somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

কফি কথা.....

১০ ই মার্চ, ২০২১ সকাল ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
কফি কথা....


'ডালগোনা' কফি খাচ্ছি(আমরা পান করাকেও খাওয়া বলি) এক সপ্তাহ যাবত। খেতে তেমন একটা ভালো লাগেনি তবে কফি মেকিংটা ভালোই রপ্ত করেছি। আমি চূড়ান্ত কফিভক্ত হলেও গত দুই বছর যাবত কফি খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করছি। আগে দিনে অন্ততঃ চার মাগ কফি ভর্তি না হলে চলত না কিন্তু এখন ছোট কাপে সর্বোচ্চ দুইবার। কফি খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি সত্য কিন্তু কফির স্বাদ নিয়ে অল্পবিস্তর কৌতুহল এখনো আছে। পানীয় গত বছরের সব থেকে চমকপ্রদ সংযোজন ডালগোনা কফি। এর অনেক আগে থেকে পৃথিবীজুড়ে যে কত্তো রকম কফি আছে, দেখতে বসলে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যেতে হয়। আসুন আমার জানা কয়েকটি কফির সংক্ষিপ্ত পরিচয় শেয়ার করিঃ

(১) এসপ্রেসো (Espresso): কফির একেবারে আদিম, অথেনটিক স্বাদ পেতে গেলে এসপ্রেসো। নির্দিষ্ট পরিমাণ কাপে গুঁড়ো কফি আর ফুটন্ত পানি, ব্যস। শুনতে সোজা কিন্তু ঐ অনুপাত ঠিক রাখা অতি এক্সপার্টের কাজ।

(২) রিসত্রেত্তো (Ristretto): এসপ্রেসোর একই পরিমাণ কফি কিন্তু এসপ্রেসোর অর্ধেক পরিমাণ পানি। খেতে একেবারে তেতো। বহুদিনের কফিখোর না হলে এর ঝাঁঝ সহ্য করা যাবে না।

(৩) অ্যামেরিকানো (Americano): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যামেরিকান সৈন্যদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়। দুটো এসপ্রেসো শট এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ গরম পানি।

(৪) ডোপিও (Doppio): ইংল্যান্ডে আবার এসপ্রেসোকে একটা শটে খাওয়া হয়না। দুটো এসপ্রেসো শটকে ওরা স্ট্যান্ডার্ড এসপ্রেসো বলে। তাই এর নাম ডোপিও বা ডাবল এসপ্রেসো শট।

(৫) ক্যাপুচিনো (Cappuccino): সবাই শুনেছেন এর নাম। তিনটে স্তর থাকে এর। একদম নীচে একটা এসপ্রেসো শট, তার ওপরে ফুটন্ত দুধ, একদম ওপরে দুধের ফেনার একটা স্তর তৈরি করা হয়।

(৬) লাটে (Latte): একটা এসপ্রেসো শট এর নির্দিষ্ট পরিমাণ ফুটন্ত দুধ, তার সাথে ফেনা মেশানো হয়। পুরো কফিটাই সমান ঘন হয়, ক্যাপুচিনোর মতো লেয়ার থাকে না।

(৭) ফ্ল্যাট হোয়াইট (Flat White): নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় বেশি প্রচলন। অনেকটা দুধ এবং একটা এসপ্রেসো শট মিশিয়ে তৈরি। কোনো ফেনা থাকে না। দুধটা ঘন হয়, কিন্তু ফেনা থাকলে হবে না।

(৮) লং ব্ল্যাক (Long Black): গরম পানিতে তিনটে এসপ্রেসো শট।

(৯) মাক্কিয়াতো (Macchiato): এর একটা অন্য নাম আছে, পিক্কোলো লাটে (Piccolo latte)। একটাই এসপ্রেসো শট, তার ওপর দুধের ফেনার একটা স্তর তৈরি করা হয়। দুধ নয়, শুধু তার ফেনা।

(১০) মোক্যাক্সিনো (Mochaccino): এটা একটা লাটে। মানে কম্পোজিশন পুরো লাটের মতো। শুধু এর ওপরে গার্নিশিংটা দারুণ হয়। ক্রাস করা চকলেট, সিরাপ, হুইপড ক্রিম এসব দিয়ে সাজানো হয়।

(১১) ফিল্টার কফি (Filter coffee): কফি বিনস গুঁড়ো করে হয় গরম নয়তো ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয় বেশ কিছুক্ষণ। তারপর সেটা বিশেষ ফিল্টার দিয়ে ছেঁকে খেতে হয়। স্বাদ? এসপ্রেসোর চেয়েও কষা, তেতো!

(১৩) আইরিশ কফি (Irish coffee): কফির সাথে আইরিশ হুইস্কি, চিনি, ঘন ক্রিম মিশিয়ে তৈরি। নিউজিল্যান্ডে খুব পাওয়া যায়। তবে হ্যাঁ, যা তা হুইস্কি বা স্কচ মিশিয়ে দিলে মোটেই হবে না। ঐ আইরিশ হুইস্কিই লাগবে।

(১৪) ভিয়েনা (Vienna): দুটো এসপ্রেসো শট, আর তার ওপরে চিনি মেশানো হুইপড ক্রিম।

(১৫) অ্যাফোগ্যাতো (Affogato): এটা ঠিক কফি নয়। একটা এসপ্রেসো শট আইসক্রিমের ওপরে ঢেলে দেওয়া হয়।

(১৬) ক্যাফে ব্রিভ (Caffè Breve): একটা বেশ বড়োসড়ো কফিমাগের এক চতুর্থাংশ এসপ্রেসো, এক চতুর্থাংশ দুধ, অর্ধেক দুধের ফেনা দিয়ে তৈরি।

(১৭) করট্যাডো (Cortado): সমপরিমাণ এসপ্রেসো আর দুধ মেশাতে হয়। একবিন্দুও ফেনা নৈব নৈব চ। সার্ভ করা হয় অদ্ভুত দেখতে কাঁচের গ্লাসে যার হাতলে আর তলায় ধাতুর কারুকাজ করা থাকে। খেতে হলে যেতে হবে হয় স্পেন নয়তো পর্তুগাল।

(১৮) কোল্ড ব্রু কফি (Cold brew coffee): কফি বিনসের গুঁড়ো বরফশীতল পানিতে ভিজিয়ে ফ্রিজে রাখতে হবে সারারাত। সকালে উঠে ছেঁকে খেতে হবে।

(১৯) নাইট্রো কফি (Nitro Coffee): এর মধ্যে নাইট্রোজেন গ্যাস চালনা করা হয়, তাতে নাকি কফি ঘন হয়। আর তারপর হাল্কা বিয়ার মেশানো হয়।

(২০) কাসকারা (Cascara coffee): এটা ঠিক কফিও না, চা-ও না। কফির চা বলা যেতে পারে!! কফি গাছের পাতা গরম পানিতে ভিজিয়ে ছেঁকে খাওয়া হয়।

(২১) কোপি লুওয়াক (Kopi Luwak): এশিয়ান পাম সিভেট, একধরনের বেড়াল জাতীয় প্রাণী, তারা প্রথমে কফিগাছের কাঁচা ফলটা খায়। তারপর যখন মলত্যাগ করে তখন ওর মধ্যে ফলের বীজটাও থাকে। সেই বীজ সংগ্রহ করে শুকিয়ে কফি বানানো হয়। সত্যি বলছি!! বিশ্বাস না হলে গুগলকে জিজ্ঞেস করুন। এই কফির এক কাপের দাম শুনলে মাথা ঘুরে যাবে আপনার!!

(২২) ইন্সট্যান্ট (Instant): এইবার এল গিয়ে আমার মতো পাবলিকের কফি। মানে বকে যাচ্ছি দেশ বিদেশের কফি নিয়ে কিন্তু নেসক্যাফেই ভরসা করি পয়সার অভাবে। এতোক্ষণ যত কফি বলেছি, সব কফি বিনস খুব সুন্দর করে গ্রাউন্ড করা গুঁড়ো। এটা হল একেবারে প্রিপেয়ার্ড, প্যাকেজড কফি। পানি ঢালো, দুধ ঢালো, যত ইচ্ছে, যা ইচ্ছে... কোনো মাপামাপি নেই। সৌখিন কফি নেশাড়ুরা একে ভারি তুচ্ছ জ্ঞান করেন। ইন্সট্যান্ট কফি আবার কফি!!



(২৩) শীতের দেশে এক কাপ কফি ছাড়া কারোরই দিন শুরু হয় না। অন্যান্য দেশে যেমন টি-ব্রেক হয় কাজের মাঝে, নর্থ আমেরিকায় কফি ব্রেক। কানাডার কফি মানেই টিম হর্টনস (Tim Hortons). অন্য কফি সপ গুলো এর কাছেও আসতে পারবে না জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে। কানাডা, আমেরিকা, লন্ডনের পরে ওদের ব্রাঞ্চ আছে দুবাই আর আবুধাবি। আমি এদের ফ্রেঞ্চ ভ্যানিলা কিনি মাঝেমধ্যে। এরাবিকা কফির বীন রোস্ট করার সময় ভ্যানিলা ফ্লেভার দেওয়া হয়। ক্রিমি কফি + দুধ + চিনি।
কানাডায় একটা কফির আলাদা একটা নাম আছে, তা হলো "ডাবল ডাবল"। এটা শুধু কানাডায় শুনবেন আর শুধু টিম হর্টনস এ। "আমাকে একটা ডাবল ডাবল দাও"- এটা হলো কফি + ডাবল ক্রিম + ডাবল সুগার!!

আরবরা একটা কফি খায় চিনি আর দুধ ছাড়া। তিতা জেহের। ওরা বলে কাহওয়া। ঘন আর তার জন্য ছোট ছোট খেলনা কাপের মতো কাপ, দুই / তিন ইঞ্চি লম্বা কাপ। ওটা খেলে সাথে সাথে শরীরে একটা বিদ্যুৎ খেলে যায়।

(২৪) আমার মনে হয় নাম, স্বাদ, মেকিং ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে ভিন্নতা গুলো একেকটি কফিশপের পরিচিতি, নিজস্বতা ও ইউনিকনেস ধরে রাখার প্রয়াস। আগে বিভিন্ন ধরনের কফি আর একটু বেশিই খেতাম কিন্তু এখন দিনে বড় (24oz.) এক কাপ ব্ল্যাক কফি খাই। এখন মনে হয় ব্ল্যাক কফি ছাড়া অন্য কিছুতে কফির মূল স্বাদ বা ফ্লেবারটা পাওয়া যায় না। বাসায় নেসক্যাফের ইন্সট্যান্ট কফি রাখি তবে বেশিরভাগ সময় Dunkin অথাবা Starbucks এর কফি খাই!!



(২৫) ডালগোনা (Dalgona)কফি:
উপকরণ:
ফোটানো ঠান্ডা দুধ - ১ কাপ, কফি - ২ টেবিল চামচ,
গরম পানি - পরিমাণমতো, চিনি- পরিমাণ মতো, বরফ - প্রয়োজন মতো।
পদ্ধতি:
প্রথমে একটি বাটিতে পরিমাণ মতো চিনি, গরম পানি ও কফি ঢেলে নিন। এরপর মিশ্রণটি ভাল করে মেশান। ইলেকট্রিক বিটার বা হ্যান্ড বিটার দিয়ে মিশ্রনটিকে ঘন ফেনা না হওয়া পর্যন্ত ফেটাতে থাকুন।
এরপর কফি মগে প্রয়োজন মতো বরফের টুকরো নিন। তাতে পরিমাণমতো দুধ ঢেলে দিন। এরপর ফাটানো মিশ্রণটি দুধের উপর ঢেলে দিন। গার্নিশিং এর জন্য সামান্য কফি পাউডার ছড়িয়ে দিন। তৈরি আপনার স্বাদে ভরা 'ডালগোনা কফি'।

(আমি কিছু মিস করে গেলে সেটা আপনি বলে দিন)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:০২
২৪টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×