য।
এটি যার কাছে গিয়েছে তার জীবনই বিষিয়ে তুলেছে এমনকি এই বস্তুটি তার মালিককে পৃথিবী ছাড়তে বাধ্য করেছে। ‘হোপ ডায়মন্ড’ এর কেন অভিশপ্ত সে রহস্যের দ্বার এখনো উন্মোচিত হয়নি ।
>>১১২ ক্যারেট এর হোপ বিভিন্ন দেশ-মহাদেশ-ব্যক্তির হাত ঘুরে ৪৫ দশমিক ৫২ ক্যারেট এ এসে থামল। বর্তমানে এটি ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ান জাদুঘরে রয়েছে । ১৯৪৯ সালে প্রসিদ্ধ অলংকার প্রতিষ্ঠান হ্যারি উইনস্টন জুয়েলার্স হীরাটি ওই জাদুঘরে দান করে। ১৯৬৫ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে অতি বেগুনী রশ্মির উত্তপ্ত কয়লার মত লাল রঙ এর রশ্মি বিকিরন করেছিলেন। যা অন্য কোন হীরার বেলায় ঘটেনি।
এ ব্যাপারে মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান স্যাম্পার বলেন, ‘হোপ হচ্ছে বিশ্বের জন্য একটি উপহার। আমরা জাদুঘরে এই হীরার আগমনের ৫০তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করেছি (২০০৯)। ৫০ বছর আগে প্রসিদ্ধ অলংকার প্রতিষ্ঠান হ্যারি উইনস্টন জুয়েলার্স হীরাটি ওই জাদুঘরে দান করে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


