somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডাউন সিনড্রোম – নির্বোধ নয়, শুধু অন্যরকম

১১ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জন্মগত একটি ত্রুটির কারণে ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্ম নেয় শিশু৷ ১৮৬৬ সালে ব্রিটিশ নিউরোলজিস্ট জন ল্যাংডন ডাউন সর্বপ্রথম এই বিষয়টি বর্ণনা করেন৷ তাই তাঁর নামানুসারে এই লক্ষণের নাম দেওয়া হয়েছে ডাউন সিনড্রোম৷

বাড়তি ক্রোমোজম
সাধারণত ভ্রুণকোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজম থাকে – একটি বাবার আর আরেকটি মায়ের কাছ থেকে আসে৷ ডাউন সিনড্রোম হলে আর একটি বাড়তি ক্রোমোজম ২১ নম্বর ক্রোমোজমের জায়গায় ঢুকে পড়ে৷ যাকে ‘ট্রাইসোমি ২১' বলা হয়৷ ৯৫ শতাংশ ডাউন সিনড্রোমই এই কারণে হয়ে থাকে বলে গবেষকরা মনে করেন৷
বাংলাদেশে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও মাঝে মাঝে ডাউন সিনড্রোমের শিশু দেখা যায়৷ সাধারণত চাপা মুখ, চিবুক, ঘাড় ও চোখ ছোট হয় এই শিশুদের৷ এই সব বাচ্চার হৃদযন্ত্রের অসুখ, শ্রবণ ও শ্বাসের সমস্যা থাকতে পারে৷ দুর্বল হয় মাংসপেশি৷ এসব কারণে অন্যদের তুলনায় এরা দেরিতে বসে, হামাগুড়ি দেয় ও হাঁটে৷ কথাও বলে দেরিতে৷ সব মিলিয়ে স্বাভাবিক বিকাশে সমস্যা দেখা দেয়৷

ডাউন সিনড্রোমের শিশুদের সাধারণত চাপা মুখ, চিবুক, ঘাড় ও চোখ ছোট হয়।
আলট্রাসাউন্ড করে কিংবা রক্ত ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, গর্ভস্থ শিশুর ডাউন সিনড্রোম রয়েছে কিনা৷ সাধারণত মায়ের বয়স বেশি হলে শিশুর ডাউন সিনড্রোমের সম্ভাবনা থাকে৷
ডাউন সিনড্রম নিরাময় হয় না৷ তবে প্রাথমিক চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে শারীরিক সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা যায়৷ পুষ্টিকর খাবার, স্পিচ ও ল্যাংগুয়েজ থেরাপি এবং ফিজিক্যাল থেরাপি দিলে ভুক্তভোগী শিশুরা বড় হয়ে অনেকটা স্বনির্ভর জীবন কাটাতে পারে৷

জার্মানিতে ডাউন সিনড্রোম-নেটওয়ার্ক
জার্মানিতে ডাউন সিনড্রোম-নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে৷ এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা নানা রকম পরামর্শ ও সাহায্য সহযোগিতা পেয়ে থাকেন৷ এই নেটওয়ার্কের প্রধান কোলনের হাইনৎস ইওয়াখিম শ্মিটৎস৷ তিনি জানান, ‘‘ডাউন সিনড্রমযুক্ত কাউকে দেখলে লোকজন প্রথমে একটু ভয় পায়৷ দুই পা পিছিয়ে যায়৷

সাধারণত মায়ের বয়স বেশি হলে শিশুর ডাউন সিনড্রোমের সম্ভাবনা থাকে
সাধারণত মায়ের বয়স বেশি হলে শিশুর ডাউন সিনড্রোমের সম্ভাবনা থাকে
তারপর এদের সাথে যোগাযোগ হলে, কথাবার্তা হলে তিন পা এগিয়ে যায়৷'' কেননা ডাউন সিনড্রমের মানুষরা হাসিখুশি প্রকৃতির হয়৷ কারো প্রতি রাগ বা বিরক্তি দেখায় না৷ এক কথায় সুখী মানুষ তারা৷ শ্মিটৎস আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘এই মানুষরা আমাদের সমাজেরই অংশ৷ তাদের সমাজের বাইরে রাখাটা ঠিত নয়৷''

ডাউন সিনড্রোমের মানুষদের নিয়ে সমীক্ষা
শিক্ষাবিদ ও নিউরো মনস্তত্ত্ববিদ আন্ড্রে সিম্পেল ডাউন সিনড্রোমযুক্ত ১০০০ মানুষকে নিয়ে একটি সমীক্ষা চালান৷ এর মাধ্যমে তিনি বের করতে চেয়েছেন, এইসব প্রতিবন্ধী শিশু কীভাবে এবং কোন কোন বিষয় সবচেয়ে ভালোভাবে শিখতে পারে৷ আন্ড্রে সিম্পেল বলেন, ‘‘এদের মনোযোগের পরিধিটা ছোট থাকে৷ এটা শুধু দুর্বলতা নয়, এক ধরনের শক্তিও৷''
বিশেষ স্কুলগুলিতে এই বিষয়টির ওপর তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না৷ অনেকটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হিসাবে তাদের সঙ্গে আচরণ করা হয়, সেই অনুসারে শিক্ষাও দেওয়া হয়৷

অন্যদিকে জার্মানিতে বেশ কিছুদিন ধরে একধরনের ‘অন্তর্ভুক্তিকরণ স্কুলের ' প্রচলন করা হয়েছে৷ যেখানে প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধকতা ছাড়া শিশুরা একসাথে পড়াশোনা করে৷ এরফলে দুই তরফই লাভবান হয়৷ প্রতিবন্ধী শিশুদের সাহায্য করতে পেরে অন্য শিশুরাও খুশি হয়৷
ডাউন সিনড্রম নিরাময় হয় না৷ তবে প্রাথমিক চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে শারীরিক সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা যায়৷
ডাউন সিনড্রম নিরাময় হয় না৷ তবে প্রাথমিক চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে শারীরিক সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা যায়৷

জার্মানিতে কমে আসছে
লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ট্রাইসোমি ২১ নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা জার্মানিতে কমে যাচ্ছে৷ কেননা উন্নতমানের পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় শিশুর প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে আগেই জানা যায়৷ এক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ মা-বাবাই গর্ভপাতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন৷ ২০১২ সাল থেকে ‘প্রায়েনা-টেস্ট' নামে এক ধরনের পদ্ধতি জার্মানিতে অনুমোদন পেয়েছে৷ এই পদ্ধতিতে মায়ের রক্তপরীক্ষা করে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে বলা যায় শিশুর ডাউন সিন্ড্রোম রয়েছে কিনা৷ নৈতিক দিক দিয়ে বিষয়টি বিতর্কিত৷
হাইনৎস ইওয়াখিম শ্মিটৎস এই পদ্ধতিকে অনুমোদন দেওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আমি মনে করি এই পদ্ধতি মোটেও ভালো নয়৷ কেননা এতে ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্ম নেওয়া মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যাবে৷''
ডাউন সিনড্রোম কোনো অসুস্থতা নয়৷ এই লক্ষণ নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুরা নির্বোধও নয়৷ কিছুটা ভিন্ন রকম৷ বিষয়টি বুঝতে পারলে তাদের কাছে এগিয়ে যাওয়াও সহজ হবে৷
(Collected)
সৌজন্যে- আইডিয়াল ফিজিওথেরাপি এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার
৯৭/১/এ, শুক্রাবাদ (মেট্রো শপিং মলের বিপরীতে), ঢাকা।
যোগাযোগ- ০১৭৯৬-৫৮৯০১০

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১১:৪০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×