somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

"I hate politics" এবং.....

০৩ রা এপ্রিল, ২০২১ সকাল ৯:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"I hate politics" এবং.....

যে জাতির তরুণ-তরুণীর মেজরিটি অংশ পলিটিক্যাল ভিউতে লিখে—
"I hate politics"
"No interest"
তারাই এখন তাদের স্বজনরা হাসপাতালে অক্সিজেন পাচ্ছে না, ভেন্টিলেটর পাচ্ছে না, হাসপাতালে বেড পাচ্ছে না, এইসব বলে ফেসবুকে মাতম করছে...
হতভাগা!
পলিটিক্স বোঝোনি, নিজেকে নিউট্রাল প্রমাণ আঁতলামোর চেষ্টা করেছো... কেউ মরলে একটা RIP লিখে দায়িত্ব সেরেছ...
আমরা যখন মিছিলে মিটিংয়ে, কথায় লেখায় কোনো দলের হয়ে কথা বলেছি, রাস্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জনগণের হক বাকস্বাধীনতা, ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে বলেছি/লিখেছি, তখন তোমরা লুটেরাদের বিরুদ্ধে কথা না বলে "Besarkari kore dile bhalo hobe" বলে পণ্ডিতি ফলিয়েছো... ১০০ কোটির ফ্লাইওভার ১০০০ কোটি টাকায় বানিয়েছে দেখে বলো- "দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে", ৬০০ কোটি টাকার স্যাটেলাইট ২০০০ কোটি টাকায় কিনে বলছো- "আমরা মহাকাশ জয় করেছি"! হাতীর ঝিল দাঁড়িয়ে সেলফি খিচায়ে বলো- "বাংলাদেশ লন্ডন হইয়া গেছে"! শ্লা আবালের গুষ্টি আবাল!
তোমাদের পলিটিক্যাল কারেক্টনেস না থাকা, অন্যায়কে অন্যায় না বলতে পারা, নিজের অধিকার ভূলুন্ঠিত হবার সময়ে চুপ থাকা, ব্যাংকগুলা লুটপাট করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়া যাবার সময়ে না দেখার ভান করা, বিচারবহির্ভূত হত্যা সমর্থন করা, ধর্মের নামে বিভেদকে প্রকারান্তরে সমর্থন করা - এইসব পাপের ফসল আজকের এই দেশ।

ওরে মূর্খ, প্রিভিলেজড ছাড়া আর কেউ নিউট্রাল হতে পারেনা। অ্যাদ্দিন গায়ে আঁচড়টি লাগেনি, সরকারি হাসপাতালে যেতে হয়নি বলে রাজনৈতিক অস্থিরতার পার্কে আড্ডা দিয়ে, রেস্টুরেন্টে খেয়ে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে ক্যাব্লাকান্তদের 'ওয়াও!', 'অসাধারণ', মন্তব্য আর লাইক পেয়ে নিজেকে বিরাট সেলিব্রিটি ভেবে কোলাব্যাঙ এর মতো ঘোৎঘোৎ করেছো আর ফুলে পটকা মাছ হয়েছো, জনগণের দুঃসময়ে কবিতা লিখেছো ফুল- পাখি- লতা- পাতা, প্রেম ভালোবাসা নিয়ে। স্বার্থপর!
তোমাকে সৃষ্টিকর্তা মেধা দিয়েছে মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতে, দু’চার লাইন হলেও লিখতে। তুমি বলেছো- "I hate politics" তুমি বলদের মতো লিখেছো -"No interest"!

যদি কুমিরের মতো খেয়ে খেয়ে, আর আর ছাগলের মতো জাবরকাটে বয়স পার না করে রাজনীতিটা ঠিকঠাক বুঝতে পারতিস তাহলে আজ হাসপাতালের আইসিইউ বেডও পেতে, অক্সিজেনও পেতে। সকল হত্যার বিচার পেতে। এখনো সময় আছে। পড়াশোনা করো। রাজনীতি বোঝ। অর্থনীতি বোঝ। পুরুত-ইমাম-জ্যোতিষ দিয়ে দেশ চলেনা। দেশ চলে রাজনৈতিক সিস্টেমে।

ভেন্টিলেটর বা অক্সিজেন, সব ব্যবস্থাও রাজনৈতিক সিস্টেমই করে। বাস্তবটা হলো ডাক্তার তোমাকে অক্সিজেন যোগাতে পারেনা। হাসপাতালে বেড দিতে পারেনা। কেবলমাত্র রাজনীতিই এটা ইচ্ছে করলে পারে বা ইচ্ছে করেই করে না!
বুঝতে শেখো তোমার জীবন রাজনীতি আর রাজনীতিবিদদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। রাজনীতিই ঠিক করে দেয় যে তুমি সরকারি হাসপাতালেই জীবনের নিশ্চয়তা পাবে, নাকি নিশ্চয়তার স্বপ্ন দেখানো বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে, পরিবারকে অসহায় করে দিয়ে চিরঘুমে যাবার পথ প্রশস্ত করবে। তাদেরকে প্রশ্ন করো, তোমার অক্সিজেন নেই কেন? হাসপাতালের বেড নেই কেন? প্রশ্ন করো, তোমার ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে কেনো?

আজ আমার, আমাদের মাথার উপর খড়গ ঝুলছে, তাই তোমরা নিজেদের নিরাপদ ভেবে ফুরফুরে মেজাজে আছো! মনে রেখো- আমরা তোমাদেরই একজন ছিলাম...ফলাফল যা-ই হোক, ইতিহাস স্বাক্ষী- আমরা চেষ্টা করেছিলাম।
অতএব, তরুণ বন্ধুদের বলবো, প্রশ্ন তোলার সাহস কর, প্রতিবাদ করো। বলতে শেখ- "রাজা তুই ল্যাংটা"!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৫:৫২
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×